মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

সমুদ্রের কাছাকাছি

তৌহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশ : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ১১৮ Time View
তৌহিদুল ইসলাম

তৌহিদুল ইসলাম: দিগন্ত জোড়া মাঠের প্রান্তরে যে হিরন্ময় গোধূলিকে পিছনে ফেলে এসেছে তরুলতা, অসীম অতল সাগর তার কাছে বড্ড নস্যি। আয়নায় নিজেকে ঝিনুকমাল্যে সাজাতে চাওয়ার স্বপ্নে বিভোর তরুলতার সাথে আমার একাল ও সেকাল বিলীন করে দিয়েছি আমি।

স্বপ্ন বিলাসের মত্ততা হারানো তরুলতাকে বলেছিলাম, ‘মনে হয়, সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে বোহেমিয়ান যাত্রায় বেড়িয়ে পড়ি। এ নোংরা শহর ছেড়ে চল আবারো আদিম গুহায় ফিরে যাই।’ টোলপড়া হাসিতে সাগরের বালিয়াড়িতে ছোট্ট কুঁড়েঘরকেই বেছে নিয়েছিল তরুলতা।

সাগর পাড়ের প্রত্যেকের মুখেমুখে তরুলতার সে প্রেমের গল্প দিন দিন কাব্য কথার রুপ নিয়েছে। প্রেম ইতিহাসের যতশত কপোতি এ সাগর পাড়ে পা রেখেছে, তারাও তরুলতাকে মনে প্রাণে স্মরণ করে নিজেদের প্রেমিকারুপে কল্পনা বিলাসে মত্ত হয়।

যে প্রেম স্বর্গ থেকে মর্তে নেমে এসে প্রেম কাননে গোলাপ ঝাড় সাজিয়েছে, সেখানে এখন প্রেম যেন কণ্টকাকীর্ণ কাঁটা হয়ে রক্ত ঝড়ায়। সাগর তীরে বয়ে আসা প্রতিটি ঢেউ মনে করিয়ে, দেয় তরুলতার সোনালি অতীত।

বিস্তীর্ণ বালুকা বেলায় খালি পায়ে হেঁটে চলা, কখনো সখনো রুক্ষ ডুবো পাথরে আঁচরে দেহে মনে যে শীর্ণতা অনুভব হয়; নিয়তি ভেবে তরুলতা মেনে নিয়েছিল, সে আঘাত। এটাই তবে প্রাপ্য ছিল হয়তো!

তরুলতা নেই! সাগরের সূর্যালোকিত ভোর ইদানিং বড্ড পানসে লাগে আমার। গোধূলি চূর্ণ আকাশে ভর করে মন খারাপের কালো মেঘ। নিয়মের বেড়াজালে বন্দি এ দিন যাপনে বিরক্তি এসে গেছে। একঘেঁয়েমিতে পেয়ে বসেছে কাজে-কর্মে, চিন্তা-চেতনায়।

জীবনের অভিজ্ঞতা ইশারায় দেখিয়ে দেয়, প্রতিটি অভিমানী গল্পের শুরু থাকে শেষ থাকে না। কালের গহ্বরে তরুলতাদের জীবনে আসা চরিত্রগুলি বিলীন হতে হতে মিশে যায় এক সময়। শুধু ভালবাসার রেশ সাগর তীরের তপ্ত বালুকণা হয়ে উড়ে যায় অসীমের শুন্যতায়।

ভরা জোছনায় আমি আবারো ফেনীল সমুদ্রে মিশে যেতে চাই। সমুদ্রের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বলতে চাই- তরুলতা, আমি আজন্ম নীলের সাথে সখ্যতা গড়ে রোদ্দুরের শালিক হতে চেয়েছিলাম। আমি গাঙচিল হয়ে সাগরের জলরাশিতে তোমার তরীর বৈঠা বাইতে চেয়েছিলাম।

লেখক: স্বাস্থ্য কর্মী ও কলাম লেখক

Share This Post

আরও পড়ুন