ঢাকাসোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সোজা-সাপ্টা কথা বার্তায় অভ্যস্ত আমি

নূরুল আজিম রনি
নভেম্বর ১৪, ২০২০ ৫:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছোটবেলা থেকে বাসায় হুমায়ুন আহমেদের বইপত্র দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। একটা সময় নিজেকে ‘হিমু’ বানানোর সুপ্ত বাসনাও মনের অজান্তে তৈরি হয়েছিল।

আজ হঠাৎ করে অনুধাবন করলাম-সময়ের স্রোতে হিমুর সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রে এসে দাঁড়িয়েছি আমি।

যেমন- হিমু হওয়ার প্রথম শর্ত ‘হলুদ’ রংয়ের সাথে আতিথিয়তা। বর্তমানে আমার কাছে অপছন্দের রংয়ের তালিকায় ‘হলুদ’।

হিমুর স্বভাবের অন্যতম ছিল- কোন মেয়ের সাথে প্রেমের বন্ধনে সরাসরি জড়ানো যাবে না। অথচ বিশাল একটা সময় জুড়ে আমি প্রেম নগরের বাসিন্দা ছিলাম।

হিমু দলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। রাজনীতি থেকে হিমু দূরে থাকলেও আমি রাজনীতির মায়া জালে জড়িয়েছি।

হিমুর চরিত্রে ‘রাগ’ শব্দের কোন স্থান ছিল না। চরম অপমান এমনকি মার খেয়েও হিমু স্বভাব সুলভ ঢং-এ কথা বলতে পারতো। এক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকে আমি প্রচন্ড রাগী ছিলাম। বর্তমানে নিজের চরিত্রের সব চেয়ে খারাপ দিক মনে করি- আবেগ এবং রাগকে। যা সহনীয় পর্যায়ে আনতে অনেক দিন যাবৎ চেষ্টাও করে যাচ্ছি।

অন্য দিকে হিমু মানুষকে বিভ্রান্ত করে মজা পেলেও আমি এ কাজের চরম বিরোধী হয়ে পড়েছি। সোজা-সাপ্টা কথা বার্তায় অভ্যস্ত আমি।

তবে হিমুর সাথে আমার কিছু মিলও খুঁজে পেয়েছি আমি। যেমন- হিমু বিশাল সন্ত্রাসীদের ভয় পেত না। সন্ত্রাসীদের বোকা বানিয়ে হিমু মজা পেত। আমিও সন্ত্রাসীদের নাচনেওয়ালি বানানোর ধান্দায় থাকি। সব শ্রেণি-পেশা, জাত-বেজাত মানুষের সাথে হিমু মিশতে জানতো। আমিও ধর্ম-বর্ণ, জাত-বেজাতে ভাগা-ভাগিতে বিশ্বাস করি না।

হিমু নির্লোভ ছিল- আমিও লোভ জিনিসটা আমার ভেতরে কখনো জন্মাতে দেই নি।

…..সব লেখার ইতি টানতে ইচ্ছা করে না।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর।
ফেসবুক পেইজ পোস্ট (শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০, বিকাল পাঁচটা ৫০ মিনিটে)

Facebook Comments Box