রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

শ্রমিক হত্যার বিচার ও মামলা প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিএলএফের

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২১ Time View

চট্টগ্রাম: বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বাধায় বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন (বিএলএফ) আয়োজিত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল না করে মানব বন্ধন করে বিএলএফ। সমাবেশ ও মানববন্ধন বক্তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএলএফেে নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব বন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। আবু আহমেদ মিঞার সঞ্চালনায় সমাবেশে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএলএফ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি রবিউল হক শিমুল, প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি ছিদ্দিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক হাসান মারুফ রুমি, জেলা বিএলএফের সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, সীতাকুন্ড অটোরিকসা অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান, চট্টগ্রাম জেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ, বিএলএফের সহ সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, ইয়াছিন মিয়াজী, হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম ফিরোজী, কার্যকরী সভাপতি জসিম উদ্দিন, আবদুল হাকিম, আমির হোসেন, মহানগর যুব কমিটির সভাপতি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অনলাইন রেন্ট ই কার সভাপতি মিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, মহানগর অনলাইন রেন্ট ই কার সভাপতি হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ, কোতোয়ালী থানা টাইলস মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ফেরদৌস, গ্যারেজ মোটর মেকানিক নেতা জাহাঙ্গীর, বায়োজিদ থানা কমিটির মো. সুমন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইফতার ও নামাযের সময় বরাদ্দসহ দশ দফা দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

বক্তারা দ্রুত এ নির্মম ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, “হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ মিলেনি।’

দ্রুত হতাহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় চট্টগ্রাম থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘পুলিশ নানানভাবে শ্রমিকদের এখনো হয়রানি করছে।’

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। হয়রানির ভয়ে অনেক শ্রমিক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভের পেছনে কন্ট্রাকটার ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ দেওয়াকে দায়ী করে বিএনএফ নেতারা বলেন, ‘অবিলম্বে কন্ট্রাকটার ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে সরাসরি শ্রমিকদের নিয়োগ দিতে হবে।’

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আন্দোলনরত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিএলএফ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকদের সব দাবী মেনে নেয়ার জন্য জোর দাবি জানান এবং শ্রমিকদের সব আন্দোলন সংগ্রামের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

প্রেস বার্তা

Share This Post

আরও পড়ুন