ঢাকাসোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাজা মৃত্যুদণ্ড করার পরেও দেশে ধর্ষণ কমে নি

ডেস্ক
ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: মানবাধিকার দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও আর্টিকেল নাইনটিন যৌথভাবে এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ‘বেইজিং ঘোষণার’ ২৫ বছরে নারীর অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল ছিলেন সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক।

এছাড়া আলোচক ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও কমিশনের মহিলা ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেসমিন আরা বেগমএবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকারিয়া।

অনুষ্ঠানে নাছিমা বেগম বলেন, ‘যে কোন দুর্যোগ, যুদ্ধ ও মহামারিতে নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হন। এই করোনার মত মহামারির সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ শনাক্ত করার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কাজ করছে। ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করার পরেও দেশে ধর্ষণ কমেনি। নারীর অধিকার রক্ষায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, সন্তানদের প্রতি মা-বাবার যত্নশীল হতে হবে, ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধ করতে হবে, নারীকে শোষণ করার মনোভাব পরিহার করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দেশের প্রত্যেক উপজেলায় মানবাধিকার সুরক্ষা ক্লাব করতে চায় যার সদস্য হবে স্কুল কেবিনেটের সদস্য ও কলেজের শিক্ষার্থীগণ।

ড. তানিয়া হক বলেন, ‘বেইজিং ঘোষণার ২৫ বছরে নারী-পুরুষের সম অধিকার চর্চা এবং পুরুষতান্ত্রিক অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য নারী অধিকার আন্দোলন তাত্ত্বিকভাবে যতটুকু এগিয়েছে, প্রায়োগিকভাবে ততটা অগ্রসর হয়নি।’

শাহীন আনাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে নারীর সম্মান-মর্যাদা এখনও পরিপূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি। নারীর প্রতি সহিংসতার ধরন ও মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজের গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠিত নারী তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারলেও অধিকাংশ নারী আজও শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। নারীর প্রত্যেকটি কাজের স্বীকৃতি না থাকার কারণে তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।’

জেসমিন আরা বেগম বলেন, ‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার ও বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতায় মানুষের মন বৈকল্য ঘটছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে পরিপূর্ণ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যারা ধর্ষণ করছে, তাদের সাথে কথা বলতে কেন এ ধরনের কাজ তারা করে সেটা জানাটাও জরুরি। অর্থাৎ এ ধরনের ঘটনার রুট কজ আমাদের জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।’

মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘করোনাকালে নারী ও মেয়ে শিশুদের উপর অত্যাচার-সহিংসতা বেড়েছে। করোনা আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের অবস্থান পুনঃমূল্যায়ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। বেইজিং ঘোষণার আলোকে নতুন করে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।’

ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ঘোষিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাস্তবে নারীরা একজন মানুষ হিসেবে তাদের জন্য প্রদত্ত অধিকারগুলো পুরুষের মতো সমভাবে ভোগ করতে পারে না। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন আইনের প্রয়োগ ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে পালন করতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষ ও বালকদের সম্পৃক্ততা যেমন জরুরি তেমনি হিজরা, তৃতীয় লিঙ্গ ও এলজিবিটিকিউআইদের অধিকারের স্বীকৃতি অকপটে নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Facebook Comments Box