সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবেও অঙ্গীকারাবদ্ধ

মো. মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৬৫ Time View

প্রতি বারের ন্যায় এবারও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু করোনা নতুন এক ভাইরাস, যা সারা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। তার পরেও আমাদেরকে আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।

গত বছরের ২৯ মার্চ মাসে চসিকের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো, কভিড-১৯ এর কারণে যা আট মাস পর আগামী ২৭ জানুয়ারি সরকার কর্তৃক (কভিড-১৯) জারীকৃত পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল সংবিধানের সাত নাম্বার অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’ কিন্তু জনগণ প্রত্যক্ষভাবে শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন না। তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমেই তারা শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। আর জনগণ কর্তৃক প্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন।

আমরা এও জানি যে, নির্বাচন গণতন্ত্র নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ মাত্র। কিন্তু এই প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া যদি নিয়মতান্ত্রিক না হয়, তবে তা শুধু প্রশ্নবিদ্ধই হয় না, জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলেও বিবেচিত হয়। তাই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হয়, তবে প্রজাতন্ত্রের মালিকেরা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে, এ কথা বলার নৈতিক অধিকার থাকে না। তাই জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবেও অঙ্গীকারাবদ্ধ। কারণ আমরা ‘সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ’ ও ইন্টারন্যাশনাল কনভিন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস এ স্বাক্ষরদাতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরকে এসব আন্তর্জাতিক আইন এবং চুক্তিও মেনে চলতে হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনের কতগুলো পূর্বশর্ত রয়েছে। যেমন: ভোটার হওয়ার উপযুক্ত সকল ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে; যে সব ব্যক্তি প্রার্থী হতে আগ্রহী, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন; প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ফলে ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থী ছিল; ভোট প্রদানে আগ্রহীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন এবংভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, কারসাজি মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।

সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সঠিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে চারটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এগুলো হলো:রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান; সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ। এই চারটি দায়িত্ব ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সরকারের অনুরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহেরও নির্বাচন আয়োজন করে থাকে। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের কর্তব্য হলো সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা প্রদান করা।

তবে এও সত্য যে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান কখনোই সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকালের যথাযথ ভূমিকাই পারে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন; সরকার; রাজনৈতিক দল; মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য; নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; গণমাধ্যম; প্রার্থী ও সমর্থক; সচেতন নাগরিক এবং ভোটার প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজকর্মী

Share This Post

আরও পড়ুন