শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ পিএইচপি অটো মোবাইলসের তৈরি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সোতোকান কারাতে স্কুল চট্টগ্রামের কারাতে বেল্ট প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চট্টগ্রামের পাহাড় অপরাজনীতি, অপেশাদার আমলাগিরির শিকার হাটহাজারী নাজিরহাট কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

শৈবাল চৌধূরীর চলচ্চিত্র বিষয়ক বই ‘স্ক্রীন’র পোস্টমর্টেম

নুরুন্নবী নুর / ৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ মে, ২০২১

নুরুন্নবী নুর: চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগে অধ্যয়নকালীন চলচ্চিত্র বিষয়েও খানিকটা জানার আগ্রহ ছিল। আমাদের চতুর্থ বর্ষে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াতেন অতিথি শিক্ষক শৈবাল চৌধূরী। ২০১৪ সালে পর থেকে বিভাগে তিনি নিয়মিত চলচ্চিত্র বিষয়ে তাত্ত্বিক বিষয়ে পড়ান। আমি যখন দ্বিতীয় বর্ষে তখন থেকে ভদ্রলোককে অনুসরণ করছি। ছাত্র না হওয়ার পরও ভদ্রলোককে এমনিতে ট্রেন বা গাড়ি অব্দি পৌঁছে দিতাম। আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করত সে তখন থেকে। তিনি যখন আমাদের ক্লাসে পড়াতে আসতেন, তখন বিষয়টা আমার ব্যাচমেটদের বলতেন। শুধু এগিয়ে দেয়া না, স্যারের প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রেও আসা-যাওয়া হত।

এভাবে স্যারের সাথে সখ্যতা তৈরি হতে হতে তিনি আমার চলচ্চিত্রের অভিভাবক বনে গেলেন। সবখানে অকপটে বলি, তিনিই আমার চলচ্চিত্র গুরু। তার হাতে আমার চলচ্চিত্রের প্রথম হাতেখড়ি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পরও এখনো সমান তালে যোগাযোগ রয়েছে। উনিই উল্টা খবর নেন। শিক্ষক হিসেবে কোন দিন ট্রিট করেননি, অভিভাবকের মত, বন্ধুর মত চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিষয়ে বুঝান। যখনই চলচ্চিত্র চর্চা করতে গিয়ে ভুল পথে পরিচালিত হই, তখনই দেবদূতের মত এসে সংশোধন করে দেন। উনার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

শুরুতে এত ভূমিকা করার নিশ্চয় কারণ রয়েছে। কিছু দিন আগে স্যারের চলচ্চিত্র ‘ভূমিকম্পের পরে’ দেখলাম। অবশ্য তখন আমরা স্যারের সরাসরি ছাত্র। নেপথ্য কাজ করারও সুযোগ হয়েছে। তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিখেছিলাম, ব্যবহারিক দিকটাও। অবশ্য অতটা বলার মত সক্রিয় ছিলাম না।

মাঝখানে স্যারের উপহারকৃত সত্যজিৎ রায়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্র বিষয়ক ‘রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা’ বইটি পড়েছিলাম। বেশ ভাল বই। প্রিয় চলচ্চিত্রকারের চলচ্চিত্র নিয়ে যে লিখে আমার কাছে সেও আপন হয়ে উঠেন। বিভাগীয় ও আমার প্রথম কাজ ছিল স্যারের তত্ত্বাবধনে স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘উপযুক্ত’। একদম কাঁচা হাতে করা কাজ।

মাস্টার্সে অবশ্য আরেক জন নিয়মিত শিক্ষক চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়িয়েছেন। তার কাছে শিখেছি, প্রমাণ্য চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখার ধরন। উনার তত্ত্বাবধানে ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে ২৪ মিনিটের প্রামাণ্য চিত্র ‘অসমাপ্ত ঋত্বিক’ তৈরি করা হয়েছে। করোনাকালে মুক্তি দিতে পারিনি। খুব শিগগিরই মুক্তি দেয়ার আশা আছে।

সম্প্রতি খড়িমাটি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত শৈবাল চৌধূরীর নতুন চলচ্চিত্র বিষয়ক বই ‘স্ক্রীন’ পড়লাম। বইটিতে লেখক চলচ্চিত্রের হারিয়ে যাওয়া কিছু মানুষ ও ইতিহাসকে সময়ের আবর্তনে ধারাবাহিকভাবে তুলে এনেছেন। প্রবন্ধকারের লিখিত প্রতিটি লেখা তিনি জাতীয় পত্রিকায় লিখে রেখেছিলেন। সে সব লেখায় চলচ্চিত্রের মানুষদের গল্প তুলে এনেছেন, তুলে এনেছেন চলচ্চিত্রের জানা-অজানা অনেক বিষয়, চলচ্চিত্রের চেনা-অচেনা মানুষের পরিচয়, চলচ্চিত্র সাহিত্যের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকটাও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়াও চলচ্চিত্রকার, শিল্পী, কলাকুশলী, সাহিত্যস্রষ্ঠা, নাট্যব্যক্তিত্ব, বহু দেশের বহু ছবির ধারণাসহ চলচ্চিত্র সমালোচনা, চলচ্চিত্র আংগিক, ধরন ও নানা পত্রিকার কথা।

স্ক্রিনে তিনি একাধারে সিনেমা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও জীবনের মিশেল ঘটিয়েছেন। চলচ্চিত্রের নতুন পুরাতন সব ধরনের বিষয় নিয়ে লেখা আছে বইটিতে। বইটি পড়তে আমার এক মাস ১৮ দিন সময় লেগেছে। যে কদিন বইটি নিয়ে ছিলাম, চলচ্চিত্র আবহের মধ্যে হাবুডুবু খেয়েছি মনে হল। স্বল্প সময়ে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রকারদের সম্পর্কে যা জেনেছি, তা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বইটির মাধ্যমে গুণী ব্যক্তি ও তাদের সৎ কাজ সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করেছে। আজকাল এমন পূর্ণাঙ্গ লেখা খুবই কম। চলচ্চিত্র সম্পর্কে কম জানা যায়।

তিনি তার বইটির ‘নিজের কিছু কথা’ প্রবন্ধে বলেন, ‘তিনি দৈনিক আজাদীতে ১৯৯৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর ধরে লিখেছেন সাপ্তাহিক কলাম স্ক্রীনে। মোট ৮০০ সংখ্যার মধ্যে স্ক্রীন কলামটি লেখা হয়েছে ৭০০ সংখ্যার মতো। যে লেখা সংরক্ষণ করতে পেরেছেন, সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু নিয়ে ‘স্ক্রীন’ গ্রন্থ। ‘স্ক্রীন’ বানানটি স্ক্রিন না লেখার কারণ হিসেবে জানান, কলামটি স্কীন নামেই ১৮ বছর ধরে নাকি লিখে গিয়েছেন।

স্ক্রীনকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৬৩২ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট বইটির প্রথম ভাগের চলচ্চিত্র, শিল্পী, কলাকুশলী, সাহিত্যস্রষ্টা, নাট্যব্যক্তিত্ব অংশে ধারাবাহিকভাবে আলোচিত হয়েছে- হীরালাল সেন: উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক, চলচ্চিত্রে নজরুল, অষ্টমীতেই বিসর্জন, অপর্ণার সুবর্ণজয়ন্তী, শ্রদ্ধাঞ্জলী: পল নিউম্যান, অবশেষে সৌমিত্র, শ্রদ্ধাঞ্জলী: আবদুল্লাহ আল মামুন,বৃত্ত থেকে বিন্দু, কিছুক্ষণ আরো না হয় রহিতে আছে, চলে গেলেন দুই কবি, রোজীর অকাল প্রয়াণ, মৃণাল সেনকে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী, বিদায় বেবী ইসলাম; বাদল ভাই, শেষ কথা রাখা হলো না; স্মরাণাঞ্জলি: রফিকুল বারী চৌধুরী, স্বাগত সৌমিত্র, জন্মদিনে ফাসবিন্ডারকে স্মরণ, সৌমিত্র সংবাদ, শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে এক দিন, সজ্জন এক শিল্পীর বিদায়, এলড্রেড গ্রেগরী পেক: লা জোলার সেই ভুবন বিজয়ী ছেলে, শ্রদ্ধাঞ্জলী: গোলাম মোস্তাফা, একে একে নিভেছে দেওটি, বিদায়-তারেক শাহরিয়ার, স্ট্যানলি কুব্রিক: বৈচিত্র্য পিয়াসী এক চলচ্চিত্রকার, হিমাদ্রি চৌধুরীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী, গুডবাই ফার্স্টলেডি; শেষ চিঠি, উপলকে; তোমাকে যেন ভুলে না যাই, অমরীশ পুরীর বিদায়, শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী: এমএ সামাদ, বুলবুলের বিদায়, শ্রদ্ধাঞ্জলী: রওশন আরা, ফাতিহ্ আকিনের ছবি; বিদায় তারেক ভাই, মিশুক ভাই বিদায়; বিদায়: আজমল হুদা মিঠু, বিদায়: শিবলি সাদিক, একজন পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী, ৯০তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী- সত্যজিতের প্রতি, মোস্তাফা আক্কাদ-ধর্মীয় রাজনীতির নির্মম বলি, হ্যারল্ড পিন্টার: সমঝোতার যুগে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, হ্যারল্ড পিন্টারের চলচ্চিত্র জীবন, বিদায়: রওশন জামিল, বিদায় সালাহ্উদ্দিন, ক্যাথরিন হেপবার্ন: পরিশীলিতা এক শিল্পচারিনী, আরো আলো আরো আলো এ নয়নে তুমি ঢালো, শতবর্ষে ছবি বিশ্বাস, সন্ধ্যারানী: পর্দায় বঙ্গজননী, গুন্টার গ্রাসের নোবেলও ভলকার শ্লোনডর্ফের অস্কার, মৃণাল সেন: শুভ জন্মজয়ন্তী, আলফ্রেড হিচকক: পরিশীলিত থ্রিলারের জাতস্রষ্টা, বসন্ত বিদায়, স্মিতা পাতিল: চলচ্চিত্রের এক অতিথি পাখি, ‘হ্যালো চার্লি’: হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, আলমগীর কবির, সফল একজন সংগঠক; বাংলা চলচ্চিত্রের নান্দীকার, ছায়া দেবী: অন্তিম শ্রদ্ধাঞ্জলী, জহির রায়হান ও আলমগীর কবির, দি ব্যালাড অফ এ ডিরেক্টর, ঋত্বিক ঘটক: প্রচলিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন যিনি, এন এ্যাকট্রেস ইন টাইম’, সৌমিত্র কাহিনী, শ্রদ্ধাঞ্জলী: হাসমত, শেখ নিয়ামত আলীকে নিয়ে শেষের কথা, ‘সংস হিজ মাদার থট’, স্মরণ: জহির রায়হান, এন্থনি কুইনের বিদায়, অপর্ণার লোকার্নো বিজয়, আকিরা কুরোসাওয়ার প্রয়াণ, চির অপর্ণার: বিদায় আবুল খায়ের, সকৃতজ্ঞ শ্রদ্ধাঞ্জলি: ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রতি, আফ্রিকার চলচ্চিত্র ও ওসমান সেমবেন এবং শশী কাপুর: পরিশীলিত একজন চলচ্চিত্র শিল্পী।

দ্বিতীয় ভাগে বহু দেশের বহু ছবির অংশে আলোচিত হয়েছে- বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সুবর্ণ জয়ন্তী, কোরিয়ার ছবি, ফরাসি দেশের ছবি, হিন্দি সিনেমায় নতুন বাঁক, ইউরোপের চলচ্চিত্র, জার্মানির চলচ্চিত্র, ইরানের চলচ্চিত্র, আফগানিস্তানের চলচ্চিত্র, জাপানের চলচ্চিত্র ও হলিউডের কথা।

তৃতীয় ভাগে চলচ্চিত্র সমালোচনা অংশে আলোচিত হয়েছে- সুনীল ও গৌতমের মনের মানুষ, অযান্ত্রিকের ৫০ বছর, একদিন অরণ্যে, অনীক দত্তের আশ্চর্য প্রদীপ, ঘেটুপুত্র কমলা: হুমায়ূন আহমেদের সোয়ান সঙ, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মনপুরা ও মি. অ্যান্ড মিসেস আয়ার।

চতুর্থ ভাগে চলচ্চিত্রের আঙ্গিক, ধরন, পত্রিকা অংশে আলোচিত হয়েছে- সায়েন্স ফিকশন মুভি, ফিল্ম উইদিন ফিল্ম, বায়োপিকের কথা, বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাস, প্রসঙ্গ: প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, কাঈয়ে দু সিনেমা, সিনেমা ভেরিতে, অথর সিনেমা, চলচ্চিত্রে রঙ, আন্ডারগ্রাউন্ড সিনেমা, পরিচয়লিপি, চেম্বার সিনেমা, শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র, নিও রিয়ালিজম, ন্যুভেল ভাগ ও আবহ সংগীত।

স্ক্রীনের শেষের বিবিধ অংশে আলোচিত হয়েছে- পানি, ‘জল’ নিয়ে জল ঘোলা, সোনার পামপাতার গল্প, চলচ্চিত্রে ১৯৪৭, যুদ্ধের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র, বাংলার চলচ্চিত্রে বর্ষা, রথন থিয়ামের নাটক, তনুশ্রী শংকরের নৃত্যবিচিত্রা ও গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।

উপর্যুক্ত শিরোনামের আলোকে বলা যায়, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে একজন সৃজনশীল মানুষের চোখে বাংলা তথা সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্র নিয়ে নানামুখী ভাবনা এবং সেটা লিখে রাখা সত্যিই আমরা নবীন চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য আশির্বাদস্বরূপ। ভদ্রলোকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, মেধার সমন্বয়ে স্ক্রীনের লেখাগুলো যথাসময়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে লিখে রেখেছেন। দেড় যুগ পর তা আমরা বই আকারে পেয়ে সত্যিই অভিভূত।

নির্দিষ্ট করে বললে, স্ক্রীনে তার লেখায় ‘লেখকের নিজস্ব চিন্তাভাবনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের নানা ইতিহাসও ধরা আছে। দেশ-বিদেশের অনেক নির্মাতা, শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন আঙ্গিক, বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রের বাইরের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা স্ক্রীনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

স্ক্রীন পড়ে চলচ্চিত্রের বিশেষ করে বাংলা সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিষয়ে বিশদভাবে জানার সৌভাগ্য হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত বই পড়ার আগ্রহটা আরো বেড়েছে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- চলচ্চিত্রের পটভূমিকায়, রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা, যিনি ঝড়ের কাছে রেখে গেলেন নিজের ঠিকানা ও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ। এছাড়াও অপ্রকাশিতব্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- জহির রায়হান: জীবন ও চলচ্চিত্র, ঋত্বিককুমার ঘটক: প্রচলিত সময়ের চাইতে এগিয়ে ছিলেন যিনি, গানের ভেলায় বেলা অবেলায়, চলচ্চিত্র ও সমাজ বাস্তবতা, চলচ্চিত্র সমালোচনা, চিরায়ত চলচ্চিত্র ও প্রিয় মুখগুলি।

শৈবাল চৌধূরী ১৯৭৯ সাল থেকে চলচ্চিত্র সংসদ চর্চার সঙ্গে সংযুক্ত। সে সময় থেকেই লেখালেখির শুরু। মূল বিষয় চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র সাহিত্যকে লেখার মূল ক্ষেত্র করে নিয়েছেন তখন থেকেই দায়বদ্ধতার সঙ্গে। চলচ্চিত্র নির্মাণেও নিয়োজিত। এ পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন পাঁচটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ও একটি কাহিনীচিত্র। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের সঙ্গে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। বর্তমানে চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের সভাপতি। ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশের সহ-সভাপতি পদে ২০১২ সাল থেকে যুক্ত আছেন।

চলচ্চিত্র শিক্ষতার সঙ্গেও সংযুক্ত। ২০১৪ সাল থেকে চবির নাট্যকলা বিভাগে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত। জন্ম ১৯৬১ সালের ১৫ জন চট্টগ্রাম শহরে। চবিতে পড়াশোনা হিসাব বিজ্ঞান (সম্মান) ও অর্থ বিজ্ঞানে (স্নাতকোত্তর)। পুত্র জয়, কন্যা ঠুমরী ও রিতাকে নিয়ে সুখী গৃহকোণ।

চট্টগ্রামের খড়িমাটি কর্তৃক ২০২০ সালে প্রথম প্রকাশিত ‘স্ক্রীন’ এর অর্থবহ ও নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। প্রচ্ছদ করেছেন কেতন মিত্র। গ্রন্থস্বত্ব লেখকের সহধর্মিনী রিতা চৌধূরী। বইটিকেও লেখক নিজের স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছেন। কারণ লেখকের ভাষায় ‘সহধর্মিনী রিতাকে…যে এ গ্রন্থের অনেক লেখার প্রথম পাঠক, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ যোগায়…’ মুদ্রণে ছিলেন খড়িমাটি প্রিন্টাস। স্ক্রীনের ভূমিকা লিখেছেন ‘দেখার অন্ত্যমিল’ শিরোনামে বেগম মুশতারী শফী। শুভ কামনায় ‘সিনেমার জনপদের মায়ার মিশ্রণ’ প্রবন্ধে মনিরুল মনির, পাশাপাশি লেখক ‘নিজের কিছু কথা’ নামে ব্যক্তিমত প্রকাশ করেছেন।

স্ক্রীনের গায়ের মূল্য ৮০০ টাকা। ছাঁড়ে ৬৪০ টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম বাতিঘর থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও বইটি দেশের বিভিন্ন বিপণি বিতানেও পাওয়া যাচ্ছে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ