বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

সিএমপির সাত পুলিশ কর্তকর্তার সহায়তায় কথিত মুক্তিযোদ্ধা জাকিরের জুলুমে অসহায় আলাউদ্দিনের পরিবার

পরম বাংলাদেশ
  • প্রকাশ : শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৭৪ Time View

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে এক পঙ্গু ফুচকা বিক্রেতার স্ত্রী ও তার পরিবারের উপর অমানবিক ও বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে পঙ্গু ফুচকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনের স্ত্রী বিবি মরিয়ম তার স্বামী ও পরিবারের উপর সংগঠিত নারকীয় নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

এ সময় তাদের কন্যা উত্তর কাট্টলী মোস্তফা হাকিম ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী উম্মে আইমন আত্মহুতি দেয়ারও হুমকি দেয়।

বিবি মরিয়মের বর্ণনা মতে, চট্টগ্রামের কাট্টলী এলাকার কথিত মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী মো. জাকির হোসেনের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে ভাতিজা পঙ্গু ফুচকা বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভাতিজা আলাউদ্দিনকে আকবরশাহ থানার শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি র‌্যাব-৭ এর মাধ্যমে ক্রসফায়ারের পরিকল্পনাও করে চাচা জাকির। ভাগ্যক্রমে র‌্যাবের ক্রসফায়ার থেকে রক্ষা পেলেও বর্তমানে ভাতিজা আলাউদ্দিন হত্যা, ডাকাতি ও ইয়াবাসহ ১৯ মামলার হুলিয়া নিয়ে দুর্বিষহ পলাতক জীবন-যাপন করছে। চাচা জাকিরের চক্রান্তে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর ডিবির উত্তর এক নম্বর টিমের মাধ্যমে ভাতিজা আলাউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সীতাকুন্ড-৪ আসনের সাংসদ দিদারুল আলমের সহায়তায় উদ্ধার হন তিনি। মামা আলাউদ্দিনের পক্ষে নেওয়ায় ভাগিনা এমরান হোসেন এবং মো. ফোরকানও জাকিরের মিথ্যা মাদক মামলার শিকার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিবি মরিয়ম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী জাকির, তিন পুত্র এএইচএম জাহিদ হোসেন, মো. মোক্তার হোসেন, পিএসআই শাখাওয়াত হোসেন, পুত্র বধু শিমলা চৌধুরী এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় প্রভাবখাটিয়ে অন্যায়ভাবে আমাদের ভূমি জবর-দখল করেন। পরবর্তী সম্পূর্ণ আক্রোশ বশীভূত হয়ে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক ঘটনা ছিল ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে র‌্যাব-৭ এর মাধ্যমে ক্রসফায়ারের শিকার হতে গিয়ে ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান আমার স্বামী আলাউদ্দিন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিবি মরিয়ম আরো অভিযোগ করেন, সিএমপির এসআই কেএম তারিকুজ্জামান, সুমিত দাশ, মো. মাহবুব আলম, মো. হায়দার আলী, এসআই পরিতোষ দাশ, মুকুল মিয়া এবং এএসআই মো. ওয়ালিউল্লাহসহ আরো অজ্ঞাত নামা প্রশাসনিক ব্যক্তিসহ জাকির ও তার তিন পুত্র এবং পুত্র বধুর অবৈধ কালো টাকার সহায়তায় এই ধরনের ঘৃণ্য কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।

কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিবি মরিয়ম এই দুর্বিষহ জীবন থেকে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষার জন্য প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি ও দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায়, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে স্বপরিবারে আত্মাহুতি দেওয়া ব্যতীত আর কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিনের বড় ভাই মো. ইসহাক, মেজো ভাই হাফিজুর রহমান, ভাগিনা মো. এমরান ও মো. ফোরকান, জাকির হোসেনের আপন ভগ্নিপতি মল্লিকা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ শফিউল আলম, জাকির হোসেনের মেজো ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ দুলাল ও তার বোন বাবলি আক্তার, মেজো ভাইয়ের মেয়ে বিবি ফাতেমা জুলি ও রূপা আক্তার, জাকির হোসেনের নাতি মো. বাপ্পু, মো. ফয়সাল, মু. অপু, জাকির হোসেনের ভাতিজি জোহরা, লায়লা বেগম ও জাকির হোসেনের ভাতিজি হাজেরা বেগম প্রমুখ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Share This Post

আরও পড়ুন