শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ পিএইচপি অটো মোবাইলসের তৈরি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সোতোকান কারাতে স্কুল চট্টগ্রামের কারাতে বেল্ট প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চট্টগ্রামের পাহাড় অপরাজনীতি, অপেশাদার আমলাগিরির শিকার হাটহাজারী নাজিরহাট কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

হাজী শরীয়তউল্লাহ চলচ্চিত্রটি বাঙালি মুসলমানের মনে আজীবন স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকবে

নুরুন্নবী নুর / ৭৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

নুরুন্নবী নুর: ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নিভর্র চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি মূলত ধর্মীয় সংস্কারক, নীলকর ও সামন্তবাদ বিরোধী নেতা হাজী মুহম্মদ শরীয়তউল্লাহ জীবনী নিয়ে নির্মিত। হাজী মুহম্মদ শরীতয়তউল্লাহ একজন ধার্মিক, পরহেজগার লোক। ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের অন্যায় শাসন তিনি মেনে নিতে পারেননি। সে সময় জোর-জুলুম, অন্যায় শাসন ব্যবস্থা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হওয়া মুসলিম সম্প্রদায়য়ের সম্মান রক্ষা ও তাঁদের পক্ষে লড়তে লড়তে তিনি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়ে দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’।

১৩১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ একটি বাংলা ভাষার বাংলা চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- মানুষ মাত্রই স্বাধীন ও সার্বভৌম। পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষই অসাম্প্রদায়িক চিন্তায় বেড়ে উঠে। জীবনযাত্রায় যদি সাম্প্রদায়িক বাধা আসে, সে কখনো তা মেনে নিতে পারে না। জীবনের বিনিময়ে হলেও সে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে চায়। চাই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে।

‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ একটি গবেষণামূলক চলচ্চিত্র। গবেষণায় ছিলেন সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য ড. মঈন উদ্দিন আহম্মেদ। কাহিনী লিখেছেন আব্দুল হাই দুর্বার। সংলাপে কাহিকার ছাড়াও খলিলুর রহমান ও পরিচালক নিজে। শিল্প নির্দেশনায় কাজ করেছেন কলন্তর।

‘হাজী শরীয়তউল্লাহ্’ চলচ্চিত্রের সার সংক্ষেপ: ‘ইংরেজ শাসকদের অমানসিক নির্যাতন রুখতে হাজী মুহম্মদ শরীয়ত উল্লাহর অবদান অনস্বীকার্য। হাজী মুহম্মদ শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করে ইসলামী শরীয়তের নিয়ম কানুন শিখে দেশে ফিরেন। এসে দেখেন, গ্রামের মানুষ ইসলাম ধর্মের আদর্শ থেকে অনেকে দূরে সরে গিয়ে সনাতন ধর্মে দীক্ষিত হয়ে পড়ছেন। কারণ, সে সময়ে জমিদারগণ এ দেশে জন্মগ্রহণ করলেও ইংরেজ শাসকদের অধীনস্থ ছিল। এ দেশীয় জমিদারগণ ছিলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শাসক, আর ইংরেজরা দায়িত্বহীন ক্ষমতাবান শাসক। এখান থেকেই মূলত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। জমিদারগণ সনাতন ধর্মে বিশ্বাস ছিলেন বিধায়, ইসলাম ধর্মের মানুষদেরকে হিংসা ও জোর-জুলুম করত। এরা ছিল জমিদারদের পা ছাটা কুকুর শ্রেণির লোক। এসব কিছু দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার রক্ষায় ফরায়জী আন্দোলনের ডাক দেন। অর্থাৎ ফরজ থেকে ফরায়জী। ধর্মীয় যে সব ফরজ পালনের নিয়ম রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে ফরায়জী আন্দোলন শুরু করেন। হাজার হাজার মানুষ, তার ফরায়জী আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব’ অর্থাৎ ‘বিধর্মীদের দেশ’ বলে ঘোষণা করেন। শুরুর দিকে হাজী মুহম্মদ শরীয়তউল্লাহকে বুঝতে না পেরে মুসলিমরা অস্বীকার করেন। পরবর্তী আরো ধর্মীয় বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এসে বিজাতীয় ইংরেজ শাসক ও ইংরেজ শাসকদের অধীনস্থ দেশীয় দালাল জমিদারদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলেন। কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। শরীয়তউল্লাহ ১৮৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। অবশ্য তিনি শেষটা দেখে যেতে না পারলেও পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমেদ ওরফে দুদু মিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে যান। তিনি দীর্ঘ দিন ইংরেজদের সাথে বীরত্বের সাথে লড়াই করে যান। পিতার মত পণ্ডিত না হলেও তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। দুদু মিয়া ১৮৬২ সালে মৃত্যুবরণ করলে, যোগ্য নেতার অভাবে ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মত আর কোন বীর ছিল না।’

হাজী শরীয়তউল্লাহ চলচ্চিত্রটি বাঙালি মুসলমানের মনে আজীবন স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে থাকবে। মুসলমান সম্প্রদায় কখনো সাম্প্রদায়িকতাকে সমর্থন করেনি, ভবিষ্যতে করবেও না। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-ভাবনা লালন করে বিধায় আজ বিশ্বের সবচেয়ে শরণার্থী ক্যাম্প গড়ে উঠেছে ভারতবর্ষে, অবস্থিত বাংলাদেশের কক্সবাজারে। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা মুসলিমরাই আজ বেশি অবহেলিত। সারা বিশ্বে সাম্প্রদায়িকতার শিকার হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। আমাদের নির্যাতন করলেও আমরাই বেশি মানবতা দেখাচ্ছি। কারণ, মানবতা আমাদের রক্তে।

‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্র হাজী শরীয়তউল্লাহ। সেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কালজয়ী ব্যবসায় সফল চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ের জোসনা’ চলচ্চিত্রের নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার অভিনয় দক্ষতা দেখে সত্যিই অভিভূত না হয়ে পারি না। সংলাপ প্রক্ষেপণে মাঝেমাঝে আমাদের জাতির পিতার ছাপ পড়ে। সাবলীল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হাজী মুহম্মদ শরীয়তউল্লাহ চরিত্রটি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়াও হাজী শরীয়তউল্লাহর সহধর্মীনি নেয়ামত বেগম চরিত্রে ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ লীনা। তাছাড়া পার্শ্ব অভিনেতারাও দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। প্রত্যেকের অভিনয় এতোটাই বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে, যেন সত্যিকার সেই ঐতিহাসিক সময়টাতে চলে গেছি। অন্যান্য চরিত্র রুপায়ণে ছিলেন গুলশান আরা, আখতারী বেগম ডলি, আব্দুল জলিল, সিবি জামান, শামসুদ্দিন টগর, আমিনুল হক, খলিলুর রহমান, গাজী ফারুক, পীরজাদা শহীদুল হারুন, গোলাম আম্বিয়া নুরী, আবুল হোসেন আবেদ, অঞ্জলী রায়, সম আজিজ, সৈয়দ আখতার আলী, আব্দুল মতিন, আব্দুল করিম, আমিন/ মাহাফুজ, শিশু শিল্পীদের মধ্যে শানু, জাহিন, মঈন উদ্দিন, কনকসহ কাছের ও দূরের নেপথ্য শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ।

‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ চলচ্চিত্রে আযানের ব্যবহার থেকে শুরু করে ধর্মীয় নাত গাওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় আবহে গড়া চলচ্চিত্র বলা যায়। এছাড়াও সংগীত ও আবহসংগীত মিলে ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’ হয়ে উঠেছে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। বেশ কয়েকটি গান রাখা হয়েছে। তার মধ্যে দিন দুনিয়ার মিছে মায়া, বলতো কিশোরী ফাগুন এলো তোর অঙ্গে অন্যতম। চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন কিরণ চন্দ্র রায়, বদরুন্নেসা ডালিয়া ও রিংকু। নেপথ্য ধারা বর্ণানায় ছিলেন দিলওয়ার হাসান। গীত ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আলাউদ্দিন আলী।

বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত, মঈন উদ্দিন নিবেদিত, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থায় গৃহীত পরিস্ফুটিত ও মুদ্রিত এবং হাফিজ উদ্দিন প্রোডাশন প্রযোজিত ও পরিবেশিত চলচ্চিত্র ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ’। এছাড়াও চিত্রগ্রহণে ছিলেন আবু হেনা বাবলু, সম্পাদনায় মনির হোসেন মুন্নু; সর্বশেষ চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন হাফিজ উদ্দিন।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ