শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

সততার পুরস্কার: প্রকৃত অভাবীরা কখনো সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যায় না

নুরুন্নবী নুর / ১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠের প্রথম গল্প ‘সততার পুরস্কার’। লিখেছেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। গল্পটি নেওয়া হয়েছে ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচনাবলি’ থেকে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এ গল্পে হাদিসের কাহিনী অবলম্বনে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা ও নৈতিক শিক্ষামূলক বিষয় উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। গল্পটির মূল বাণী হল- আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন এবং সৎ লোককে যথাযথ পুরস্কৃত করেন।

‘ইহুদি বংশের তিনজন লোককে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। তিনজনের একজন ধবল রোগী, একজন ধনী ও আরেকজন অন্ধ। ফেরেশতার অনুগ্রহে তিনজনই সুস্থ, স্বাভাবিক চেহারা পেল। উপরন্তু প্রথমজন একটি উট উপহার পায়, যা থেকে সে পরে অনেক উটের মালিক হয়। দ্বিতীয়জন একটি গাভি থেকে বহু গাভি এবং তৃতীয়জন একটি ছাগল থেকে অনেক ছাগলের মালিক হয়।

অনেক দিন পর ফেরেশতা একজন অসহায় মানুষের ছদ্মবেশে প্রথমজনের কাছে গিয়ে তার আগের দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারপর সে একটি উট ভিক্ষা চায়। কিন্তু লোকটি তার আগের অবস্থা অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়জনও একই কাজ করে। কিন্তু তৃতীয়জন সত্যকে স্বীকার করে তার সব সম্পদ দান করতে রাজি হয়। আল্লাহ তৃতীয় ব্যক্তির ওপর খুশি হয়ে তার নিজস্ব সম্পদ ভোগের অধিকার দেন। অন্য দুজন পায় শাস্তি।’

মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সততার পুরস্কার গল্পটি থেকে শুধু কোমলমতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক ধ্যানধারণার উন্মেষ ঘটাবে না, এটি সব মানবজাতির জন্য মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন উপকারী গল্পও বটে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, ‘‘অবশ্যই কষ্টের পর স্বস্থি আছে।’’

আমাদের সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে, জানতে হবে। প্রকৃত অভাবীরা কখনও সৃষ্টিকর্তাকে, তাদের দুঃসময়ে ভুলে যায় না।

সৃষ্টিকর্তা যখন, যাকে যেভাবে রাখেন, তাকে সেভাবে সবকিছু সত্য বলে গ্রহণ করতে হবে। কোন মতেই খোদা নারাজী কথা আমাদের বলা উচিত না। নিজের অবস্থানকে নিয়ে, কখনো আমাদের অসন্তোষ থাকতে নেই। কারণ, আমাদের জন্মটা যেখানেই হোক, পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনটা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, পৃথিবীটা হচ্ছে পরীক্ষাগার। প্রতিনিয়ত আমরা পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। যতই আমাদের খারাপ সময় আসুক না কেন, সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গেলে চলবে না। যখনই আমরা খারাপ মুহূর্তের মুখোমুখি হব, তখনই আমাদের ভালো মুহূর্তগুলোর কথা ভাবতে হবে। হতাশ ও দুঃশ্চিন্তা করে লাভ নেই। যারা হতাশ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ে, তারা কখনো খারাপ সময় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তাদের পিছনে খারাপ সময় লেগেই থাকে।

যতই আমাদের ওপর বিপদ আসুক, ততই ইমান মজবুত রাখা জরুরী। একইভাবে যতই আমরা সুখে থাকি, আমাদের খারাপ থাকার কথা ভুলে গেলে চলবে না। খারাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান মুহূর্তটাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। তাছাড়া খারাপ সময়ে, যারা পাশে থাকে, তাদের মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে এ জন্য যে, এরা সংখ্যায় খুবই কম থাকে। ভালো থাকার মুহূর্তে একমাত্র তাদেরই কাছে ভালোটা প্রকাশ করতে হবে।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯১০ সালে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বিএ অনার্স ও ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এমএ পাস করেন। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ছাত্র। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। ছোটদের জন্য তার লেখা রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘শেষ নবীর সন্ধানে’ ও গল্প মঞ্জুরী’। তার সম্পাদয় শিশু-পত্রিকা ‘আঙুর’ প্রকাশিত হয়। ‘বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান’ সম্পাদনা তার অসাধারণ কীর্তি। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

সহায়কগ্রন্থ: চারুপাঠ- ষষ্ঠ শ্রেণি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ