রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

সেলিম ইসলাম খানের উপন্যাস: আলোর পথে রাজা চেরুমন: পর্ব: ১

  • প্রকাশ : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৭২ Time View

দেড় হাজার বছর আগের কথা। দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যের ত্রিসুর জেলার মিথিলায় বাস করতেন এক ব্রাহ্মণ পরিবার। পরিবারের প্রধান চেরাজেম চক্রবর্তী কুস্তি ও লাঠি চালনায় বেশ পারদর্শী ছিলেন। তার কুস্তি ও লাঠি চালনার খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাকে সবাই একজন শক্তিশালী বীর পাহলোয়ান হিসেবে সম্মান ও সমীহ করতে লাগলেন। ফলে অল্প বয়সেই তিনি তার এলাকার যুবক শ্রেণীর সর্দারের পদ লাভ করেন। মধ্য বয়সে তিনি মালাবার দেশের প্রধান সেনাপতির আসন লাভ করেন।
সেনাপতি চেরাজেম আর দশজন বামুন ও অবস্থাপন্ন মানুষের মত নিষ্ঠুর ছিলেন না। তিনি ছিলেন নিম্নবর্ণের মানুষের প্রতি খুবই দয়ালু। অন্য বামুন আর ধনিক শ্রেণি যেখানে সমাজের নিম্ন বর্ণের মানুষদের প্রতি জুলুম করতেন, সেখানে চেরাজেম তাদের জুলুমের প্রতিকার করার চেষ্টা করতেন। এ জন্য তাকে প্রায়শ:ই ধনিক শ্রেণি ও অপরাপর বামুনদের রোষানলে পড়তে হত। কিন্তু এতে তিনি মোটেও দমে যেতেন না। বরং আরো দ্বিগুণ উৎসাহে তিনি নির্যাতিত মানুষদের রক্ষায় এগিয়ে আসতেন। কালক্রমে তার সাথে আরো যুবক শ্রেণির সন্নিবেশ হয়। এতে চেরাজেমের শক্তি আরো বৃদ্ধি পায়।

মিথিলা বামুনরা নানা ষড়যন্ত্র করে তাকে সব সময় ব্যতিব্যস্ত করে রাখত। কারণ চেরাজেম বামুনদের অন্যায় অত্যাচার অন্যদের মত মুখ বুজে সহ্য করতে পারতেন না। তার বাপ-চাচারা এবং প্রতিবেশি ব্রাহ্মণরা যখন নিরীহ মেয়েদের জোর করে ধরে এনে সেবা দাস হিসেবে আটকে রাখতেন, চেরাজেম তাদের মুক্ত করে দিত। শৈশব থেকেই ছেলের এই সব উদ্ভট কাণ্ড পরিবারের বড়রা কোনভাবেই মেনে নিতে পারতেন না। তাই তাকে নানার বাড়ি কোদনগুল্লুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কোদনগুল্লু মালাবারের রাজধানী। তার নানা মালাবারের রাজ আমাত্য হওয়ায় সেখানে সে কুস্তি ও লাঠি বিদ্যায় আরো পারদর্শী হয়ে উঠল। সেই সাথে তীরন্দাজী ও বল্লমবাজীতেও সে ছিল সবাকার সেরা।

যৌবনে চেরাজেম তার মামাতো বোন পারুকে বিয়ে করেন। পারু রূপে-গুণে কোদনগুল্লুর সবচেয়ে সেরা মেয়েদের একজন। তার বাবা রাজ আমাত্য হওয়ায় পারুকে বন্ধু মহলের সকলেই বেশ সমীহ করত। রাজ আমাত্যদের মধ্যে কয়েক জন পারুকে তাদের পুত্রবধু হিসেবে গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারুর বাবা বীরু তাকে নিজ বোনের ছেলের সাথে বিবাহ দিবেন বলে আগে থেকেই মনস্থির করে রেখেছিলেন। পারুর তাতে কোন অমত ছিল না। আর অমত করেও কোন লাভ হত না। কারণ মালাবার তথা পুরো ভারতে পুরুষদের কথাই আইন। আর বীরুতো সেখানে রাজ আমাত্য।

চেরাজেম আর পারু মালাবারেই নতুন সংসার জীবন শুরু করল। বীরু জামাতা চেরাজেমকে মালাবারের রাজা জান্দারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি চেরাজেমের বীরত্বের কথা আগে থেকেই জানতেন। তিনি চেরাজেমকে সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন হওয়ার প্রস্তাব দিলেন। চেরাজেম রাজি হয়ে গেলেন। অল্প দিনেই তিনি রাজা জান্দারের বিশ্বস্ততা অর্জন করলেন।সেনা প্রধান কলেরা রোগে মারা গেলে রাজা জান্দার চেরাজেমকে সেনা বাহিনীর প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেন। চেরাজেম সম্মতি দিলে রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে চেরাজেমকে সেনা প্রধান হিসেবে বরণ করে নেন।

(চলবে)

Share This Post

আরও পড়ুন