বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

হ্যান্ডেলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত; ১৬ কোটি টাকা উৎসাহ বোনাস পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ১০৭ Time View

চট্টগ্রাম: ২০২০-২০২১ সালে মালামাল উঠানামায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা উৎসাহ বোনাস পাচ্ছেন চট্টগ্রম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উৎসাহ বোনাস দেয়া হবে মূল বেতনের সমপরিমাণ। আগামী ১৪ জুলাই এ বোনাস পরিশোধের ব্যবস্থা করবে চবকের অর্থ ও হিসাব বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছেন চবকের পরিচালক (প্রশাসন)।

এ দিকে, ঈদ উল আযহার মত একটি বড় ধর্মীয় উৎসবের আগে এ উৎসাহ বোনাসের ঘোষণা দেয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, চবকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস স্কীমের ১৯৮৯ (সংশোধিত) আওতায় ২০২০-২০২১ সালে মালামাল উঠানামার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বিধায় বোনাস স্কীমের ৪(১) ও ৮(১) ধারা মোতাবেক ৪৫ দিনের উৎসাহ বোনাস দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগণকে উৎসাহ বোন স্কীমের সাত নম্বর ধারার শর্তাদি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আট শর্তে চবকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ উৎসাহ বোনাস পাবেন। শর্তগুলো হল- ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে ওই বোনাস প্রদেয় হবে; সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগণ উৎসাহ বোনাস স্কীমের ৭ ধারা শর্তাদি যথাযথভাবে পালন সাপেক্ষে ওই বোনাস দেয়ার ব্যবস্থা নেবেন; বোনাস বছরে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরি প্রবিধানমালা ৯১ এর আওতায় কোন গুরুদন্ড অথবা তিন বারের অধিক লঘু দন্ড ভোগ করে থাকলে ওই বছরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী কোন বোনাস পাবেন না; চবকের স্বার্থে পরিপন্থী কোন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ বা বন্দরের অর্থ/সম্পদ চুরি, পাচার বা আত্মসাতের অভিযোগে কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী গ্রেফতার হলে বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলে বা চাকুরিচ্যুত হলে বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এবং চবক কর্তৃক চাকুরিতে পুন: বহাল না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী বোনাস পাওয়ার অধিকারী বলে বিবেচিত হবে না; অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্মারক মোতাবেক কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী কোন বোনাস বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষে যত দিন দায়িত্ব পালন করবেন, তিনি তত দিন আনুপাতিক হারে বোনাস প্রাপ্য বলে বিবেচিত হবেন; বোনাস বছরের মধ্যে কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী চাকুরি হতে অবসর নিলে, মারা গেলে, ইস্তফা দিলে বা পদ/সংস্থা বিলুপ্তির কারণে চাকুরি হারালে বা উদ্বৃত্ত হলে, ইনসেনটিভ বোনাস স্কীমের সংশোধিত ধারা ৭(৩) যথাযথ অনুসরণ করে স্কীমের ধারা ৭(৪) এর বিধান মোতাবেক ইনসেনটিভ বোনাস লাভের জন্য উপযুক্ত বলে গণ্য হবেন; বিদ্যমান শ্রম আইন লঙ্ঘনপূর্বক বে-আইনীভাবে বন্দরের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির অবৈধ তৎপরতায় লিপ্ত বা অনুরূপ তৎপরতায় প্ররোচনা দেয়ার সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদেয় বোনাস বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং অবৈধ কর্মবিরতি/ধর্মঘট ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীর বোনাস হতে যেমন বিবেচনা করবেন, তেমন অর্থ কাটার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং বন্দরে কর্মরত সব স্থায়ী/অস্থায়ী/ওয়ার্ক চার্জস্থ কর্মকর্তা/কর্মচারীরা ওই ইনসেনটিভ বোনাসের আওতাভুক্ত হবেন, কিন্তু দৈনিক ও সাময়িক প্রয়োজনে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা ওই ইনসেনটিভ বোনাসের আওতাভুক্ত হবেন না।

ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘উৎসব বোনাসের বিল ও পে অর্ডার আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ ও হিসাব বিভাগে পাঠানো হলে অর্থ ও হিসাব বিভাগ কর্তৃক আগামী ১৪ জুলাই পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন।’

চবকের অর্থ ও হিসাব বিভাগ বলছে, ‘একটি স্কীমের আওতায় অর্থ বছর শুরুর আগে একটা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। নীতিমালা অনুসারে যদি মালামাল উঠানামায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তাহলে উৎসাহ বোনাস দেয়া হয়। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মালামাল উঠানামায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, তাই দেড় মাসের বোনাস দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত আছে। প্রতি মাসে বেতন বাবদ চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় হয় প্রায় দশ থেকে সাড়ে দশ কোটি টাকা। সে হিসেবে এবারের দেড় মাসের উৎসাহ বোনাসের পরিমাণ হবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।’

ঈদের আগে এমন একটা উৎসাহ বোনাসের ঘোষণা দেয়ায় চবকের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক নেতা মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক। পরম বাংলাদেশ.কমকে তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে প্রতি বছর সাধারণত ২০ জুলাইয়ের পর এ উৎসাহ বোনাসটা আমরা পাই। এ বার ঈদের আগে বোনাসটি পাচ্ছি বিধায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদটা ভালভাবে উদযাপন করতে পারবে। কর্মচারীদের কথা চিন্তা করে সময়ের আগেই বোনাস ঘোষণা দেয়ায় চবকের চেয়ারম্যান মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, মালামাল উঠানামা ও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারাণত বছরে ৭৫ দিনের উৎসাহ বোনাস পান। গত জানুয়ারিতে দেয়া হয়েছে ৩০ দিনের উৎসাহ বোনাস। এবার দেয়া হচ্ছে বাকি ৪৫ দিনের উৎসা বোনাস।

Share This Post

আরও পড়ুন