শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিক অপহরণের ঘটনা সংবাদকর্মীদের জন্য উদ্বেগ, ভয়, আতংক ও অশনিসংকেত

রিপোর্টারের নাম / ২৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

খবরের পেছনে ছুটে চলা সাংবাদিকের কোন নির্দিষ্ট অফিসিয়াল সময় নেই। সকালে বেরিয়ে পড়ে সারাদিন খবরের পেছনে ছুঁটেন। অনেক কষ্ট ও কৌশলে কিংবা সোর্সের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করেন। কোন ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটলে সেখানে গিয়ে দ্রুত সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহে দিনের পর দিন একটি ঘটনার পেছনে লেগে থাকতে হয়। সোর্সের তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে নিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পটে যেতে হয়। সে সংবাদ সংগ্রহের পর প্রকাশ যোগ্য করে ডেস্কে জমা দিয়ে বাসায় ফেরার সময় যখন হয় তখন গভীর রাত। সকালে বেরিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফেরার কারণে স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের কাছে নানা রকম জবাবদিহী করতে হয়। যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকেন, তাঁরা অনেক সময় ভবন মালিকের কটু কথাও হজম করেন। আবার সংবাদ প্রকাশের পর সেটি যদি কারো বিপক্ষে চলে যায় তখন সে প্রভাবশালীদের চক্ষুশূল হতে হয়। অনেক সাংবাদিক নিয়মিত বেতন না পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে কষ্টে দিন পার করেও মান-সম্মানের কারণে কাউকে বলতে পারেন না। সব প্রতিকূল স্রোত বেয়ে সাংবাদিক তকমা ও পেশাগত সম্মানের কারণে সাংবাদিকতা পেশা ছাড়া যায় না। ফলে রাতে পেশা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুমানোর পর সকালে আবারো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খবরের পেছনে ছুঁটে চলা। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন সত্য সংগ্রহ ও প্রকাশে গড়িয়ে যায় একজন সাংবাদিকের দিনকাল।

সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও ব্যক্তির অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ পাঠকের কাছে তুলে ধরেন। এতে জন দুর্ভোগ ও অন্যায় রোধ হয়ে মানুষের অধিকার ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি দেশের স্বাধীন সংবাদ পত্র হল গণতন্ত্রের দর্পণ ও শীর্ষ স্বাক্ষর। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকৃত। তবে সব সময় সাংবাদিকরা রাষ্ট্র, সরকার ও দুর্বৃত্তদের চক্ষুশূল। বস্তুনিষ্ঠ, সত্য ও সাহসী সংবাদ প্রচারের জন্য জীবন হারানোসহ নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার অপহরণ তার নিষ্ঠুর উদাহরণ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণে কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদ সাবেক ওসি প্রদীপের রোষানলে পড়ে ঢাকায় লুকিয়ে থেকেও বাঁচতে পারেন নি। ইয়াবা কারবারি তকমা দিয়ে অপরাধী সাজিয়ে তাকেই নিউজের হেডলাইন বানিয়েছিল। অমানুষিক নির্যাতনের পরে তাঁর ঠিকানা হয়েছে কারাগার, হারাতে হয়েছে চোখ। সংবাদপত্রের চারটি কাজের একটি হল প্রভাব বিস্তার করা। একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পর তা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। অনেক সময় সরকারের গদিও টালমাটাল করে দেয়। যখন গণতন্ত্র সীমিত হয়ে সমাজে দুর্বৃত্তায়ান ঢুকে পড়ে, তখন সংবাদপত্রের সত্য প্রচার তাদের গা জ্বালা ও দুর্নীতির অন্তরায় হয়ে দাড়ায়। অনেক সময় সংবাদ প্রকাশের পর দুর্বৃত্তরা সাংবাদিককে প্রভাবিত করা কিংবা হুমকিতে সংবাদ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। নানাভাবে শক্তি প্রদর্শন করে সংবাদ বন্ধের ছবক দেয়। তারপরেও সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্বৃত্তদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে কাজ করে যান। যাঁরা সাংবাদিকতা করেন এবং সাহসী ও অনুসন্ধানীমূলক নিউজ করেন, তারা জানেন প্রতিদিন কি পরিমাণ দরদাম ও হুমকি সহ্য করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্টারের জীবনের ঝুঁকি কিংবা অজ্ঞাত কারণে সে নিউজ আলোর মুখ দেখে না। তারপরেও সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য প্রকাশ থেমে থাকে না। তবে সাংবাদিক অপহরণের ঘটনা সংবাদকর্মীদের জন্য উদ্বেগ, ভয়, আতংক ও অশনিসংকেত। যাঁরা সাংবাদিকতায় আছেন, তাঁরা যেমন আতংকিত তেমনি নতুন করে কেউ এ পেশায় আসতে চাইবে না। এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেশী পথ হাটতে পারবে না। অনেকে পেশা বদলে সাংবাদিকতা জগৎ থেকে অকালে হারিয়ে যাবেন। সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বর্তমান সরকার যদিও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক অপহরণের ঘটনায় সবাই উদ্বিগ্ন।

যদিও সাংবাদিক সমাজের ঐক্যদ্ধ আন্দোলনের চাপে পড়ে দুর্বৃত্তরা গোলাম সরওয়ারকে জীবিত অবস্থায় ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছে। সত্য ও দুর্বৃত্তায়ান কখনো এক সাথে চলতে পারে না। দুর্বৃত্তায়ন রুখে দিতে হবে। দুর্বৃত্তদের সাথে প্রতিদিন মৌন ও অদৃশ্য যুদ্ধ করে সংবাদ প্রকাশে যদিও সাংবাদিক অভ্যস্থ। তবে সাংবাদিকরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। চাই স্বাভাবিক জীবন ও মৃত্যুর নিশ্চিয়তা। তাই সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও সকল দুর্বৃত্তায়ন রোধে রাস্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

লেখক: চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
গণমাধ্যম কর্মী

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ