শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

সৃজনশীল শিল্পকলা ও প্রতিবিধানমূলক নাট্যশৈলী এবং মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা: প্রেক্ষিত সাভার ট্র্যাজেডি

মুহাম্মদ শাহ্‌ আলম / ১৭৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

মুহাম্মদ শাহ্‌ আলম: ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। সকাল নয়টার কিছু আগে ঢাকার অদূরে সাভার বাজারের কাছে রানা প্লাজা ধ্বস শুরু হওয়ার ঘন্টা খানেকের মধ্যে দেশবাসী মিডিয়ার কল্যাণে স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে সেই হৃদয়বিদারক দৃশাবলী। সংঘটিত সেই ট্র্যাজেডিতে নিহত হয়েছিল এক হাজার ১৩৫ জন। আহত হয়েছিল প্রায় দুই হাজার ৪০০ শ্রমিক। নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় শতাধিক।

যারা সেই ধ্বংসস্তুূপে নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল, আটকা পড়েছিল তাদের পরিস্থিতি কেমন পর্যায়ে ছিল, তাও আমরা দেখেছি, শুনেছি, পড়েছি। বিশ্ব তোলপাড় করা এ ঘটনা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য উদ্যোগও কম হয় নি। ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দেশ-বিদেশের চাপ, ক্ষতিগ্রস্তদের চাওয়া-পাওয়া মিলিয়ে আর্থিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকের পরিবাররা পেয়েছে। কিন্তু ক্ষতিপুরণ বলতে কি শুধুই আর্থিক সহযোগিতা, পুনর্বাসন? যদি তাই হয় তাহলে যথার্থ ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শ্রমিকদের পরিবার পায়নি।

ক্ষতিপূরণ বলতে আমরা বুঝি শ্রমিকের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অপর্যাপ্ত হলেও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে, শারীরিক চিকিৎসায় সহযোগিতা দেয়া হয়েছে, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনেরও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু মানসিক সহায়তার বিষয়টি বরাবরের মতই উপেক্ষিত রয়ে গেছে। ঘটনার তিন বছর পরও বেঁচে যাওয়া বেশির ভাগ শ্রমিক মানসিক সমস্যায় জর্জরিত।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অ্যাকশন এইডের করা গবেষণা জরিপে দেখা যায়, আহতদের ৫৯ শতাংশ শ্রমিক দীর্ঘ মেয়াদী মানসিক বৈকল্যতায় তুগছেন। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দক্ষ জনবলের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে মানসিক সেবা ও সহায়তা প্রদান করা সম্ভবপর হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মরত গবেষকদের মতে, একাডেমিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সৃজনশীল শিল্পকলার মানবিক সেবায় প্রায়োগিক চর্চার অনুপস্থিতি এর অন্যতম কারণ।

সাভার ট্র্যাজেডি : সেবা ও সহায়তা
দুর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পর পর মানুষ যে যেভাবে পেরেছে, সহায়তা দেয়ার জন্য ছুটে গেছে। দেশী-বিদেশি সংস্থা, স্থানীয় সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায়ে ও সরকারিভাবে সেবা-সহায়তা প্রদান ছিল লক্ষণীয়। উদ্ধার কার্যক্রমে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের যে নজির আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা আমাদের মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক, স্বজন, উদ্ধারকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পরও সরকারিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোন প্রকার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। শুধুমাত্র বেসরকারিভাবে কিছু উন্নয়ন সংগঠন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র পরিসরে মনোসামাজিক সেবা প্রদানে এগিয়ে আসে; যা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল অপর্যাপ্ত ও স্বল্পমেয়াদী।

শ্রমিকদের বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি: সাভার ট্র্যাজেডির এক মাস পর (মে ২০১৩) ডিয়াকোনিয়া বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং পরবর্তী বছরে (এপ্রিল-মে ২০১৪ ও ২০১৫) অ্যাকশন এইডের সহযোগিতায় বাংলাদেশ থেরাপিউটিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট এবং উৎস ৩৬৫ জন শ্রমিকের সরাসরি অংশগ্রহণে ২৪টি অধিবেশনে পরিচালনা করে। থেরাপিউটিক থিয়েটার সেশনের মাধ্যমে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের মানসিক বিপর্যস্তার ধরণ নিরুপণ, মানসিক সেবা প্রদান, আত্মবিশ্বাস স্থাপন, অন্তর্নিহিত শক্তির ব্যবহারের দক্ষতা সৃষ্টির লক্ষে পরিচালিত এসব অধিবেশনে উঠে এসেছে মানসিক বৈকল্যতার নানা ধরণ। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রমিকদের মানসিক সমস্যাগুলোকে তিনভাগে বিভক্ত করে একটি তুলনাগত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যাতে দেখা যায় আবেগগত, আচরণগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক থেকে সমস্যায় ভূগছেন শ্রমিকরা।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্ষণসমূহ হল: চিকিৎসার পরিভাষায় পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারসহ দীর্ঘ মেয়াদী নানা মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত প্রায় এক হাজার ৪৭৫ শ্রমিকদের জীবনের প্রতি উদাসীনতা, বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা, চিকিৎসা ব্যয়, ঋণের দায়, আর্থিক অনটনের কারণে চরম হতাশা ও বিপদজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাভার ট্র্যাজেডির ভূক্তভোগী মানুষদের মধ্যে। ক্ষতিগ্রস্থদের সু্‌স্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।

মনোসামাজিক সুরক্ষায় ক্রিয়েটিভ থেরাপিউটিক আর্টস বা প্রতিবিধানমূলক নাট্যশৈলীর ব্যবহার: ‘সাইকোসোশাল ফার্স্ট এইড ক্যাম্প’ শিরোনামে দুর্ঘটনার এক মাস পর ২০১৩ সালের মে মাসে বিটিটিআই ও উৎসর উদ্যোগে পরিচালিত হয় প্রথম সৃজনযজ্ঞ। সাত দিনের এই ক্যাম্পে ১৬৫জন ক্ষতিগ্রস্থ নারী, পুরুষ ও উদ্ধার কর্মী অংশগ্রহণ করে। ১২ সদস্যের থিয়েটার থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন এ ক্যাম্পে জেকব লিভি মরেনো প্রবর্তিত থেরাপিউটিক থিয়েটারের একশন সোসিওগ্রাম, সোসিওমেট্রিক একশন, গ্রুপ ইমেজ, ইগো কার্ড, সেল্ফ সুদিং, ফেবারিট প্লেস, গ্রুপ সাইকোথেরাপি, প্লেব্যাক থিয়েটার, লিভিং নিউজ পেপার থিয়েটারের কৌশলসমূহ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়। বারোটি সেশনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের মানসিক চাপ, ভয়, আতংক, দুঃশ্চিন্তা দূর করে ব্যক্তিকে স্বতস্ফূর্ত করে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়তা করা হয়।

এক বছর পর পূনরায় এপ্রিল-মে ২০১৪-তে একশনএইড বাংলাদেশ, আইএলও সহযোগিতায় সিএসআইডি বাস্তবায়িত প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোন রকম মানসিক সেবার আওতায় না আসা ২৫০জন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রমিকদের সাথে মনোসামাজিক সুরক্ষায় দুই দিন করে দশটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা শারীরিকভাবে যেমন অসুস্থ ছিলেন তেমনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছিলেন। ২৫ জনের একেকটি দল নিয়ে পরিচালিত অধিবেশনের মূল লক্ষ্য ছিল মানসিক বিপর্যস্ততার ধরণ (স্ক্রীন আউট) চিহ্নিত করা। তাই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাদের মনের মধ্যে জমাট হয়ে থাকা ভয়-আতংক, হতাশা-দুঃশ্চিন্তা, উদ্বেগ-অস্থিরতা থেকে ভেন্টিলেশন করানো। পাশাপাশি মানসিক শক্তিকে দৃঢ় করা, মনোবল বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস জ্রাগ্রত করা, অন্যের প্রতি বিশ্বাস তৈরি, নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ ও বিকাশ ঘটানো। অংশগ্রহণকারীদের সাথে সৃজনশীল মনোবিশ্লেষক নাট্যশৈলীর একশন ওয়ার্ম-আপ, রোল থিওরি অফ একশন, ডিফ ব্রেদিং অ্যান্ড সেইফটি ওয়াকিং, সার্কেল অফ সেইফটি, একশন সোসিওমেট্রি, ডাবলিং, মিররিং, ইমোশনালয় ব্রেদিং অ্যান্ড ওয়াকিং, সুদিং ভয়েস, প্লেব্যাক থিয়্টোর, সোসিওড্রামা, লিভিং নিউজ পেপার থিয়েটার, পয়েট্রি থেরাপি, আর্ট থেরাপি, মুভমেন্ট থেরাপি, ড্যান্স থেরাপি, ফটো থেরাপি, মিউজিং থেরাপি অ্যান্ড শেডো থিয়েটার থেরাপির ব্যবহার করা হয়।

ক্রিয়েটিভ থেরাপিউটিক আর্টস বা সৃজনশীল প্রতিবিধানমূলক শিল্পকলার চর্চা ও প্রয়োগ: মন ও মনন এবং প্রশান্ত মানসিকতা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আওতাভূক্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভূক্ত চারুকলা ইনিস্টিটিউট, নাট্যকলা বিভাগ, সংগীত বিভাগ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের আওতাভূক্ত মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমকে অধিকতর মানবিক ও মনোসামাজিক করে গড়ে তুলতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সৃজনশীল কলাবিদ্যার আধুনিকতার ব্যবহারশৈলী পাঠ্যসূচিভূক্ত করা। যাতে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট মনোচিকিৎসক, কাউন্সেলর, সাইকোথেরাপিস্ট, গ্রুপ সাইকোথেরাপিস্টের  পাশাপাশি থিয়েটার থেরাপিস্ট, আর্ট থেরাপিস্ট, মিউজিক, ডান্স-মুভমেন্ট থেরাপিস্ট, ফটোগ্রাফিক-ভিডিওগ্রাফি থেরাপিস্ট, পয়েট্রি থেরাপিস্ট প্রভৃতি গড়ে উঠে এবং দেশের যে কোনরকম দূর্যোগে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে পারে। উন্নত বিশ্বে উল্লেখিত বিদ্যায়তনিক পাঠ্যবিষয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সফলভাবে সৃজনশীল শিল্পকলা পঠিত হচ্ছে এবং দক্ষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকর্মী তৈরি করে মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়স্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে সৃজনশীল কলাবিদ্যার মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবাগত প্রয়োগ কৌশলগুলো পাঠ্যক্রমভূক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে এ অধিগত মনোবিশ্লেষক সৃজনযজ্ঞ শিখে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর শৈলী হিসেবে অনুশীলন করছে সফলভাবে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ভূক্ত পাঠ্যকেন্দ্রগুলোর পাঠ্যসূচিকে আলোচ্য বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ মনোবিজ্ঞানী, মনোচিকিৎসক, সৃজনশীল শিল্পযজ্ঞ মনোবিশ্লেষণে প্রয়োগ-যোগ্যতা সম্পন্ন ক্রিয়েটিভ থেরাপিস্ট গড়ে তোলার লক্ষে বিদ্যায়তনিক সৃজনশীল শিল্পকলা প্রাতিষ্ঠানিকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করার আবেদন জানিয়ে নিন্মোক্ত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করছি।

সুপারিশ: ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর মানসিক বিপর্যয়ের মাত্রা নিরূপণে মাঠ গবেষণা পরিচালনা করা; ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ধরণ, প্রভাব ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে মাঠ গবেষণা করা ও থিসিস করে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিরূপণ করা; চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে মানসিক স্বাস্থ্য এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যলয় পর্যায়ে পরিচালিত সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি চারুকলা ইনস্টিটিউটে ‘আর্ট থেরাপি’, সংগীত বিভাগে ‘মিউজিক থেরাপি’ এবং নাট্যকলা বিভাগে ‘সাইকোড্রামা, সোসিওড্রামা, ড্রামা থেরাপি, প্লেব্যাক থিয়েটার, লিভিং নিউজ পেপার থিয়েটার ঘরানার মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়া পাঠ্যসূচিভূক্ত করা; ক্ষতিগ্রস্থদের মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকার, বিজিএমইএ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তত করা; সৃজনশীল কলা তথা ‘সাইকোড্রামা, সোসিওড্রামা, ড্রামা থেরাপি, প্লেব্যাক থিয়েটার, লিভিং নিউজ পেপার থিয়েটার, মিউজিক থেরাপি, ড্যান্স থেরাপি, আর্ট থেরাপি প্রয়োগ ও চর্চাকারী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের নেটওয়ার্কিং করা; ‘থেরাপিউটিক ক্রিয়েটিব আর্টস’ নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট চালু করা। যেখানে বিদ্যায়তনিক সৃজনশীল মনোবিশ্লেষক কলাকৌশল শিক্ষা দানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক নিয়মিত মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা।

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগেরও অভাব নেই। এছাড়াও মানবিক সংকট, আর্থিক সংকট, পারিবারিক অসহিষ্ণুতাসহ নানাবিধ সংকটের কারণে মানসিকভাবে কতজন মানুষ সুস্থ জীবনযপান করছেন তা একুট বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক শুন্য ৫ শতাংশ মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। গবেষণায় আরো জানা যায়, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মোট জনসংখ্যার ৪ দশমক ৬ শতাংশ বিষন্নতায় ভুগছে। দেশের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রয়াসে সুস্থ্য ও সুন্দর জীবন ভোগ করবে মানুষ পরিবার ও দেশের জন্য; সেটিই হবে অধিক মঙ্গলজনক।

লেখক: নাট্যজন ও উন্নয়ন কর্মী, চট্টগ্রাম।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ