ঢাকাশুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রক্তাক্ত গন্ডামারা: আট । শ্রম আইনের লঙ্ঘনসমূহ

ফজলুল হক মিন্টু
মে ২১, ২০২১ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোন মালিকের শাস্তি হয়েছে-এমন কোন নজির নেই। ফলে আইন ভঙ্গ করা মালিক পক্ষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এস আলম কর্তৃপক্ষও আইন মানে নাই। এমনকি বাংলাদেশে কোন ব্যবসায় পরিচালনা করতে হলে শ্রম আইন যে মানতে হবে- এমন কোন ধারণাও তাদের নাই। প্রথমিকভাবে আমাদের অনুসন্ধানে নিছের আইনের লঙ্ঘনসমূহ পরিলক্ষিত হয়েছে- শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে প্রায়শঃ বিলম্ব হয়। অনেক সময় দুই-তিন মাসের মজুরিও বকেয়া থেকে যায়। যা শ্রম আইনের ১২৩ (১) ধারার লঙ্ঘন; এ প্রকল্পে শ্রমিকদের ১২ ঘন্টা শিফটিং করে কাজ করানো হয়। যা শ্রম আইনের ১০০ ও ১০১ ধারার লঙ্ঘন; ওভার টাইমসহ দৈনিক সর্বোচ্চ দশ ঘন্টা কাজ করানো নিয়ম হলেও এখানে দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ করানো হয়। চার ঘন্টা অতিরিক্ত কাজের জন্য কোন ওভারটাইমভাতা দেয়া হয় না। যা শ্রম আইনের ১০৮ ধারার লঙ্ঘন; শ্রমিকদের শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ অস্বাস্থ্যকর ও অপর্যাপ্ত। যা শ্রম আইনের ৫৯ ধারা এবং বিধিমালার ৫১ বিধির লঙ্ঘন; শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয় না। যা শ্রম আইনের ৫৮ ধারা এবং বিধিমালার ৫০ বিধির লঙ্ঘন; অধিকাংশ শ্রমিকদের ঠিকাদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলেও সরবরাহদাতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসমূহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে কোন লাইসেন্স নেয়নি। যা শ্রম আইনের ৩(ক) ধারার লঙ্ঘন; কর্মরত শ্রমিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। সাপ্তাহিক এক দিন ছুটি নিয়ে কেবল বাইরে যাওয়া যায়। বাকী অন্য দিনগুলোতে কোন শ্রমিক প্ল্যান্ট এরিয়া থেকে বের হতে পারে না। শ্রমিকরা একে বর্ণনা করেছে জেল খানা হিসাবে; শ্রমিকদের কোন সাপ্তাহিক ছুটি দেয়া হয় না। যা শ্রম আইনের ১০৩ ধারার লঙ্ঘন; শ্রমিকদের কোন সবেতন ছুটি তথা নৈমিত্তিক ছুটি, পীড়া ছুটি, অর্জিত, উৎসব ছুটি ইত্যাদি কিছুই দেয়া হয় না। যা শ্রম আইনের ১১৫, ১১৬, ১১৭ এবং ১১৮ ধারার লঙ্ঘন; শ্রমিকদেরকে নিয়োগপত্র দেয়া হয় না। যা শ্রম আইনের ৫ ধারার লঙ্ঘন;

উপরের আইনসমূহ যদি যথাযথভাবে পালিত হত, তাহলে শ্রমিকদেরকে দশ দফা দাবি জানাতে হত না। শ্রমিকদের মধ্যে কোন অসন্তোষও তৈরি হত না।

(চলবে)

Facebook Comments Box