বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

রাঙ্গামাটির প্রায় উপজেলায় যাওয়া-আসার একমাত্র পথ ‘নদীপথ’

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩১৫ Time View
২৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় লঞ্চে উঠতে হবে। ঠিক সাড়ে ছয়টায় ঘুম থেকে উঠলাম। লংগদুতে লঞ্চ ঘাটে পৌঁছালাম সকাল সাতটায়। আমি আর বড় ভাই (মাসুদ) সকালের নাস্তা সেরে নিলাম, তবে দেরি হয়ে যাবে বলে চা খেতে পারি নি। লঞ্চে চায়ের ব্যবস্থা আছে। কিনে খেতে হয়। প্রতি কাপ দশ টাকা।
নির্দিষ্ট সময়ে রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু। আসতে যতটা অপরিচিত মনে হয়েছিল, যেতে তার অধিক পরিচিত লাগল, কারণ পাশে বড় ভাই আছেন। তিনি যাত্রা পথে সব স্থানের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। আমার অনেক ভালো লাগছিল।
রাঙ্গামাটির প্রায় উপজেলায় আসা-যাওয়ার একমাত্র পথ নদীপথ। নদীর পানি বাঁধ দেওয়ার কারণে স্থির। সে জন্য নদী না বলে লেক (হ্রদ) বলে সম্বোধন করা হয় বেশি।
যাওয়ার সময় যে উত্তেজনা ছিল, আসার সময়ও একই উত্তেজনা কাজ করছিল। লঞ্চের চার দিকের এতোটা সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য যে কাউকে বিমোহিত করবে, আনন্দ দিবে। পানি শুকানোর ফলে তৈরি হওয়া ছোট ছোট দ্বীপগুলো লেকের সৌন্দর্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্বীপগুলোতে মানুষের বসতি না থাকলেও মাঝমধ্যে কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব দেখা যায়। বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ জেলের নৌকা দেখা যায়।
সারেং একটা নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ নিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে। একটু ভুল পথে গেলে জেগে উঠা দ্বীপে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চার দিকের সৌন্দর্য আমার মধ্যে একটা বাড়তি রকমের উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল। কখনো মুঠোফোনে ছবি তুলছি, কখনো ভিডিও করছি। সব মিলিয়ে পানি পথে অন্যত্র যাওয়া আসা আমার মধ্যে চমৎকার একটা অভিজ্ঞতার সম্পদ সঞ্চিত হলো।
অবশেষে তিন ঘন্টা বিরতিহীন যাত্রার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটে এসে পৌঁছলাম। সময় তখন সকাল প্রায় সাড়ে দশটা। দশটা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের যাওয়ার পাহাড়িকা বাস আছে। বড় ভাইকে ফোন করলাম, বড় ভাইয়ের একটা জরুরী কাজ থাকায় তিনি রাঙ্গামাটি থেকে গেলেন। আমি অন্য একটি বাসে করে দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী আমার এলাকায় এসে পৌঁছালাম।
মূলত এখানেই আমার ভ্রমণের ইতি হল। রাঙ্গামাটি জেলার বেশ কয়েকটা উপজেলায় গিয়েছি। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, শিক্ষাদীক্ষা, জীবিকা নির্বাহ, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, নৈতিকতা, খাদ্যাভ্যাস, চলাফেরা, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। বলা যায়, আমরা যারা সমতলে থাকি, তাদের সাথে পাহাড়ে কিংবা নদীর তীরবর্তী জায়গাগুলোতে যারা থাকেন, তাদের সাথে প্রচুর ভিন্নতা রয়েছে।
একেক অঞ্চলের মানুষের রুচি, চাহিদা একেক রকম। সবাই সবার মতো, আমরা কেউ কারোর মতো না। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় শক্তিশালী। মিলেমিশে থাকাটা আমাদের জন্য খুব জরুরী।
(শেষ)

Share This Post

আরও পড়ুন