ঢাকারবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২৫ জুলাই ‘বিশ্ব ডুবে-মৃত্যু রোধ প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা জাতিসংঘের

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউইয়র্ক: পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক ঐতিহাসিক এক রেজুলেশন বুধবার (২৮ এপ্রিল) সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

প্রথম বারের মত জাতিসংঘে গৃহীত এ রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। রেজুলেশনটিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুকে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের রেজুলেশন এটাই প্রথম। নীরব এ বৈশ্বিক মহামারির বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ২০১৮ সালে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রেজুলেশনটিতে সহনেতৃত্ব দেয় আয়ারল্যান্ড আর এতে সহপৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে ৮১টি দেশ।

রেজুলেশনটি উত্থাপনের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যে একটি জাতিসংঘ রেজুলেশন গ্রহণের তাগিদ অনুভব করেছিল বাংলাদেশ; আর সে কারণেই এ প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি, আমরা যদি পানিতে ডুবে মৃত্যুহার-কে শুণ্যের কোটায় না আনতে পারি, তবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের সাফল্য অর্থাৎ এসডিজি-তিন অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণের মতো ঘটনার ৯০ ভাগ সংঘটিত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এবং এশিয়াতে এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মর্মে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বৈষম্য।’

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ‘যেহেতু পানিতে ডুবে-মৃত্যুর ঘটনাগুলি দরিদ্র পরিবারকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করছে, তাই এটি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ এসডিজি একসহ আরো কয়েকটি এসডিজি অর্জনেও ভূমিকা রাখতে পারে ‘

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে জানিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘আর যাতে কোন মূল্যবান জীবনের পানিতে ডুবে মৃত্য না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা, নারী ও শিশু, সমাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া এবং ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সসহ ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ টাক্সফোর্স ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ণে কাজ করে যাচ্ছে।’

রেজুলেশনটিতে বলা হয়েছে, ‘পানিতে ডুবে-মৃত্যুর মত প্রতিরোধযোগ্য কারণেও বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোর-কিশোরীগণ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পানিতে ডুবে-মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, জাতীয় পদক্ষেপকে উৎসাহিত করা এবং এ বিষয়ে সর্বোত্তম অনুশীলন ও সমাধানগুলো পারস্পরিক ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে ২৫ জুলাইকে ‘বিশ্ব ডুবে-মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ পরিষদ। এতে পানিতে ডুবে-মৃত্যু রোধ পদক্ষেপটির সাথে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সম্পর্কিত বৈশ্বিক কাঠামোগুলোর সংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বেশ কয়েকটির অর্জনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রেজুলেশনটির অপারেটিভ অনুচ্ছেদে পানিতে ডুবে-মৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ, জাতীয় প্রতিরোধ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি উন্নয়ন, জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন, সচেতনতা তৈরি করা, আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে সহযোগিতা করা এবং এ বিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সদস্য দেশসমূহকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর দুই লাখ ৩৫ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে। বিশ্বেও বেশ কয়েকটি দেশে পানিতে ডুবে-মৃত্যু শিশু মৃত্যু বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

খবর পিআইডির

Facebook Comments Box