শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সন্দ্বীপ নদী সিকস্থি পুনর্বাসন সমিতির আন্দোলন ও বাস্তবতা

মো. জহির উদদীন বাবর / ২৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সন্দ্বীপ পৃথিবীর মানচিত্রে এক ব্যতিক্রম এবং প্রকৃতির আশীর্বাদ পুষ্ট একটি দ্বীপ। এক সময় সন্দ্বীপের মানুষ ছিলো কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক মুল্যবোধের প্চাৎপদতার কারণে আমরা সবাই রেমিটেন্স নির্ভর হয়ে পড়েছি। যদিও কৃষির দূরাবস্থার জন্য কিছুটা সরকারী নীতি এবং স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবও দায়ী।

সন্দ্বীপের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫৪ সালে ভাঙ্গন শুরু হওয়ার আগে এ দ্বীপের আয়তন ছিল ২৯৪ দশমিক ৩৭ বর্গ মাইল বা ৭৬২ দশমিক ৪২ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপে রয়েছে একাধিক শিল্প বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা। হতে পারতো পৃথীবীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা এবং অর্থনীতির মেশিন। কারণ এখানে তিনটি শিল্পের বিকাশের সব ধরনের পরিবেশ রয়েছে। যথা- পর্যটন শিল্প, মৎস ভিত্তিক শিল্প ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প। এ তিন শিল্পকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা যদি দ্বীপটি সাজাতে পারি, তাহলে এ দ্বীপটিও হতে পারতো আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ। কিন্তু আমাদের অপরিণামদর্শী ও মতলববাজ কিছু নীতি নির্ধারকের কারণে আমরা এ সম্ভাবনা ধ্বংস করছি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর মত একটা আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষেত্রে ভুল প্রদক্ষেপ নিয়ে। যদিও রোহিঙ্গা হস্তান্তর দীর্ঘায়িত হচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা এবং কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে। যাক সে বিষয়ে বিস্তারিত অন্য এক দিন লিখবো।

আমি এখন নজর দিতে চাই সন্দ্বীপের সীমানা জটিলতা ও সন্দ্বীপের ভুমি দখল বিষয়ে। সন্দ্বীপ চট্রগ্রামের অধীনস্ত হলেও মাঝখানে কিছু দিন রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে নোয়াখালীর অধীনে চলে যায়। তারই ফলস্বরুপ ১৯৫৪ সালে রাজনৈতিক ভাগ-ভাটোয়ারা করতে গিয়ে তখনকার নেতারা ১৫টি মৌজা নোয়াখালীকে ছেড়ে দেয়। মযা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং সংবিধান বিরোধী।

আবারো বলছি, সন্দ্বীপের মূল আয়তন ছিল ৭৬২ দশমিক ৪২ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৫৪ সাল থেকে এ এলাকাগুলো ভাঙ্গন শুরু হলে এটা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে মাত্র ৯২ বর্গ মাইলে এসে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং ভাঙ্গনের প্রভাবে সন্দ্বীপের অধিবাসীরা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ বাক্য করেনি।

১৯৯০ এর দশক পর্যন্ত ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বর্তমান নোয়াখালী টাউনের পাশের সন্দ্বীপের সর্বশেষ ইউনিয়ন সুধারামপুর থেকে ন্যায়মস্থি পর্যন্ত ভেঙ্গে যায়। যদিও বর্তমানে ৫৯২ বর্গমাইলেরও বেশি চর জেগে উঠায় ৭৬২ বর্গমাইল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু নোয়াখালী প্রীতি প্রশাসন সন্ধীপের জমি দখল করে চলেছে বহু দিন আগে থেকেই। নোয়াখালী জেলার অধীনস্ত ২০০৬ সালের নবীনতম উপজেলা কবিরহাট এবং সুবর্ণচর সন্দ্বীপের ভুখন্ডে অবস্থিত। আমরা আমাদের ভূমি পুনরুদ্ধার আন্দোলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার তারা হাত বাড়িয়েছে উরির চর, জাহাজ্জার চর এবং ভাসান চরের দিকে।

নদী ভাঙ্গা এবং চর জেগে উঠার সময় হিসাব করলে দেখায় যায়, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন তথা বর্তমান ভাসান চর অক্ষত থাকে। সেই হিসাবে ন্যায়মস্থি ইউনিয়ন ভাঙ্গার এবং চর জেগে উঠার সময় ব্যবধান ২৪ বছরের কম। বাংলাদেশ সরকারের সিকস্তি এবং পয়স্তি বিষয়ক একটা আইন এর খসড়া দ্যা অ্যালিউভিয়াল এক্টট ২০২০ প্রনয়ন করেছেন। যাতে ১৮৮৭ সালের বৃটিশ উপনিবেশিক আইনটিকে রিফিল করে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম কথা হচ্ছে, স্বাধীনতার এতো বছর পরেও আমরা আমাদের প্রয়োজনে আমাদের মত করে আইনের কাঠামো এবং সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে পারি নি। আইনে এতো পুরাতন রেফারেন্স থাকায় স্বাধারণ মানুষ আইন বুঝতে সমস্যা হয়। অবশ্য তাতে একটা সুবিধাবাদী মহলের লাভ। তারা জনগণকে অন্দ্ধকারে রেখে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে পারে। কারণ এখনকার সময় তো ভূমি দস্যুরাই এমপি মন্ত্রী হয়। যাক সে কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর কর্মকর্তারা আইন প্রণয়নের যোগ্য নয়? নাকি আমরা আইন প্রণয়নে সক্ষম জনপ্রতিনিধি সংসদে পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছি?

এবার আইনের মূল বক্তব্যে আসা যাক। আমরা দেখি, ১৮৮৭ সালের আইনে কি বলে। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, যদি কোন ভূমি ভেঙ্গে গিয়ে ৩০ বছরের মধ্যে চর জেগে উঠে, তাহলে সেই জমি তার পূর্ববর্তী মালিকদের হস্তান্তর করা হইবে। এবং যদি সময় ৩০ বছরের বেশি হয় তাহলে প্রথমে জমি খাস ঘোষণা করা হবে এবং পরে মালিক চিহ্নিত করে মালিকদেরকে হস্তান্তার করা হবে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে মালিক পাওয়া না গেলে ভূমিহীন জনগনের মাঝে বিতরণ করা হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে ন্যায়মস্তি বা ভাসান চর বর্তমান আইনেই তার পূর্বরর্তী মালিকদের সম্পত্তি।

এখন আমি এ আইনের ব্যাপারে কিছু প্রারম্ভিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। ১৪০ বছর আগে বৃট্টিশরা যখন এ আইন করে, তখন কিন্তু রেকর্ড রাখার অভাবে মালিক নির্ধারণ কঠিন ছিলো। তখন স্যাটেলাইট ম্যাপ, ডিজিটাল পদ্ধতি কিছুই ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে মুহূর্তেই বের করা যায় কার জমির মালিক কে? সতরাং পূর্ববর্তী মালিকদের কাছে জামি ফিরিয়ে দেয়া খুবই সহজ ব্যাপার। সেই হিসাবে জেগে উঠা সব ভূমির মালিকানা তার পূর্ববর্তী মালিকের। তাই সরকার বা যে কোন সংস্থা মালিকের অনুমতি ছাড়া ওই ভূমি দখল বা ব্যবহার সম্পূর্ণ অন্যায় ও দেশের প্রচলিত আইন নিয়ম কানুন এবং সংবিধান বিরোধী। সরকার নিজেকে যদি জনগণের সরকার মনে করে, তাহলে এ ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে বিরত থাকবে বলে মনে করি।

এখন আসা যাক ৩০ বছর পরে জেগে উঠা ভূমিগুলোর বন্টন কিভাবে হবে? মহাবিশ্বের দুইটা মৌলিক জিনিস হচ্ছে স্থান এবং কাল। স্থান বা ভুমি হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।কেউ যদি কোন জায়গার মালিক হয়, তাহলে সেটা কি মাটি? নাকি পুকুর? নাকি সাগর মহাসাগর? সেটা বিবেচ্য নয়। বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে জমিটি কার? তাছাড়া এক সময় নদী থেকে কোন আয় রোজগারের সম্ভাবনা ছিল না বলে কেউ দাবিও করত না। কিন্তু বর্তমানে এ নদী সাগর মহাসাগরে যোগ হয়েছে ব্লু ইকোনমি। তাই মালিকের জমি মালিককেই ফেরত দেওয়া আইনসম্মত।

এবার ভেবে দেখি এটা করলে রাষ্ট্রের কি লাভ? আপনারা প্রায়ই দেখবেন, বিভিন্ন শহরে বস্তিতে কিছু ভাসমান মানুষ আছে, যাদের ৪০ ভাগই হচ্ছে, এই নদী ভাঙ্গার কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানো। এখন যদি এ ভূমি মালিকদেরকে তার পূর্ববর্তী ভূমিতে পুনর্বাসন করা যায় তাহলে তারা কৃষিতে স্বাবলম্বী হয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। অন্যদিকে, শহরে ভাসমান মানুষের চাপ কমে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং জীবনযাত্রার মান বাড়বে।

এ তো গেলো সরকারের ভাসান চরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের কথা। রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের ফলে সন্দ্বীপের মগের মুল্লুক শুরু হবে। আপনারা হয়তো জানেন, আমাদের দেশে মগের মুল্লুক নামে একটি প্রবাদ আছে। বাংলা সাহিত্যে এ প্রবাদের উৎসই কিন্তু এ রোহিঙ্গারা। এরা মায়ানমার সরকারের কাছ থেকে বঞ্চিত হতে হতে হিংস্র এবং অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এ ১১ লাখ রোহিঙ্গা যদি ভাসান চরে যায়, তাহলে সন্দ্বীপবাসী হবে নিজ ভূমিতে সংখ্যালঘু। মাদক, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ হবে একটি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। শান্তি প্রিয় সন্ধীপবাসীর জন্য এর চেয়ে বড় দুঃসংবাদ আর কি হতে পারে? তাই যে সব জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক সুবিধা হারানোর ভয়ে চুপ মেরে আছেন এবং এটাকে তেমন গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন না, তাদের প্রতি অনুরোধ রইল এখনি এক্যবদ্ধভাবে এ পুনর্বাসন প্রতিহত করুন। নইলে ইতিহাস ও সন্দ্বীপবাসী কেউ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।

লেখক: সমাজ কর্মী

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ