বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই

মোহাম্মদ আলী / ৩৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১

‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।
বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীদের উপস্থিতি ব্যাপক। একজন নারী হিসেবে আমি গর্বিত। কিন্তু ধর্ষণ, ইভটিজিং, সামাজিক জটিলতা রোধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কার্যক্রমে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে প্রতিটি শিল্পমাধ্যম’- আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এটাই ঐশীর প্রত্যাশা।

উদীয়মান আবৃত্তি শিল্পী ঐশী পাল, যাকে সবাই ঐশী নামেই ডাকে। বর্তমানে অবশ্যই আবৃত্তির সাংগঠনিক চর্চাও চালিয়ে যাচ্ছে সে। পাশাপাশি উপস্থাপনার দিকেও নজর রয়েছে তার। এছাড়াও বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, ভাষণেও সমান দক্ষ এ শিল্পী।

আবৃত্তি নিয়ে ঐশীর ভাবনা হল ‘আবৃত্তি আমার নিঃশ্বাস, ভালোবাসা, অস্তিত্ব। একজন সফল আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে সমাজের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আবৃত্তি আমি সব সময় শিখতে চাই, সবার থেকেই শিখতে চাই।’

২০০০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরেই। সেন্ট মেরীস্ স্কুল থেকে প্রাইমারি, কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বর্তমানে স্নাতক প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ঐশী।

বাবা প্রণব পাল পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা সাথী পাল পেশায় একজন শিক্ষিকা। ঐশীর এক ভাই এইচএসসি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।

মা-বাবা, পরিবার আর আবৃত্তিজন, পরিচিতজন এবং যারা তার আবৃত্তি শুনে তাকে বলে, ‘খুব ভালো করেছো অথবা মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা’ এই বার্তাগুলোই তার কাজে অনুপ্রেরণা দেয়।

২০১৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে বাবার উৎসাহে ভর্তি হওয়া। ২০১৭ থেকে চট্টগ্রামে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। সহজে কখনো হেরে আসতো না সে। বহু গুণীজনের হাত থেকে পুরস্কার প্রাপ্তি আছে তার, আছে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তিও। এ সব প্রাপ্তিই অনুপ্রেরণা দিয়েছে তাকে। ধীরে ধীরে বাবার স্বপ্নকে বাস্তব করতে গিয়ে ভালোবেসেছে আবৃত্তিকে। এখনো আবৃত্তি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সে।

নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে তার প্রাপ্তি অনেক।২০১৭ ও ২০১৮ সালে পর পর দুই বছর জাতীয় প্রতিযোগীতায় চট্টগ্রাম থেকে প্রথম এবং পুরো বাংলাদেশ থেকে (আবৃত্তি এবং ৭ মার্চের ভাষণ) রানার আপ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে সে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ২০১৬-২০১৯ প্রতিটি প্রতিযোগীতায় সে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়। এছাড়াও চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হয়ে ক্রেস্ট, বই, সার্টিফিকেট অর্জন করে ঐশী।

বিটা কম্পিউটার এডুকেশনে অফিস এপ্লিকেশন কোর্স সম্পন্নকারী ঐশী আর্য্য সঙ্গীতে দুই বছর সংগীত প্রশিক্ষণ, কুইন মেরী ডিবেটিং সোসাইটিতে ইংরেজি বিতর্কের প্রশিক্ষণ এবং চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে দুই বছরের আবৃত্তি বিভাগে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেছে সে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে আবৃত্তি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে ঐশী পাল। সে লায়ন্স ক্লাব রোজ ভ্যালির সদস্য।

এখন কি নিয়ে ব্যস্ত জানতে চাইলে ঐশী জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন আয়োজনে অংশগ্রহণ করছি। অনলাইন মাধ্যমেও আবৃত্তির এতো প্রসার আগে জানতাম না। পূর্বে মঞ্চকেই শেষ মাধ্যম মনে করতাম। করোনার কারণে অনলাইনে আবৃত্তির প্রসার নিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা জন্মালো।তাই নতুনভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছি একটু সময় নিয়ে। বর্তমানে আমার সংগঠন ‘আবৃত্তি আলয় বৈখরী’র জন্য কিছু স্ক্রিপ্ট লিখছি। মায়ের চাকরি সূত্রে ছোট থেকেই বাসার সব দায়িত্ব আমারই থাকে। বাসার সব কাজ ছাড়াও টুকটাক আর্ট, গীতাপাঠ, পড়ালেখা, বাগানে সময় দিই।

আবৃত্তি শিল্পে ঐশীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ‘আবৃত্তি নিয়ে আমার জ্ঞানের পরিধি সীমিত। তাই অনেক বেশি জানার আগ্রহ আছে। এখনো চেষ্টা করি শেখার। শিখার জন্য খুব ভালো কারো সান্নিধ্য পাই নি। গুরু হিসেবে কাউকে পেলে নিজের সব ভুলত্রুটি শুধরিয়ে নিজেকে নির্ভুলভাবে আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রমিত উচ্চারণে সমৃদ্ধ হয়ে প্রমিত ভাষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

আবৃত্তিতে নারীদের উপস্থিতি নিয়ে ঐশীর অভিজ্ঞতা হল- বর্তমানে বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠনে নারীদের উপস্থিতি ব্যাপক। একজন নারী হিসেবে আমি এই জায়গায় গর্বিত। নারীরা এখন পিছিয়ে নেই বরং সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

আবৃত্তি জগতে চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয় ঐশী। ‘প্রথম দিকে সকলের খুব বেশি উৎসাহ ছিলো।সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেহেতু রিহার্সাল শেষ করতে অনেক রাত হতো, তাই পরিবার সাপোর্ট করতো না। অনেকটা লুকিয়েই আবৃত্তি করতাম। আবৃত্তিকে খুব বেশি ভালোবাসি, সব ভালোবাসায় একটু বকাঝকা খেতেই হয়। এই ক্ষেত্রে আমারও তাই হয়েছে।এছাড়াও প্রচুর বাধাগ্রস্ত হয়েছি বিভিন্নভাবে।বর্তমানে নিজের একটি সংগঠন হয়েছে। সংগঠন সামলানো পরিবার সামলানোর চেয়েও অধিক কষ্ট। সংগঠন এবং নিজের শিল্প চর্চাকে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হতে চাই।’

আবৃত্তি আলয় বৈখরীতে দল প্রধান ঐশী পালের সংবাদ পাঠিকা এবং ভয়েস আর্টিস্ট হওয়ার ইচ্ছে আছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো কোনো মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পেশা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে।

তার প্রিয় ব্যাক্তিত্ব আবৃতিজন হাসান আরিফ, প্রিয় খাবার মাছ, প্রিয় ফুল গোলাপ, প্রিয় মুখ মা। অবসরে বাগানের পরিচর্যা, বই পড়া, রান্না করা, ঘর গুছায় ঐশী।

নিজের সম্পর্কে ঐশীর অভিমত ‘অন্যায়কে আপোষ করতে শিখিনি কখনোই। খুবই স্পষ্টভাষী, তাই অনেকের কাছে প্রিয় অনেকের কাছে হয়তো অপ্রিয়। যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা বলেই সকলকে সাথে নিয়ে পথ চলতে শেখা এবং দায়িত্ব কর্তব্যের বোধ জাগ্রত হওয়া পরিবার থেকেই। বর্তমানে একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যা খুবই কম, তাই আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী বলে মনে করি, আমি একান্নবর্তী পরিবারের বড় মেয়ে। পরিবারের সবাইকে খুব ভালোবাসি।সকলের সম্মান বজায় রেখে, আস্থা ও ভালোবাসা সাথে নিয়ে ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন পূরণ করতে চাই এভাবেই।

add

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই”

  1. Ahmed kayes says:

    সুন্দর বায়োগ্রাফি। ঐশী পালের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ