সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

শিল্পীদের জীবন ও জীবিকায়নে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকা

মোস্তফা কামাল যাত্রা
  • প্রকাশ : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ২৪৭ Time View
মোস্তফা কামাল যাত্রা

মোস্তফা কামাল যাত্রা: ‌‌‌‌আর্ট এগেইনস্ট করোনা’ শীর্ষক অন্তর্জালিক কর্মসূচির মাধ্যমে করোনাকালে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ শিল্পীদের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

প্রত্যক্ষভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ থাকলেও; পরোক্ষভাবে শিল্পীদের জন্য নিয়মিত চর্চা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায়ের শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে যে অন্তর্জালিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু করেছে- তাতে শিল্পীদের মধ্যে এক ধরণের উৎসাহ ও উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে। বিষয়ভিত্তিক অন্তর্জালিক আলোচ্য পরিবেশনায় নাচ, গান, অভিনয়, যাদু প্রদর্শণসহ বাদ্ যযন্ত্র ও আলোক সজ্জায় যুক্ত নেপথ্য শিল্পীরা পাচ্ছে অংশগ্রহণের সুযোগ। যা তারা করছে পেশাদার শিল্পী হিসাবে।

মানবিক বিপর্যয়ের এমন একটি বন্ধা সময়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ প্রণোদনামূলক কর্মসূচি একটি যুগ উপযোগী পদক্ষেপ হিসাবে স্বীকৃত। এ পদক্ষেপ চালু করায় সর্ব স্তরের শিল্পীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহা পরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীকে জানাই বিনম্র কৃতজ্ঞতা।

শিল্পীদের জীবন ও জীবিকায়নে চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি শিল্পের মানবিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পীর অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা নিশ্চিতকরণে মহা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকীসহ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনা পর্ষদের কাছে নগন্য একজন শিল্পকর্মী হিসাবে একটা বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।

মানবিক ও শিল্পের মনোবিশ্লেষক ক্ষেত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার ‘শিল্পের মাধ্যমে শিল্পীর জীবিকায়ন’ ধারণার উন্মেশ ঘটাতে সংশ্লিষ্টরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে এলে বাংলাদেশের শিল্প চর্চার ধারায় নবতর অবস্থার সৃষ্টি হবে। মহামারীর এ ক্রান্তিকালে শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের সাথে সংযুক্ত শিল্পীদের মনোবৈজ্ঞানিক প্রয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ মানুষের মনোচিকিৎসায় শিল্পীরা এগিয়ে এলে যেমন সামাজিক দায়বদ্ধতা পূর্ণ হবে; তেমনি পেশাদার মনোসামাজিক স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবেও শিল্পীরা দূর করতে সক্ষম হবেন স্ব স্ব অর্থতিক অনিশ্চয়তা।

যে মানবিক ও মনোবিশ্লেষক অভিব্যক্তিমুলক শিল্পযজ্ঞের কথা এখানে তুলে ধরছি, তা বর্তমান সময়ে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী অনুশীলিত হচ্ছে। ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ মূলত: একটি ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍‍আমব্রেলা টার্ম।’ যার সিস্টার কনসার্নগুলো হচ্ছে- থিয়েটার থেরাপি, আর্ট থেরাপি, ডান্স থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, ম্যাজিক থেরাপি, ক্লাউন থেরাপি, সেডো থেরাপি, প্লে থেরাপি, প্লেবেক থিয়েটার থেরাপি, সাইকোড্রামা, সোসিওড্রামা, ড্রামা থেরাপি, লিভিং নিউজপেপার থিয়েটার, ফটোগ্রাফি থেরাপি, মাইম থেরাপি প্রভৃতি মনোবিশ্লেষক শিল্পযজ্ঞ।

ওই শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত শিল্পীদের যদি ব্যক্তিগত শিল্প অভিজ্ঞতাকে
বিকল্প পদ্ধতিতে মানুষের মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োগের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা যায়- তবে তারা খুব সহজেই করোনার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদারীভাবে সেবা দিতে সমর্থ হবেন।

প্রকারান্তরে; করোনাকালের এ বন্ধা সময়ে শিল্পীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই
তাদের চর্চা ও অনুশীলনের পাশাপশি জীবন ও জীবিকায়নের একটি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে পারবেন। আর যা একটি সমাজ হিতৈষী কাজ হিসেবেও সব মহলের কাছে বিবেচিত হবে। ফলে শিল্পীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশে মনোস্বাস্থ্য সেবা প্রদানে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্মুখীন হচ্ছে নানা ধরণের প্রতিকূলতার। সৃজনশীল শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যমের মনোবৈজ্ঞানিক
ব্যবহারে সক্ষম মনোবিশ্লেষক শিল্পকর্মী গড়ে তুলতে পারলে
সংস্কৃতি কর্মীরা এ করোনাকালে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ মানুষের
পাশে একটি মানবিক সেবা নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন।

সামগ্রিক অবস্থা এবং উপযোগীতা ও যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের কাছে আশা করছি, একটা ইতিবাচক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে মানবিক এ বিপর্যয়ের সময় উভয় মুখী ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী উল্লেখিত প্রস্তাবনাটি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হবেন।

শিল্পের মনোবৈজ্ঞানিক অভিব্যক্তিমুলক সৃজনশীল প্রয়োগ কুশলতায় পারঙ্গম একদল নিরাময়ধর্মী শিল্পযোদ্ধা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যদি অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের থাকা দূর্বলতা অতিক্রমে রাখতে পারবে মানবিক অবদান। প্রতিবিধানমূলক শিল্পশৈলীর প্রয়োগ কুশলতার প্রকারান্তরে শিল্পের বিকল্প প্রয়োগের মাধ্যমে শিল্পীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সৃষ্টিতে এ উদ্ভাবনী সাংস্কৃতিক কর্ম, উদ্যোগ কালীক চাহিদাও বটে।

লেখক: নাট্যজন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ কোর্সের সমন্বয়ক।

Share This Post

আরও পড়ুন