বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

স্ক্র্যাপ ঘোষণায় কনক্রিট ব্লক: মানি লন্ডারিংয়ের নতুন কৌশল কুমিল্লার সাকুরা স্টিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৪৩ Time View

চট্টগ্রাম: সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ১১৫ টন কনক্রিট ব্লক ভর্তি পণ্যসহ ২০ টি কনটেইনার আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

ইট-বালির পর এ প্রথম ঘোষিত পণ্যের বদলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কনক্রিট ব্লক আটকের ঘটনা ঘটলো।

এ ঘটনাকে ‘মানি লন্ডারিং’ বলে সন্দেহ করছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। আর তাদের এ সন্দেহ প্রমাণিত হলে মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলের সূচনা হবে বাংলাদেশে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের দায়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে দেশীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাকুরা স্টিল লিমিটেড।

এছাড়াও এ ঘটনায় বিদেশী রপ্তানিকারকের প্রতারণার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছে না চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

তবে আমদানিকারকের রহস্যময় কর্মকান্ডে এ ঘটনাকে অর্থ পাচার বলেই তদন্তে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান
কুমিল্লার বুড়িচং ময়নামতি বাজার সিন্দুরিয়া পাড়ার সাকুরা স্টীল সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ আমদানির জন্য রুপালী ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় একটি ঋণপত্র খুলে। ঋণপত্রে পণ্যের মূল্য ধরা হয় এক লাখ ৭১ হাজার ৫৭৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ওই ঋণপত্রের আওতায় গত গত ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দর থেকে এমভি স্মাইলি লেডি জাহাজ যোগে আয়রণ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপ ঘোষণায় ২০ টি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। শিল্পের কাঁচামাল হওয়ায় তড়িৎ খালাসের লক্ষ্যে কনটেইনারগুলো সিসিটিসিএল ডিপোতে (বেসরকারি অফডক) পাঠানো হয়। নিজেদের এ সব পণ্য খালাসের লক্ষ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ দিন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট কোন ডকুমেন্টও দাখিল করেননি। ফলে প্রায় এক বছর সাত মাস কনটেইনারগুলো ডিপোতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ টিম (এআইআর) কনটেইনারগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে সপ্তাহ খানিক আগে কনটেইনারগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার (২৩ নভেম্বর) বিকাল চারটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত কনটেইনারগুলো পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপের পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন কিংবা স্বল্প মূল্যের ১১৫ টন কনক্রিট ব্লক পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সাকুরা স্টিল এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাচার করেছে নাকি রপ্তানিকারক এ প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করেছেন, তা তদন্ত করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখা।

এ শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম পরম বাংলাদেশকে বলেন, ‘কনটেইনারগুলো পরীক্ষা করে স্ক্র্যাপের বদলে কম পরিমাণে কিন্তু বেশি ওজনের কনক্রিট ব্লক পাওয়া যায়। মিথ্যা ঘোষণায় কনক্রিট ব্লক আনার কারসাজি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এর আগে কখনো ধরা পড়েনি। এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়েরই উদ্দেশ্য ছিল বলে আমরা ধারনা করছি।’

Share This Post

আরও পড়ুন