শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

১৯টি ওষুধি উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিংয়ে চবির গবেষক দলের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ১৯টি ভেষজ উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করে প্রত্যেকটি নমুনার তিনটি জিনের সিকোয়েন্স উন্মোচিত করে ডিএনএ বারকোডিং সম্পন্ন করেছেন। ডিএনএ বারকোডিং হল একটি নির্দিষ্ট জিন থেকে ডিএনএ এর একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করে প্রজাতি সনাক্তকরণ পদ্ধতি। চবির গবেষণা ও প্রকাশনা দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় ১৯টি উদ্ভিদের অধিকাংশেরই প্রথম বারের মতো বারকোডিং করা হয়েছে।

এ গবেষণা কর্মটি চবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইথনোবোটানী ও ফার্মাকোগনসি ল্যাব এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মলিকুলার বায়োলজি ল্যাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খালিদ মুশ্বান ও মো. শহিদুল হাসান শাকিল। সিভাসুর অধ্যাপক ড. এএমএএম জুনায়েদ সিদ্দিকী পুরো কর্মযজ্ঞ জুড়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি পরম বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভেজাল চিহ্নিত করার জন্য এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এ পদ্ধতিতে নির্ভুলভাবে ভেষজ উদ্ভিদ চিহ্নিত করা যাবে। যেমন- কেউ যদি আপনাকে হরিতকি বা আমলকি দেয়, এটা আসল কিনা তা বারকোডিংয়ের সাহায্যে জানা যাবে।’

এ গবেষণার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিং করে একটি ডাটাবেইজ তৈরি করা; যা উদ্ভিদের সনাক্তকরণ, পৃথকীকরণ এবং শ্রেনীবিন্যাস করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বিপন্ন উদ্ভিদের তথ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে তাদের আধিক্য বাড়ানো ও সংরক্ষণে সাহায্য করবে।

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাক্ষেত্রে ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্ব ও চাহিদা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। ভেষজ উপাদানের ভেজালীকরণ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি বিশাল সমস্যা। গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভেষজ উদ্ভিদ তথা যে কোন উদ্ভিদের সনাক্তকরণ বেশ সময় সাপেক্ষ ও জটিল ব্যাপার। এক্ষেত্রে একটি উদ্ভিদ সনাক্তকরণে গবেষকের দক্ষতা, প্রশিক্ষিত জনবল, উদ্ভিদের ফুল/ফল ধারণের সময় ইত্যাদি অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করতে হয়।

অন্য দিকে, ভেষজ উদ্ভিদ সাধারণতঃ প্রক্রিয়াজাত (শুকানো, গুঁড়া করা, ভাঙ্গানো, পেস্ট তৈরি ইত্যাদি) করে সরবরাহ করা হয়; যেখানে শ্রেণীবিন্যাসতত্ত্ব অনুসরণ করে উদ্ভিদের সনাক্তকরণ অসম্ভব। আণুবীক্ষণিক, রাসায়নিক ও অন্য পদ্ধতিতে ভেষজ উদ্ভিদের সনাক্তকরণ বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল; সংশ্লিষ্ট কর্মীর দক্ষতা ছাড়া ভুল হওয়ার সম্ভবনা বেশী। এসব সমস্যার সমাধানকল্পে ডিএনএ বারকোডিং এমন একটি ব্যবস্থা; যার মাধ্যমে যে কোন স্থানে সহজে, খুবই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভেষজ উদ্ভিদ তথা যে কোন উদ্ভিদের সনাক্তকরণ সম্ভব। এ পদ্ধতিতে উদ্ভিদের যে কোন অংশ ব্যবহার করে সনাক্তকরণের মাধ্যমে সঠিক ভেষজ উদ্ভিদ চিহ্নিত করে ভেষজ উদ্ভিদের ভেজালীকরণ রোধ, মান নিশ্চিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। সর্বোপরি ডিএনএ বারকোডিং ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদের প্রমাণীকরণ ও সম্পত্তি অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।

বারকোডিংয়ের জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ নমুনা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত হাজারিখিল অভয়ারণ্য, চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ১৯ টি উদ্ভিদের অধিকাংশই এন্ডেমিক প্রজাতির এবং ইতোপূর্বে বাংলাদেশ থেকে এদের কোন বারকোডিং করা হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরী অব মেডিসিনের ডাটাবেজ থেকে ক্রসচেকের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বারকোডকৃত ১৯টি উদ্ভিদ প্রজাতি হল- শিলছড়ি, মরিচ্যা, জলজি, অংকিলতা, গন্ধবিকচু, লৌহা কাঠ, কেশরদাম, হরিনা লতা, হাড়জোড়া লতা, খাড়া গাইত, হুর উদাল, নাইন্ন্যা বিচি, সুখ মুরালী, পাপরা, সিভিট, ঢেওয়া, ললনা, মেলা মরিচ্যা এবং বন বেলী।

এদের প্রত্যেকটির ওষুধি গুণাগুণ রয়েছে। ১৯টি উদ্ভিদ প্রজাতির তিনটি জিনের ৪১টি সিকোয়েন্স ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরী অব মেডিসিনের ডাটাবেজের জিনব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। জমাকৃত অধিকাংশ সিকোয়েন্স ইতোমধ্যে সংরক্ষণের জন্য গৃহীত হয়েছে।

দি ইন্টারন্যাশনাল বারকোড অফ লাইফ এসোসিয়েশনের মতে বিশ্বে ১০-১০০ মিলিয়ন প্রজাতি আছে। কিন্তু শুধুমাত্র বাহ্যিক ও অন্য বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে দুই মিলিয়নেরও কম প্রজাতি সনাক্ত ও এদের সম্পর্কে জানা গেছে। এত বিশাল প্রজাতি সনাক্ত করার জন্য দক্ষ জীববিজ্ঞানীর যেমন অভাব রয়েছে তেমনি সমগোত্রীয় উদ্ভিদগুলোর শুধুমাত্র বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে সঠিক সনাক্তকরণ নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশে পাঁচ হাজারের অধিক ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে এবং এদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ওষুধী উদ্ভিদ আছে; যা চবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ইথনোবোটানী ও ফার্মাকোগনসি ল্যাব থেকে প্রকাশিত দুটি ডাটাবেইসে সংরক্ষিত আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯টি ওষুধি উদ্ভিদ দিয়ে এ গবেষণার সূচনা হলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে পর্যায়ক্রমে দেড় হাজার উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিং করার জন্য গবেষকবৃন্দ প্রস্তুত আছেন।

গবেষকদের উন্মোচনকৃত ১৯টি ওষুধি গাছের ডিএনএ বারকোড ভবিষ্যতে এ খাতের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো বেশি গবেষণায় অনুপ্রাণিত করবে, যা ভবিষ্যতে বারকোড ডাটাবেজ এবং ওষুধি উদ্ভিদ সনাক্ত করার জন্য ডিএনএ বারকোড স্ক্যানার নামে মোবাইল এপস তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে গবেষকবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ