শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ‘শিখন্ডী কথা’, আনন জামান ও নাট্যাধার

মোহাম্মদ আলী / ৩৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রামের গ্রুপ থিয়েটার নাট্যাধারের বহুল মঞ্চায়িত প্রথম প্রযোজনা, দর্শক নন্দিত, হিজড়া জনগোষ্ঠির যন্ত্রণাময় যাপিত জীবনের প্রতিচ্ছবি মঞ্চ নাটক ‘শিখন্ডী কথা’। এর নাট্যকার আনন জামান, যিনি বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

আনন জামান একজন নাট্যকার, শিক্ষক,  অভিনেতা ও গবেষক। প্রতিভাবান এই নাট্যকার ‘শিখন্ডী কথা’, ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’ এবং সর্বশেষ ‘শ্রাবণ ট্রাজেডি’ নাটক রচনার মাধ্যমে একজন বিদগ্ধ নাট্যকার হিসেবে বাংলাদেশের মঞ্চে নাটকে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন।
গত ১২ অক্টোবর ছিল তার ৪২তম জন্মদিন। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে এ নাটকটির মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাট্যাধার এর যাত্রা শুরু হয়। গত ৩০ অক্টোবর ছিল দলটির ১৫তম জন্ম বার্ষিকী।
হিজড়া সম্প্রাদায়ের মানবেতর জীবন আশ্রয়ে আনন জামান রচিত নাটকটি বাংলা নাটকের ইতিহাসে একটি অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। সারাদেশে বিভিন্ন নাট্যদল কর্তৃক নাটকটির মঞ্চায়নের মাধ্যমে হিজড়াদের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোবৃত্তির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার নাটকটির বহুল মঞ্চায়নের ফলস্বরূপ হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি, ভোটাধিকার ও বয়স্ক ভাতা প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অতিথি শিক্ষক মোস্তাফা কামাল যাত্রার নির্দেশনায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটির প্রায় ৭৬টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে নাট্যাধার এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছে।
নাটকটির রচয়িতা আনন জামান ১৯৭৮ সালের ১২ অক্টোবর সিংগাইর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের গোলাইডাংগা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জালাল উদ্দিন শিক্ষকতার পাশাপাশি ভাব-বৈঠকী গান করতেন। মা তাসলিমা জালাল গৃহিণী। প্রাইমারি পাঠে থাকাকালীন আনন জামান ছড়া, কবিতা ও লিখতেন।
‘শিখন্ডী কথা’ নাটকের প্রধান চরিত্র হলো রতন মোল্লা ওরফে রত্না হিজড়া। তাকে ঘিরেই নাটকটির কাহিনী আবর্তিত হয়। হিজল তলী নামে একটি গ্রামে মুসলিম রক্ষণশীল পরিবারে রতনের জন্ম হয়। জন্মের পর বয়স যতই বাড়তে থাকে ততই তার মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ছেলে হয়ে জন্ম নিলেও তার আচরণ ছিল মেয়েদের মত। এ কারণে তার বাবা রমজেদ মোল্লা ও পাড়া-প্রতিবেশীদের গঞ্জনার শিকার হয়ে বাড়ি ত্যাগ করে একটি হিজড়া ডেরায় আশ্রয় নেয় রতন। ডেরার গুরুমা কালি হিজড়া রতনের নতুন নাম রাখেন রত্না। এরপর থেকেই রত্নার হিজড়া জীবন শুরু হয়। এভাবেই হিজড়াদের দৈনন্দিন জীবনগাঁথা, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় নাটকটির কাহিনী এগিয়ে যায়।
নাট্যকার আনন জামান ১৯৯৫- ১৯৯৬ সেশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৬-১৯৯৭ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান তার নাট্যচর্চার একটি ব্যাকরণগত ভিত্তি পায়। ২০০৬ তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। নাটক নির্দেশনার ক্ষেত্রে তিনি নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন, নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আজাদ আবুল কালাম, ইউসুফ হাসান অর্ক এর সাহচর্য ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান পেয়েছেন।
নাট্যাধার মঞ্চায়িত ‘শিখন্ডি কথা’ নাটকে রত্না চরিত্রে এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন আবু দাইয়ান ধ্রুব, জুয়েল বৈদ্য, সজিব, এআর রহমান মুন্না। মুন্না এখনো এ চরিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন। নাটকটির দ্বিতীয় প্রধান কালি হিজড়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. বাহাউদ্দিন মিরান, উদ্দীন আল বৈশাখ, মোস্তফা কামাল যাত্রা। মিরান এখনো এ চরিত্রে অপ্রতিদ্বন্ধী। গুরুত্বপূর্ণ তথা নায়ক নিতাই চরিত্রে রূপায়ন করেছেন জামাল হোসাইন মঞ্জু, ভাস্কর চৌধুরী, শাখাওয়াত শিবলী। এছাড়া আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহাত কবির, হারুন বাবু, আসিফ উদ্দিন শুভ, খন্দকার মর্তুজা আলী, ইকন বাবু, তমাল, বন্যা, নাদিরা সুুলতানা হেলেন, ইমরান রবিন, মাহবুব মাহিন, প্রবীর পাল, রানা, সবুজ, শিপন, মানিক, পুষ্প, সোহেল, আইরিণ মেহজাবিন, সাদিয়া আহমেদ তিনা, অলচেন দাশ, জিতেন ভাস্কর, মিজানুল হক ডন, নোমান হিমালয়, এহসান, নাজমুন নাহার সেঁজুতি, তাজুল ইসলাম, রোমানা রশিদ, আলাউদ্দিন, জমির উদ্দিন, আকলিমা আক্তার তরী, মো. কাউসার মজুমদার, জিসাদ জোহান, লিটন শেখ, ইকবাল ইবনে মালেক, জসিম উদ্দিন, আবুল হাসেম খান, মাসউদ আহমেদ, ফজলে রাব্বী, এএফএম গোলাম রাব্বানী, আশিক আরেফিন, শারমিন সুলতানা রাশা, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
এদিকে, হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার ও মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ও এই নাটকটি নিয়মিত মঞ্চায়ন করে আসছে। ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটি নিয়ে নয় জন নির্দেশকের নির্দেশিত নয়টি দলের প্রযোজনা নিয়ে জাতীয় ‘শিখন্ডী কথা নাট্য উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।
নাট্যকার আনন জামান ১৯৯০ এর আগে গোলাইডাঙ্গা জামশা অঞ্চলে সেঁজুতি নাট্যগোষ্ঠী নিয়মিত যাত্রা পালা অভিনয় করতো। আনন জামান অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন কিশোর সেঁজুতি নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে যাত্রা পালার আদলে তার রচিত ‘রুদ্রলীলা’ মঞ্চায়ন করেন। এ দলের ব্যানারে ‘স্বার্থের খেলা’, ‘সমাজের আর্তনাদ,’ ‘বসন্তের নীল, নক্ষত্র যাত্রা নাটকগুলো মঞ্চে আনেন। তিনি ১৯৯৪ সালে হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৮ সালে সাভারে প্রতিষ্ঠা করেন বুনন থিয়েটার। ২০০১ সালে দলীয় নাট্যকার হিসাবে যুক্ত হন মহাকাল নাট্য সম্প্রাদায়ের সাথে। ২০০৮ সালে সিংগাইরে প্রতিষ্ঠা করেন নিরাভরণ থিয়েটার।
নাট্যাধারের নাটকে বরাবরই সামাজিক অসঙ্গতি, বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়ন, নিষ্পেসিত মানুষের অধিকার আদায়ের কথা ফুটে উঠে। সমাজে হিজড়াদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছরই শিখন্ডী কথা নাটকটির মঞ্চায়ন করে আসছে দলটি। চট্টগ্রামের গন্ডি পেরিয়ে ফেনী ও ঢাকাসহ আরো কয়েকটি শহরের মঞ্চে নাটকটি প্রদর্শিত হয়েছে। নাট্যাধারের আমন্ত্রণে একাধিক মঞ্চায়নে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত কয়েকজন হিজড়া নাটকটির প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন।
নাট্যকার আনন জামান হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার থেকে নাটগীত ও গীতনাটের মেলার প্রচলন ও একটি মুক্ত মঞ্চ স্থাপন এবং নিরাভরণ থিয়েটার থেকে ‘জন্ম সাঁঝের সাজকাজ উৎসব’ শিরোনামে মেলার প্রচলন করেন। হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার, বুনন থিয়েটার, ‘নিরাভরণ থিয়েটার’ তিনটি দলই বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সক্রিয় সদস্য। ‘হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার’ তার জনপদ, শিখন্ডী কথা, শূন্য, সঙপালা, বিলয় গাঁথা; ‘নিরাভরণ থিয়েটার’ সুস্বর প্রতিবিম্ব, বিলয় গাঁথা, বালিকা ও স্বর্ণপশম ভেড়ার নাট্যসামন্তনথি, জুঁই মালার সইমালা ও ‘বুনন থিয়েটার’ শকশঅ, বিলয় গাঁথা, ভূতকাব্য, সিক্রেট অব হিস্ট্রি’ নাটকগুলো মঞ্চে আনে।
নাট্যাধার ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটি বর্ণনাত্বক রীতিতে পরিবেশন করে যাচ্ছে। নাটকটিতে হিজড়াদের দুঃখ কথা দেখানো হলেও দর্শকদের জন্য অনেক হাসির ও মজার দৃশ্য রয়েছে। দুই-তিনটি দৃশ্যে হিজড়াদের কণ্ঠে বাংলা ছবির পুরানো গান দর্শকদের বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। যেমন: ‘আমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেল রে মরার কোকিলে, ‘আইলো দারুন ফাগুন রে, লাগলো মনে আগুন রে’।  কালি হিজড়ার গলায় শোনা যাবে পুরাতন হিন্দী গান ‘মেরে আঙ্গে নেমে তোমারা ক্যায়া কাম হ্যায়’। এছাড়াও রয়েছে, ‘আমি ডাকি, তুমি ঘুমাইছো নাকি?’ এর মতো হৃদয় ভাঙ্গা গান। নাটকটিতে গানগুলো সংযোজন করেছেন নাট্যাধারের জ্যেষ্ঠ সদস্য জামাল হোসাইন মঞ্জু।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অস্তিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আনন জামান রচিত ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’ নাটকটি দর্শক প্রিয় মঞ্চ নাটক হিসাবে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক সমাদৃত হয়। ২০০২ সালে মহাকাল নাট্য সম্প্রাদায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুনের নির্দেশনায় মঞ্চে আনে ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটি। ঢাকা থিয়েটার ২০১৫ এহসানুর রহমানের নির্দেশনায় মঞ্চে আনে আনন জামান রচিত নাটক ‘রাইকথকতা।’ ২০১৮ সালে ‘মহাকাল নাট্য সম্প্রাদায়’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশিক রহমানের নির্দেশনায় মঞ্চে আনে বঙ্গবন্ধু জীবন ভিত্তিক গবেষণালব্ধ মঞ্চ নাটক ‘শ্রাবণ ট্রাজেডি’।
নাট্যাধারের ‘শিখন্ডী কথা’ এর মঞ্চায়নে ছুটকি হিজড়া চরিত্রের মুত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার প্রশ্ন ছিল- সৃষ্টিকর্তা আমাকে লিঙ্গ দেয় নাই ক্যা? মাঢি কি কম পরছিল বেড়ার (সৃষ্টিকর্তা)? পরের জনমে সে আমারে মদ্দ বানায় দিব তো? এর আগে বান্ধবীর ভাইয়ের সাথে ছুটকির ভালোবাসার সম্পর্ক হয়েছিল। কিন্তু সমাজের কারণে সে ভালোবাসা পূর্ণতা পায় নি। তখন থেকেই ছুটকি মদ্যপান শুরু করে। ফলে তার অন্ত্রে ক্যান্সার হয়! ছুটকি চরিত্রে এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন হারুন বাবু। এ চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে পিন পতন নিরবতা সৃষ্টি করে। এ নাটকের একটি ট্রাজেডি চরিত্র হলো বুলারী। মেয়েলি স্বভাবের কারণে লিঙ্গ কেটে পাঞ্জাবের কিশোরী বুুলারীকে হিজড়াবুত্তি করতে বাধ্য করা হয়। বুলারী নাামটিও হিজড়া ডেরা থেকে দেওয়া হয়। পুরো নাটকে শুধু একটি দৃশ্যে সংলাপ আওড়ায় বুলারী। বুলারীর বিলাপে হিজড়া ডেরায় বিষন্নতা নামে। আর দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় নিরবতা।
‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটির নাট্যকার আনন জামান মঞ্চনাটক, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র তিনটি মাধ্যমেই দর্শক সমাদৃত হন। চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০১৩ সালে বাচসাস পদক লাভ করেন। আনন জামানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মায়ের মতো ভাবী’ এফআই মানিকের পরিচালনায় ভারত এবং বাংলাদেশে ২০০৮ সালে এক সাথে মুক্তি পায়। তার উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন নাটক ‘রাত্রি রথের উল্টেপীট, রাত্রির খামোখা খেয়াল, আশালতা ও মন্দ বাতাসের গল্প, ফুডস্টেশন নাইটিন ত্র্যাটাক, আব্বাস মিয়া ও শাদা পরীর গল্প, সীমান্তহীন পাখি।
‘শিখন্ডী কথা’ নাটকটির শততম মঞ্চায়ন করতে চান এর নির্দেশক মোস্তফা কামাল যাত্রা। এর জন্য বড় রকম আয়োজনের পরিকল্পনা নাট্যাধারের রয়েছে। দল সমন্বয়ক মাশরুজ্জামান মুকুটের সার্বিক তত্বাবধানে সেই লক্ষে এগিয়ে চলেছে নাট্যাধার।
শেষ করতে চাই, নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র রত্নার সংলাপ দিয়ে। নাটকের শেষ দৃশ্যে সৃষ্টিকর্তার মুখো-মুখী হয় রত্না! ‘হেই বেড়া (সৃষ্টিকর্তা), আইজ তুর সামনে দাঁড়াইছি! দে, আমারে পুরুষ বানায় দে। আমি পুরুষ হয়ে ছোবল মারতে চাই কোনো নারীর শরীরে। কি পারবি না তো? তাইলে আমাকে নারী বানাই দে। আমি নারী হয়ে পুরুষের হাতের মুঠোয় ভাঙ্গতে চাই! একটা মাত্র জনম আমার! না পারলাম পুরুষ হইতে, না হইলাম নারী হতে!
লেখক: সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মী
চট্টগ্রাম

add

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ‘শিখন্ডী কথা’, আনন জামান ও নাট্যাধার”

  1. শাহিনুর সরোয়ার says:

    চমতকার লিখার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ