বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০১:১৫ অপরাহ্ন

হেফাজতের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও সমসাময়িক ভাবনা

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৫০ Time View

জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামের নতুন আমির নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে কওমী অঙ্গনে সরকার বিরোধী অংশের অবস্থান পাকাপোক্ত হল।

জুনায়েদ বাবুনগরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্তব্যরত। এছাড়া মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমি হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির আমির ও ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব।

হেফাজতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা হেফাজতের মূল নেতৃত্বে জায়গা পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও সেই রীতি ভেঙ্গে মহাসচিব নির্বাচিত হলে কাসেমী। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আহমদ শফিকে কৌশলে হত্যার অভিযোগ তোলে বিচার দাবি করে নতুন কমিটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। অচিরেই হেফাজতের আরেকটি নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে এমন আভাসও পাওয়া গেছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর আহমদ শফির পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে হাটহাজারী দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ছাত্ররা আন্দোলনে নামে। এ সময় তারা আহমদ শফির রুম ও মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়৷ ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আহমদ শফি মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ দিন রাতেই তাকে প্রথমে চমেক হাসপাতাল ও পরে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান৷

আহমদ শফি মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ছেলে আনাস মাদানীর শক্তি ক্ষয়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হেফাজত কর্মীরা আনাস মাদানীর উপর এতটাই ক্ষিপ্ত ছিল যে, তার বাবা আহমদ শফির লাশের সামনেই তাকে গণপিটুনি দেয়। এমনকি পিতার জানাজায়ও উপস্থিত থাকতে দেননি। তাদের মতে, ছেলে আনাস মাদানী পিতা আহমদ শফিকে বিভ্রান্ত করেছেন।

সরকার বিরোধী হিসেবে পরিচিত জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পিতার হাতে গড়া সংগঠন ও মাদ্রাসা থেকে আনাস মাদানী বিতাড়িত। এটি সরকারের জন্যও চিন্তার বিষয়। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কওমী অঙ্গনে সরকার বিরোধী মত প্রকট হয়ে উঠে। পরবর্তী সেই বিরোধীতা সংঘর্ষ, আহমদ শফির মৃত্যু ও নতুন আমির নির্বাচনে মোড় ঘুরে গেল।

হেফাজত কোন রাজনৈতিক দল না হলেও রাজনীতির মাঠে সংগঠনটির প্রভাব গুরত্বপূর্ণ হওয়ায় সরকার তাদের সনদ প্রদানসহ নানা কৌশলে দীর্ঘ দিন ধরে পক্ষে ভিড়িয়ে রেখেছিল৷ তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে পরিবর্তন ও কওমী অঙ্গনে সরকার বিরোধী বলয়ের শক্ত অবস্থানে আগামীতে হেফাজত নিয়ে দেশের প্রধান দুটি দলকে নতুন করে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। সংগঠনটির জনমত নিজেদের পক্ষে ভেড়াতে চেস্টাও কম করছে না। সে হিসেবের ফল কার ঘরে উঠবে তা বুঝতে হয় তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভিপি নূর ছাড়া বাকি সরকার বিরোধীদের কোনঠাসা অবস্থানের কারণে হেফাজতের সরকার বিরোধী মনোভাব কতটা কাজে আসবে তাও বলা মুশকিল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে হেফাজত সহজে যে কোন পক্ষের কাছে ভিড়বে না। কারণ ২০১৩ সাল আর ২০২০ সালের প্রেক্ষাপট আর এক নয়। সেই সময়ে ভিন্ন মতের অবস্থান কিছুটা শক্ত থাকলেও বর্তমানে তা একেবারে দূর্বল।

অন্যদিকে সরকার ২০১৩ সালের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো হেফাজতকে যতই কাছে টানার চেষ্টা করুক না কেন হেফাজতকে সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে।

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম
গণমাধ্যম কর্মী

Share This Post

আরও পড়ুন