মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

সপ্তাহব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১
  • ১৪ Time View

ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবার মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ সোমবার (২ আগস্ট) শুরু হয়েছে। এ বছর ২-৭ আগস্ট এ সপ্তাহটি পালিত হচ্ছে। অনলাইনে এ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মাতৃদুগ্ধ দান সুরক্ষায়: সকলের সম্মিলিত দায়’।

উদ্বোধনকালে বিভিন্ন জরিপের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ পান করালে নবজাতকের মৃত্যুর হার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। আর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করালে (এক ফোটা পানিও নয়) শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি আরো ১৩ শতাংশ কমে যায়। তাই শিশুর মৃত্যুহার রোধে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জন্মের এক ঘন্টার মধ্যেই মায়ের দুধ পান, পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান এবং পূর্ণ ছয় মাস বয়সের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত ঘরে তৈরি খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।’

বিশ্বব্যাপী শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর হার এখনো অনেক কম। বিশ্বব্যাপী মাত্র ৪৩ শতাংশ নবজাতককে জন্মের এব ঘন্টার মধ্যে এবং ৪১ শতাংশ শিশুকে পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানো হয়। বাংলাদেশে এ হার বর্তমানে যথাক্রমে ৬৯ শতাংশ এবং ৬৫ শতাংশ। শিশুকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করানোর হার এখন ৮৭ শতাংশ, যদিও ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশুর পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানোর হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তা অর্জন করেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

২০০৯ সালে বিশ্বমাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ১-৭ আগস্ট বিশ্বমাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে নিরাপদে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে ঢাকা শহরে ২৫টি, বিভাগীয় শহরে পাঁচটি, জেলা শহরে ১৩টিসহ মোট ৪৩টি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে। এছাড়াও গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের সন্তানদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জের প্রতিটিতে ৩০ আসন বিশিষ্ট ১৫টি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে। হত দরিদ্র গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ভাতা ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা করা হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ভাতার মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু। সভা সঞ্চালনা করেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডাইরেক্টর ডাক্তার এসএম মোস্তাফিজুর রহমান।

খবর পিআইডির

Share This Post

আরও পড়ুন