সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

সোলসের সুব্রত বড়ুয়া রনি, দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলার এ কিংবদন্তি শিল্পী

পরম বাংলাদেশ
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৩৮ Time View

সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা,
সোলস ব্যন্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুব্রত বড়ুয়া রনি দাদা, সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন।

স্বাধীনতার ঠিক পরের বছর, ১৯৭২ সাল। দেশ তখন সব দিক দিয়েই অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে­ও অচলাবস্থা। সে সময় চট্টগ্রামের কয়েক জন গান পাগল তরুণ সাজিদ, জিলু, নেওয়াজ, রনি বড়ুয়া ও তাজুল মিলে গানের দল গঠন করে যাবতীয় অচলাবস্থাকে পাশ কাটাতে চাইলেন। তখনকার সনাতনীয় প্রথাগত মিউজিকের বাইরে গিয়ে বিদেশী ব্যান্ডগুলোর অনুপ্রেরণায় ‘ওয়েস্টার্ন রক’ চর্চার এবং রক এর সাথে দেশের তরুণদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তারা অগ্রসর হচ্ছিলেন।

স্বাভাবিকভাবে তাদের এই কাজে অগ্রসর হওয়া সহজ সাধ্য ছিলো না। বাংলা গান তখন সীমাবদ্ধ ছিলো শাস্ত্রীয়-ফোক, রবীন্দ্র-নজরুল, বাউল-লোকগান-আধুনিক মেলোডিয়াস গানের মধ্যে। শুধুমাত্র মনোবলকে পুঁজি করে নতুন কিছু করার স্পৃহা থেকেই চট্টগ্রামে ১৯৭২ সালে প্রাথমিকভাবে ‘সুরেলা’ নামে তারা ব্যান্ড যাত্রা শুরু করেন।

তখনকার দিনে বড় বড় ক্লাব-হোটেলে ছাড়া কোথাও গান বাজনা হতো না। আর সেই সব জায়গাতে শুধুমাত্র ইংরেজি গানের কাভার করা হতো, বাংলা গান ছিলো ব্রাত্য। তাই ব্যান্ডগুলোর নামও ইংরেজিতে রাখার চল শুরু হয়েছিলো। এ সবকে বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালে ব্যান্ডের নাম পাল্টে ‘সোলস’ রাখা হলো, বাংলার যার অর্থ হয় ‘আত্মার সমন্বয়ে’।

১৯৭২ সালের শেষ দিকে লুলু ব্যান্ড ত্যাগ করায় নকীব খান ব্যান্ডে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর নকীবের ছোটো ভাই পিলু খানও ব্যান্ডে যোগ দেন। কিছু দিন পর তপন চৌধুরী সোলসে নাম লেখান। তখনও সোলসের তৎপরতা শুধুমাত্র চট্টগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। প্রথম প্রথম শুধু ইংরেজি গান কাভার করলেও তারা একটা সময় নিজেদের গান করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম গানটি কম্পোজ করেছিলেন নকীব খান।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে পপ মিউজিকের একটি প্রতিযোগিতায় নাম লেখায় ‘সোলস’, জিতেও নিয়েছিলো সেরার পুরস্কার। মূলত সেই থেকেই শুরু হয়েছিলো সোলসের জয়যাত্রা।

১৯৭৭ সালে ব্যান্ড যোগ দিলেন নাসিম আলী খান। কুমার বিশ্বজিৎ এবং গিটারম্যান আইয়ুব বাচ্চু সে সময় ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে ছিলেন। ১৯৮২ সালে সোলসে যোগ দেয় এবি। আইয়ুব বাচ্চুকে ব্যান্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পিলু খান। এবি শুরুতে ছিলেন একাধারে গিটারিস্ট, ভোকালিস্ট, লিরিসিস্ট ও কম্পোজার। আশির দশককে সোলসের স্বর্ণ যুগ বলা হয়। কারণ সে সময়ে তাদের ব্যান্ড লাইন আপ ছিলো দুর্দান্ত।

নকীব খান, পিলু খান, তপন চৌধুরী, নাসিম আলী খান, আইয়ুব বাচ্চু ,রনি বড়ুয়া, নেওয়াজ, সাজেদ।

নামগুলো পড়লেই তাদের সে সময়ের লাইন আপ সম্পর্কে বুঝতে পারার কথা। এছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বেইজিস্ট তানিমও কিছুকাল সোলসে বাজিয়েছে।

দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলার কিংবদন্তি শিল্পী চট্টগ্রামের গ্রুপ থিয়েটার অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায় ও সোলস ব্যন্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা সুব্রত বড়ুয়া রনি।

বর্তমানে ঢাকায় ডেলটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাইছি এই গুনি শিল্পীর জন্য। তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক মঞ্চে। ফিরে আসুক, আমাদের চট্টগ্রামের সব সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে।

সূত্র: সাইফুল আলম বাবু ও রাজেশ চক্রবর্তীর ফেসবুক পোস্ট

Share This Post

আরও পড়ুন