রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

শ্রমজীবীদের অধিকার বঞ্চিত রেখে শ্রম আইন সংশোধন শ্রমজীবী মানুষ কখনো মেনে নেবে না

পরম বাংলাদেশ
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ৩৭৬ Time View

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উদ্যোগে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনকল্পে মঙ্গলবার (২ মার্চ) সকাল দশটা হতে দিনব্যাপী এক পর্যালোচনা সভা চট্টগ্রাম সিটির স্টেশন রোডস্থ এশিয়ান এসআর হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বিলস-এলআরএসসি সেন্টার কোর্ডিনেশন কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ শফর আলীর সভাপতিত্বে ও ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় শ্রম আইন সংশোধনকল্পে লিখিত সুপারিশমালা উত্থাপন করেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ শ্রমিক নেতা তপন দত্ত।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী, বিলস সেন্টার কোর্ডিনেশন কমিটির চেয়ায়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি শ্রমিক নেতা এএম নাজিম উদ্দিন, প্রবীণ আইনজীবী জানে আলম, সিনিয়র সাংবাদিক সুভাষ চন্দ্র দে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী, শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক সাব্বির ভুঁইয়া, ইন্ডাস্ট্রি অল গ্লোবাল ইউনিয়নের কান্ট্রি কোর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, সংসপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী, ইপসার প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুহাম্মদ আলী শাহীন, ব্লাস্টের কর্মকর্তা জিন্নাত আমিন, টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, বিলসের সিনিয়র কর্মকর্তা পাহাড়ি ভট্টাচার্য, রিজওয়ানুর রহমান খান, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেএম শহিদুল্লাহ, জাতীয় শ্রমিক লীগের উজ্জ্বল বিশ্বাস, আব্দুর রহিম মাস্টার, মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

সভায় শ্রম আইনের গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক নির্বিশেষে শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন করার সময় প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকের কমপক্ষে ২০ শতাংশ সদস্য অন্তুর্ভূক্ত করার শর্ত যুক্ত করার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল করা হয়েছে। এ ধরনের শর্ত আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ এর সাথে সাংঘর্ষিক। তাই শ্রম আইনের ১৭৯ ধারা পরিবর্তন অপরিহার্য্য।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী শ্রমিকদের মত বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী শ্রমিকেরাও যাতে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পায়, সেই ব্যাপারে শ্রম আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে।’

সভায় বলা হয়, ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রনয়নের পর ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে দুই বার বড় ধরনের সংশোধনী হলেও শ্রমিকদের ন্যায়সংগত অধিকার কখনো আমলে নেয়া হয়নি। ফলে একটি গণতান্ত্রিক ও শ্রমিক বান্ধব শ্রম আইন প্রণয়ন অধরাই রয়ে গেছে।’

পূর্বের মত এবারো অর্থনীতির চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মানুষকে তাদের অধিকার বঞ্চিত রেখে শ্রম আইন সংশোধন করা হলে, তা বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কখনো মেনে নেবে না বলে সভায় হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়।

নিউজ রিলিজ

Share This Post

আরও পড়ুন