ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০২৬ সালে প্রতি ১০টি মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে চারটি হবে ফাইভজি

পরম বাংলাদেশ
ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা (ডিসেম্বর ৩১): মানুষের ফাইভজি সাবস্ক্রিপশনের প্রতি বিপুল আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা অন্য যে কোন প্রজন্মের মোবাইল সংযোগ থেকে দ্রুত হচ্ছে। ২০২৬ সালে প্রতি ১০টি মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে ৪টি হবে ফাইভজি। এরিকসন মোবিলিটি রিপোর্টের সর্বশেষ সংস্করণ অনুসারে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এই প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ- যা কিনা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ, ফাইভজি কভারেজের এলাকায় থাকবে। ২০২০ এর শেষে সারা বিশ্বের মধ্যে ২২ কোটি ফাইভজি সাবস্ক্রিপশন আশা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালে বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ ফাইভজি কভারেজের আওতাভুক্ত হবে এবং ফাইভজি সাবস্ক্রিপশন ৩৫০ কোটিতে পৌঁছে যাবে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়াতে এলটিইর পরে ফাইভজি দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রযুক্তি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরো বলা হচ্ছে, এর সাবস্ক্রিপশন ৩৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে এবং মোট মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের ৩২ শতাংশে পৌঁছে যাবে।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস করা সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলে যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ৩৩ শতাংশ অনুসারে মোট মোবাইল ডেটা ট্রাফিক ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে, এটি ২০২৬ সালে ৩২ ইবিতে পৌঁছাবে, যা প্রত্যেক স্মার্ট ফোনে প্রতি মাসে ৩৩ জিবির সমতুল্য। মোবাইল ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধির পিছনে আছে বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্ল্যান সুবিধা প্রদান।

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডে লাইভ নেটওয়ার্কসহ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়াতে বাণিজ্যিকভাবে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ফাইভজি চালু হতে দেখা গেছে। ২০২১ সালে তরঙ্গ নিলাম পরিকল্পনায় বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে পরের বছরে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর বিষয় বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরিকসন বাংলাদেশের প্রধান আবদুস সালাম বলেন, ’ফাইভজি বিভিন্ন বাজারে চালু হচ্ছে এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফোরজি (এলটিই) নেটওয়ার্ক বিস্তারের গতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ এর শেষে বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ফোরজি কভারেজের আওতাভুক্ত হবে এবং ২০২৬ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বর্ধিত ধারণক্ষমতা এবং দ্রুত গতির ডেটা সরবরাহ করতে ফোরজি নেটওয়ার্কের উন্নয়ন হচ্ছে।’

এরিকসন মোবিলিটি প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হয়েছে ফাইজির সাফল্য কেবল কভারেজ এবং সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মূল্যায়ন নতুন ব্যবহারকারী এবং তাদের ব্যবহার দ্বারাও নির্ধারিত হবে, যার মধ্যে প্রথমটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফাইভজি নেটওয়ার্কে ক্রিটিকাল আইওটি চালু করা হবে এবং সাথে ক্লাউড গেমিং অ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরিও চালু হবে।

এরিকসন কনজ্যুমারল্যাবের নতুন ফাইভজি কনজ্যুমার পোটেনশিয়াল প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ফাইভজি কনজ্যুমার মার্কেটের মূল্য ৩১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে যোগাযোগ সেবাদানকারীরা (সিএসপি) আয় করবে মোট ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজিটাল সেবায় নতুন সুযোগ বৃদ্ধির সাথে এই আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই রিপোর্টে ধারণা করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ফাইভজি সক্রিয় গ্রাহক রাজস্ব খাতে সিএসপিরা ২৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করতে পারবে। ফাইভজি ব্রডব্যান্ড সার্ভিস মার্কেট ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। আরও ধারণা করা হচ্ছে যে, সামগ্রিক সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে ফাইভজি ডিজিটাল সেবার ৭৯ শতাংশের রাজস্ব ২০৩০ সালের মধ্যে হবে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফাইভজি ডিজিটাল সেবার মধ্যে ভিডিও, মিউজিক, গেমিং, বর্ধিত/ভার্চুয়াল বাস্তবতা এবং ভোক্তা আইওটি সেবা অন্তর্ভুক্ত।

Facebook Comments Box