মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

লংগদুর উঁচু-নিচু পথ-ঘাট, পাহাড়, লেক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার মতো

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৬১ Time View

দুপুর একটা নাগাদ রাঙ্গামটির লংগদু পৌঁছালাম। উদ্দেশ্য বড় ভাইয়ের (মাসুদ) বাসা। তিনি একটি ঠিকানা দিলেন, সে মোতাবেক চলে যেতে বললেন।

ভাইয়ের বাসা লংগদু ঘাট থেকে তেমন দূরে না, মুসলিম ব্লক, বটগাছের গোরা, দশ মিনিটের পথ। নেমেই মোটর বাইকে উঠলাম। চালককে ঠিকানা বলতেই সহজে চিনে গেলেন। বলে রাখি, এখানে অটোরিক্সা নেই। পাহাড়ি উঁচুনিচু জায়গা বিধায় অটোরিক্সার চল্ নেই। যাতায়াতে মোটর বাইক এখানকার মানুষ নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। গন্তব্যস্থলে যেতে বাইকের ভাড়া ২০ টাকা। অবশ্য রিজার্ভ করতে দুই জনের ভাড়া আমাকে গুনতে হলো। দেওয়া ঠিকানায় দুই জন মাসুদ ভাই একই জায়গায় থাকেন।

বাইকওয়ালা অপরিচিত জনের বাসায় রেখে চলে গেলেন। বাসায় গিয়ে দেখি, সব ঠিক আছে। কিন্তু একজন নববধূ হবেন, এসে বললেন, ‘আপনি ভুল জায়গায় এসেছেন, সামনেই মাসুদদের বাসা। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে, আপনাকে চিনিয়ে দিবেন।’

অপরিচিতের বাসা থেকে বের হতে না হতেই দেখলাম, মাসুদ ভাইসহ ভার্সিটির আরেক ছোট ভাই (হাসান)। ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলে ভাইয়ের বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

আসামাত্র একটু জিরিয়ে নিলাম। দীর্ঘ যাত্রা পথ। একটু ক্লান্তি তো আছেই। আধ ঘন্টা পর ভাইয়ের সাথে লেকে গোসল করতে গেলাম। ভালোই লাগছিলো। নদীর মতো লেকে গোসল করা সত্যিই আনন্দদায়ক।

গোসল সেরে এসেই দুপুরে খাবার খেতে বসে গেলাম। খেয়ে চলে গেলাম খেলার মাঠে। ক্রিকেট খেলব। পরিচয় করিয়ে দিলেন, তার সম ও অসম বয়সী বন্ধু ও ছোট ভাইদের সাথে। ভার্সিটির ছোটভাই তো আছেই সব সময়, সাথে আছে তার মামার একটি বাইকও। খেলা শেষে এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। এখানকার উঁচুনিচু পথঘাট, পাহাড়, লেক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার মতো। এসে বিন্দুমাত্র বিরক্ত হইনি। সবার বন্ধুসুলভ আচরণ, এখানকার মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

খাবার পানীয় থেকে শুরু করে শাক-সবজি সবকিছু টাটকা ও সুস্বাদু। রান্নাবান্নাও বেশ চমৎকার। বাইকে করে এখানকার দর্শনীয় জায়গাগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। সত্যি লংগদু খুব সুন্দর জায়গা। লেখনী দিয়ে হয়তো সৌন্দর্যটা তুলে আনতে পারছি না, তবে বেশ ভালো একটা জায়গা। মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ অনেক। মিলেমিশে বেশ গোছানো জীবিকা নির্বাহ করে। জীবিকার ক্ষেত্রে কৃষি কাজ ও মৎস্য শিকার অন্যতম পেশা। শিক্ষা দীক্ষায়ও বেশ অগ্রসর।

(চলবে)

Share This Post

আরও পড়ুন