ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ম্যাজিক মুনশী: ঘটনার মুড পরিবর্তনকারী অন্যতম রহস্যজনক চরিত্র

নুরুন্নবী নুর
নভেম্বর ৩০, ২০২০ ৪:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নুরুন্নবী নুর: হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘ম্যাজিক মুনশি’ হলো একটি গ্রন্থ, যেখানটায় লেখা রয়েছে রহস্যময়তার বর্ণনা এবং কিছুটা বিশ্লেষণ। লেখক গ্রন্থটিকে উপন্যাসের পর্যায়ে গণ্য না করলেও উপন্যাসের মতো করে ঘটনার কাঠামো সাজিয়েছেন।

মূলত ‘ম্যাজিক মুনশী’ গ্রন্থটিতে তিনি ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রের লোকেশন বাছাই করতে গিয়ে যে সব ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন মাত্র। এখানে ম্যাজিক বা জাদু বিদ্যার কথা এসেছে ঘটনার একটি পরিপ্রেক্ষিতকে ঘিরে।ভাড়া করা নৌকা যখন যাত্রাপথে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন পরিচয় হয় একজন গ্রামের ইমামের সাথে যিনি ম্যাজিক জানতেন। লেখকের পর্যবেক্ষণ মতে ইমামের ম্যাজিকে নাকি কিছুটা স্বচ্ছতা আছে। গ্রন্থটির নামও রাখা হয়েছে সেই ইমামের ছায়া অবলম্বনে, ‘ম্যাজিক মুনশী’।

লোকেশন থেকে ফিরে এসে লেখক ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রের গানের রেকর্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর সেই ম্যাজিক মুনশির খবর নিতে পারেন নি। পূর্বে মুনশীকে ‘নলিনী বাবু বিএসসি’ নামের লেখকের একটি উপন্যাস উপহার দেন। সেই উপন্যাসের ঘটনা সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি লিখেন এবং শরীর যে ভালো নেই সেই বিষয়টাও চিঠিতে ম্যাজিক মুনশী উল্লেখ করেন এবং উপন্যাসের সত্যতা জানালে তিনি একটি গুপ্ত খবর জানাবে বলে লেখককে আশ্বস্থ করেন। চিঠি পেয়ে ফিরতি চিঠি দিয়ে দু’জন কর্মচারী মারফত চিঠি পাঠালেও লেখক কোনো প্রকার সন্তোষজনক খবর পাইনি। শেষে লেখকের বিশ্বস্ত কর্মচারী আরজু জানাল যে ম্যাজিক মুনশী মারা গেছেন।

গ্রন্থটি ঘটনা পরম্পরা একটু গতানুগতিক ধারার বাইরে। এখানে লেখক নিজেই একটা কথক তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র, কর্মচারীরা সহকারী চরিত্র এবং ম্যাজিক মুনশী হলো ঘটনার মুড পরিবর্তনকারী অন্যতম রহস্যজনক চরিত্র। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে তিনি স্ত্রী-পুত্রের কথা পর্যন্ত ঘটনার প্রয়োজনে উঠে এসেছে। বইটি পড়তে গিয়ে লেখক পাঠকের উপর প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি বইটির বুঝার সুবিধার্তে পাঠককে দিয়ে পড়িয়েছেন তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘ডাইনী’ গল্পটি, এছাড়া আরও বেশ কিছু গ্রন্থ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথমরবার পড়ে ‘ম্যাজিক মুনশী’ গ্রন্থটি তেমন বুঝা যায় না, একেবারে বুঝা যায় না, তা কিন্তু না!সে জন্য লেখক নিজে গ্রন্থটি দু’বার পড়ার জন্য পাঠককে অনুরোধ করেছেন। দু’বার পড়ার পর সত্যিই বইটিতে কিছু একটা আছে মনে হলো।

‘ম্যাজিক মুনশী’ গ্রন্থটি লেখক হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের প্রখ্যাত জাদু বিদ্যায় পারদর্শী জুয়েল আইচের নামে উৎসর্গ করেছেন এবং জাদুশিল্পীকে সম্মানিত করতে বিশেষণ হিসেবে নামের নিচে লিখেছেন, ‘জাদুবিদ্যার এভারেস্টে যিনি উঠেছেন। এভারেস্ট জয়ী শৃঙ্গ বিজয়ের পর নেমে আসেন। ইনি নামতে ভুলে গেছেন।’ পরবর্তী পৃষ্ঠা উল্টাতে স্টিফেন ক্রেনের কবিতা পড়ে মুগদ্ধ হলাম।

‘ম্যাজিক মুনশি’ গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ ঘটে লেখকের ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর ২০১০, পুরাতন গ্রন্থটিতে লেখা সপ্তম মুদ্রণ হয় মার্চ ২০১১, এরপর আর পুণর্মুদ্রণ হয়েছে কিনা জানা নেই, প্রচ্ছদে ছিলেন ধ্রুব এষ, প্রকাশক ছিলেন অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, মুদ্রণে কালারলাই প্রিন্টার্স, পরিবেশনায় অন্যমেলা এবং প্রিন্ট মূল্য ১৩০ টাকা। পুরাতন হিসেবে ক্রয়কৃত দাম- ৫৫ টাকা

লেখক: তরুণ শিল্প সমালোচক

Facebook Comments Box