শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও এই দুটি খাতে নৈরাজ্য চলছে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৪৩ Time View

চট্টগ্রাম: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের নিউমার্কেট চত্বরে। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক প্রীতম বড়ুয়ার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সভাপতি রায়হান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, সাংগাঠনিক সম্পাদক মিরাজ উদ্দিন ও সংগঠক সাকিব।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ১৯৮৪ সালে তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে আপোষহীন লড়াই জারি রেখেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ জ্ঞান সংরক্ষণ, বিতরণ কিংবা নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে বরং পরিণত হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা আজ কেনা বেচার পণ্যে পরিণত হয়েছে। কোমলমতি স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং বাণিজ্য, গাইড বাইয়ের ব্যবসায় ও ভর্তি যুদ্ধের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর বাড়ছে বেতন ফি। মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির হাতে শিক্ষাকে মুনাফা লুটের আয়োজন করে ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হয়ে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার লেনদেনের সম্পর্কে। প্রাথমিকে প্রতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৪৫ লক্ষ শিশুর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পঞ্চম শ্রণিতে উঠতে না উঠতেই ঝরে পড়ে। এই চিত্র গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরের সামনে দাঁড়িয়েও এদেশের শাসকগোষ্ঠী মানুষের মৌলিক শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব আজ পর্যদুস্ত। দুনিয়ার তাবৎ ধনী দেশগুলোতে লুকিয়ে থাকা সীমাহীন বৈষম্যকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করল এই ভাইরাস। করোনাকালীন এই সময়ে নানা সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। অপরিকল্পিত ‘সাধারণ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা চাপ ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। করোনা সংকটকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য প্রকটভাবে উন্মোচিত হয়েছে। কোনো ধরনের আয়োজন ও প্রস্তুতি ছাড়াই অনলাইন ক্লাস মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে এসেছে। বৃহৎ একটা অংশের শিক্ষার্থীরা থাকছে এই অনলাইন ক্লাসের আওতার বাইরে।’

বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেস ভাড়া মওকুফ করতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ, স্কুল কলেজের চলতি বছরের বেতন ফি মওকুফ এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিওশন ফি মওকুফ করার কোনো কার্যকরী উদ্যোগ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের জন্য লক্ষ কোটি টাকা প্রনোদনা ঘোষনা করা হলেও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সরকারের তরফ থেকে ভ্রূক্ষেপ করা হয়নি। ফলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ইতি টানার উপক্রম হয়েছে। শাসক শ্রেণি শিক্ষাকে মুনাফা লাভের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও এই দুটি খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা বাণিজ্যিক শিক্ষানীতি ও স্বাস্থ্য নীতিরই ফল। তাই আমরা মনে করি শিক্ষার উপর এই আক্রমণ বন্ধ করে শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।’

সমাবেশ বক্তারা দাবি জানান, করোনাকালে শিক্ষা ধ্বংসের অপতৎপরতা বন্ধ করে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ করতে হবে এবং স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে অবিলম্বে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দিতে হবে।

প্রেস নিউজ

Share This Post

আরও পড়ুন