বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্ভোগটা কিছু বেশীই হচ্ছে এবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ৪৯ Time View
মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম: সংকট মোকাবেলায় সিটি করপোরেশন (চসিক) দিন রাত সেবা দিতে প্রস্তুত আছে মন্তব্য করে নগরবাসীকে শঙ্কিত না হয়ে মনোবল শক্ত রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

শনিবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নানামূখী সংকট ও দুর্যোগপূর্ণ সময় পার করছি। এক দিকে ক্রমাগত করোনার সংক্রমণের হার বৃদ্ধি, অন্য দিকে, নিম্নচাপ ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে, আমাদেরকে করোনার সাথে সাথে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, পাহাড় ধ্বসের মত দুর্যোগ মোকাবেলায়ও কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া, বিগত এক যুগ ধরে বর্ষা মৌসুম এলে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ও চিকন গুনিয়ার মত মারাত্মক ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। এ ব্যাপারে চসিক সব প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত ডেঙ্গুর ওরকম প্রকোপ হয়নি। তবুও সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করছে। নগরবাসীর কাছে আমাদের অনুরোধ, নিজেদের বাসা বাড়ীর ছাদ, ব্যালকরি, আঙ্গিনা ও আশপাশ নিজেরাই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে সহযোগিতা নেন।’

রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘অতি বর্ষনের ফলে ইতিমধ্যে নগরীতে পাহাড় ধ্বসের মত কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পাহাড় থেকে সফলতার সাথে ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নিতে পারায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের আন্তরিকতা ধন্যবাদ। এখনো যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের ঢালে কিংবা পাদদেশে রয়ে গেছেন, অচিরেই তাদেরকে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। টানা চার পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি সরে যেতে পারেনি।’

মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) যে বাঁধগুলো দিয়েছে, সেগুলো খুব খারাপ অবস্থায় আছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে খালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিসিসিকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তবুও থেমে নেই আমাদের কাজ। চাক্তাই খালসহ নগরীর খালগুলোতে দেয়া বাঁধের সাথে খুব সরু একটা জায়গা রাখা হয়েছে পানি চলাচলের জন্য। এ পথে পানি নামছে খুব ধীরে, তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে এবার। খাল ও নালার ব্রীজ, কালভার্ট, গ্যাস ও ওয়াসার পাইপের সাথে লেগে এবং বিভিন্ন বাঁকে জমে যাওয়া পলিথিন ও আবর্জনা সরাতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের সাথে একযোগে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। এছাড়া ছোট বড় সব নালা, নর্দমায় যেখানেই পানির গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, সেখানে দ্রুত বাধা অপসারণে সার্বক্ষণিক কাজ করছে করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। যেহেতু মেগা প্রকল্প চলছে তাই, আমরা চাইলেও সব খালে কাজ করতে পারছি না। তাই স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্ভোগটা কিছু বেশীই হচ্ছে এবার। আমরা নাগরিক সমাজ যদি সচেতন হই, তবে খাল নালায় পলিথিন ও বর্জ্যের উপস্থিতি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারি। এতে আমরা নাগরিকরাই এর সুফল পেতে পারি।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘কোভিড মোকাবেলায় চসিক প্রথম থেকেই প্রস্তুত ছিল। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের শুরুতেই কর্পোরেশন লালদীঘি পাড়ে আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছে। সেখানে প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা বিনামূল্যে নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সুরক্ষা বুথ খোলা হয়েছে। সেসব বুথ থেকে চাইলেই সকলে বিনামূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছে। এছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে বুথ স্থাপন করে করোনা পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে নমূনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে কর্পোরেশন। সবচেয়ে বড় কথা হল দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক ও জনগণ যাতে সুরক্ষা পায়, প্রতিষেধক টিকা পায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছেন। আগামী মাসের ৭ তারিখ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে আটার বছর ও তদোর্ধ বয়সের সকলকে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংকট বিমোচনে নাগরিকদের একটি সচেতন অংশের অংশগ্রহন আমাদেরকে আশাম্বিত করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে। কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক হতে এসেছেন অনেকেই। তারা কর্পোরেশনের সাথে এ ধরনের মহৎ কাজে শামিল হয়েছেন কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং যে কোন দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আরবান কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার দল গঠিত হয়েছে। এ উদ্যোগ মানবিকতা ও সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীই ব্যক্তিগত ও দলগত উদ্যোগে রোগীসেবা ও খাদ্য সহায়তায় পূর্ণ উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সকলকে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

মেয়র বলেন, ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে কর্পোরেশনের গঠিত ছয় সদস্যের কমিটি এ ভলেন্টিয়ারদের কার্যক্রম তদারকি করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই জন করে প্রশিক্ষিত ভলেন্টিয়ার এর নেতৃত্বে ২৫জন করে স্বেচ্ছাসেবী সদস্য সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের যে কোন প্রান্তে কাজ করতে সক্ষম। এবার কোরবানির ঈদে যেমন বর্জ্য পরিষ্কারে চসিক সাফল্য যে দেখিয়েছে, তেমনি করোনা ও ডেঙ্গুর মত দুর্যোগে চসিক গঠিত স্বেচ্ছাসেবক দলও সফলতা দেখাতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা প্রমাণ করতে চাই, যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলাসহ জাতীয় যে কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে চট্টগ্রাম সবসময় অগ্রগামী ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ‘সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন।’

Share This Post

আরও পড়ুন