মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে ইউনাইটেড গ্রুপের এমডিসহ ছয়জনকে আইনী নোটিশ

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১
  • ৫১ Time View

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটির সিআরবিতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ছয় কর্মকর্তাকে আইনী নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম মোহরার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম। নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিব, মহা পরিচালক, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী, রেলওয়ের পূর্ব জোনের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা এবং ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। খোরশেদ আলমের পক্ষে নোটিশটি পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মামুন।

নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরে যে সব ঐতিহাসিক জায়গা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) এবং তার আশপাশের এলাকা। সিআরবি এলাকায় একটি ৫০০ বেডের হাসপাতাল এবং ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ২০২০ সালের ১৮ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডেরর চুতি হয়। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তির ভিত্তিতে সিআরবির ছয় একর জায়গা ৫০ বছরের জন্য দেয়া হয়েছে। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৯ কোটি টাকা। সিআরবি এলাকাটি পাহাড় পর্বত এবং শতবর্ষী গাছ দ্বারা আচ্ছাদিত দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা। একে বলা হয় নগরীর অক্সিজেন সরবরাহের কেন্দ্র বিন্দু। এর সৌন্দর্য সবাইকে টানে। একইসাথে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। এই শহরে শ্বাস নেয়ার জায়গা বলতে সিআরবিই আছে। সিআরবির শতবর্ষী গাছ কেটে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে শহরের অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নগরবাসীর উপর। এ হাসপাতাল নির্মাণ করতে শতবর্ষী কিছু গাছসহ তিন শতাধিক গাছ কাটতে হবে। এর মাধ্যমে পাহাড়ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গাটি রেলওয়ের অসংখ্য কর্মকর্তার বাসস্থানও। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কিছু সংখ্যক গাছ কেটে ফেলেছে। প্রায় ১০০ ফুট পাহাড় সমান করে প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার রাস্তা করেছে। আটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। মসজিদ, মন্দির ক্লাব, কবরস্থান এমনকি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনকেও উচ্ছেদের তালিকায় রেখেছে।’

নোটিশে আরো বলা হয়, ‘ঐহিতাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) তাদের মাস্টার প্ল্যানে সিআরবিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে। তাই এখানে কোন বাণিজ্যিক স্থাপনা করার সুযোগ নেই। ২০১২ সালে চউক দশ কোটি টাকা ব্যয়ে সিআরবি এলাকায় একটি বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। কোন ধরনের পাহাড় ও গাছ না কেটে, বসবাসকারিদের না সরিয়ে সাত রাস্তার মোড়সহ পুরো সিআরবিকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে চউকের প্রকল্পেব প্রকল্পের পরিকল্পনার মধ্যে ছিল ওই এলাকার খালটি সম্প্রসারণ করে কৃত্রিম লেক তৈরি করা, ক্লাইমবিংস্টেয়ার্স, ফুটওভারব্রিজ, ঝর্ণা ইত্যাদি করা।’

সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে কিভাবে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে এমন প্রশ্ন তুলে নোটিশে বলা হয়, ‘সংবিধানের ১৮ ক অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’ অনুচ্ছেদ ২৪ এ বলা আছে, “বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতি নিদর্শন, বস্তু বা স্থাপনাগুলোকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ আইনের এ দুইটি ধারায় সরকার সিআরবিকে রক্ষা করতে বাধ্য। তাছাড়া সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি মেগা সিটি, বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, মিউনিসিপ্যাল এলাকা, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, পার্ক এবং প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর পরিপন্থি। এ আইনানুযায়ী জায়গাটি লিজ বা ভাড়া দেয়ার সুযোগ নেই। সংরক্ষিত জায়গার শ্রেণিগত কিংবা অন্য কোন পরিবর্তন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ‘

চলমান মহামারি আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, আমাদের স্বার্থেই আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের সব ধরনের তৎপরতা ও কার্যক্রম বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘যদি প্রকল্প বাতিল করা না হয়, তাহলে সিআরবি রক্ষায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন।’

প্রেস বার্তা

Share This Post

আরও পড়ুন