শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা হস্তান্তরে বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতা এবং চীন ও ভারতের ভূমিকা

মো. জহির উদদীন বাবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৬৪ Time View

রোহিঙ্গা হস্তান্তর নিয়ে কথা বলতে গেলে সবার আগে চীন এবং ভারতের ভূমিকা এবং পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে হবে।

আমরা সকলে জানি, চীন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া রাষ্ট্রগুলোর মধ্য আমেরিকার কাছাকাছি বা সমান। অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে আমেরিকাকে পেছনে ফেলে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তারা আধিপত্য বিস্তারের কুটকৌশল শুরু করে দিয়েছে। ভারতের সাথে যুদ্ধংদেহী ভাব দেখালেও কার্যত দেশ দুটি যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

পাকিস্থানের সাথে বন্ধুত্ব এবং ভারতের সাথে আমেরিকা পূর্বে যা করেছে, তার ইতিহাসই বলে ভারত আমেরিকাকে প্রকৃত বন্ধু মনে করে না। কেবলমাত্র কৌশলগত কারণে আমেরিকার সাথে মিত্র রাষ্টের আচরণ করে যাচ্ছে। চীনের সাথে সংগঠিত দ্বন্দ্বও কৌশলগত এবং লোক দেখানো।

আমেরিকার মত চীনও ভারতকে আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে মেনে নিয়েছে। পক্ষান্তরে, ভারত চীনের সাথে ভেতরে ভেতরে সাম্রাজ্যবাদের অংশীদারিত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই যৌথ পরিকল্পনা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু।

মায়ানমারসহ বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পনা করে রোহিঙ্গাদেরকে তৈরি করা হয়েছে। এক ঢিলে দুই পাখি অর্থাৎ এক রোহিঙ্গা দিয়ে মায়ানমারের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদ ও এলাকা দখলের পাঁয়তারা মাত্র। তারা মূলত এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাই।

বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে- পার্শ্ববর্তী বা অন্য রাষ্টগুলো তাকে নিয়ে কি ভাবছে সেটা বুঝতে অসমর্থ হওয়া। আমার মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে কেবল একটি ইউনিট থাকা উচিত, যারা অন্য রাষ্ট্র আমাদের নিয়ে কি পরিকল্পনা করছে, সেটা আগাম বুঝতে পারার গবেষণা করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ধরনের কিছু আছে বলে মনে হয় না। থাকলে মায়ানমার, চীন ও ভারতের এ পরিকল্পনার কথাও আগাম জানতে পারত। এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়, বৈদেশিক নীতিতে বাংলাদেশ কত দূর্বল!

দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাকে যেভাবে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা হিসাবে সমাধান করার চিন্তা করছে, তা একটি ভুল প্রক্রিয়া। কারণ, এ সমস্যা এক দিনের না। ১৯৭৩ সাল থেকে এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে, জাতিসংঘের নেতৃত্বে রাখাইনে সেইফ জোন তৈরি করে সেখানে রোহিঙ্গাদের হস্তান্তর ও পুনর্বাসন করা। বাংলাদেশ সেই প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উচিত ছিল আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করে নিজের জায়গা করে নেওয়াসহ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু সরকার ভারতের দেখানো পথে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে। তবুও সরকারের বোধোদয় হচ্ছে না।

আশা করি, সরকারের বোধোদয় হবে এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবে।

Share This Post

আরও পড়ুন