সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন

সাত ভাই চম্পা: মিথ্যার আশ্রয় নিলেও সত্য এক দিন প্রকাশ পায়

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ৫৯১ Time View
নুরুন্নবী নুর

আজ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার গল্প ‘সাত ভাই চম্পা’ পড়লাম। গল্পটির কথা আগে অনেক বার শুনেছি। হালকা-পাতলা কাহিনী পরম্পরাও জানি। তবে কখনো অতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়া হয়নি। তাছাড়া গল্পটিকে ঘিরে অনেকগুলো চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকও নির্মিত হয়েছে। গল্পটি কাল্পনিক হলেও শিক্ষণীয় অনেক কিছুই আছে।

মানুষ নিজেই ভাগ্যের নির্মাতা হলেও গল্পটিতে তার উল্টোটা প্রকাশ পেয়েছে। ভাগ্যে যা লেখা থাকবে, মূলত পরিবেশ-পরিস্থিতি দিন শেষে তা-ই ফিরিয়ে দিবে, আর সেটাই সত্য বলে মেনে নিতে হয়। মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ভাল কিছু বয়ে আনতে পারে না। মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করলেও সত্য এক দিন প্রকাশ পায়।

‘সাত ভাই চম্পা’ হোল বঙ্গীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় একটি রূপকথার গল্প। গল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯০৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ নামক রূপকথার বইয়ে। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘সাত ভাই চম্পা’ রূপকথার গল্পটি ছাড়াও একই নামে আরো রয়েছে বিষ্ণু দে ও আশরাফ সিদ্দিকীর রচিত কাব্যগ্রন্থদ্বয় ‘সাত ভাই চম্পা’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের শিশুতোষ কবিতা ‘সাত ভাই চম্পা’।

‘সাত ভাই চম্পা’ রূপকথার গল্পের বিষয়বস্তু হল- একটি রূপকথা জাতীয় গল্প। গল্পটিতে দেখা যায় ছোট রানির সন্তান হলে বড় রানিরা হিংসায় ফেটে পড়ে। তারা ছোট রানির সাতটি ছেলে ও একটি মেয়েকে হাঁড়িতে করে সরা-চাপা দিয়ে পাঁশগাদায় পুঁতে রাখে। এক সময় সাতটি ছেলে সাতটি চাঁপা ফুলগাছ এবং একটি পারুল ফুল গাছে পরিণত হয়। মালি পূজার জন্যে একদিন সেই বাগানে ফুল তুলতে গেলে পারুল তার ভাইদের ডেকে বলে ‘সাত ভাই চম্পা জাগো রে’। ভাইয়েরা মালিকে ফুল না দিয়ে একে একে রাজা, বড় রানিদের এবং সব শেষে ঘুঁটে-কুড়ানি ছোটরানিকে ডেকে পাঠায়। ছোট রানিকে নিয়ে আসার পর বড় রানিদের ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে। রাজা বড় রানিদের রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেন এবং ছোট রানি, সাতপুত্র ও রাজকন্যা পারুলকে নিয়ে প্রাসাদে ফিরে আসেন।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বিখ্যাত সব রূপকথার রচয়িতা এবং শিশু সাহিত্যিক। প্রধাননত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ নামক বইয়ের জন্য বাঙালি পাঠক সমাজে তিনি অধিক পরিচিত। তার জন্ম ১৮৭৭ সালে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার উলাইল এলাকার কর্ণপাড়া গ্রামে। তার সংগৃহীত রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’, ‘ঠাকুর দিদির থলে’ ও ‘দাদা মশায়ের থলে’। ১৯৫৬ সালে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

লেখক: তরুণ শিল্প সমালোচক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী

Share This Post

আরও পড়ুন