মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার বাজারে ১১ বছরে রবি ছাড়া তালিকাভূক্ত হয়নি কোন বহুজাতিক কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
  • ২৯ Time View

ঢাকা: বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিচালনাকারী প্রায় সব বড় বহুজাতিক কোম্পানিকে বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে, ২০১০ সালের পর রবি ছাড়া আর কোন বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভূক্ত হয়নি এবং অনেক বহুজাতিক কোম্পানি জনগণের কাছে সামান্য পরিমাণে শেয়ার ছেড়েছেন। কমপক্ষে ১১টি বহুজাতিক ব্যাংক এবং ১১টি বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বাংলাদেশে ব্যবসায় করেছেন, যারা কমপক্ষে একটি দেশে তালিকাভূক্ত কিন্তু বাংলাদেশে তালিকাভূক্ত নয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে ‘বিআইসিএম রিসার্চ সেমিনার-৫’ শীর্ষক সেমিনার অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হাউ টু ইনক্রিজ দ্যা ডেপ্থ অফ দ্যা শেয়ার মার্কেক ইন বাংলাদেশ: দ্যা পটেনশিয়াল রোল অফ এমএনসি’স’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বিআইসিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তারের সভাপতিত্বে ও ডিরেক্টর (স্টাডিজ) ওয়াজিদ হাসান শাহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) মহাসচিব মো. রিয়াদ মতিন।

সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের গভীরতা বৃদ্ধিতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়ে করণীয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গবেষণায় শেয়ার বাজারের গভীরতা বাড়াতে করের হার হ্রাস করা, কমানো করের পুনঃ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, অতালিকাভূক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাংক লোনের সুদের হার দ্বিগুণ বা বৃদ্ধি করা, শীর্ষ স্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেগুলো অন্য দেশে তালিকাভূক্ত কিন্তু বাংলাদেশে নয়, সেগুলো ও অন্য বহুজাতিক কোম্পানি এবং বাপেক্সকে তালিকাভূক্তি নিশ্চিত করা, পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি, জনগণের কাছে আরো বেশি শেয়ার ছাড়ার ব্যবস্থা করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, দেশে নতুন আসা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভূক্তির শর্ত দেওয়া এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জবাবদিহীতা নিশ্চিত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বর্তমান মার্কেটে বিদ্যমান বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভূক্তিতে অনীহার বড় কারণ রেগুলেটরি ব্যাপারে না জড়িয়ে অপেক্ষাকৃত স্বাধীন থাকার মনোভাব। এ সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে বিভিন্ন সেমিনার/ওয়ার্কশপ আয়োজন করা, আইনত বাধ্যবাধকতা, এবং কর ও অন্য সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।’

মো. রিয়াদ মতিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভূক্তির ক্ষেত্রে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বেশি সংখ্যক আইপিও ইস্যুয়েন্সের বাজারের গভীরতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকারদের জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মার্কেটে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্যে শুধু কর নীতিমালার ওপর ভরসা না করে অন্য সুবিধার ব্যাপারেও জোর দিতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া এ ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মার্কেটিং টিম তৈরির মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়াও, সেমিনারে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বড় গণ প্রস্তাব অনুমোদন করলে তা আমাদের পুঁজিবাজারকে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

Share This Post

আরও পড়ুন