শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুর মিছিলে বেঁচে থাকার লড়াই

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৪৮ Time View
চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের থাবা এত ভয়াবহ হবে তা হয়তো অনেকে অনুধাবন করতে পারেনি। প্রতিদিন মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে নতুন আরেকটি মৃত্যুর সংখ্যা।

পুরো বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধ সর্বাত্মক লকডাউনের বিকল্প নেই।’

সরকার মানুষকে ঘরে রাখতে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে অকার্যকর বিধি-নিষেধের পর ১৪ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল আবার বিধি-নিষেধ আরোপ করে। কিন্তু সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধি-নিষেধেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে নানা ছুতোয় ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছেন মানুষ।

করোনা নামের অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে পুরো পৃথিবীর মানুষ যুদ্ধ করছেন। যুদ্ধের সময় মানুষ স্বাভাবিক সময়ের মত চাহিদা পূরণ ও চলাচল করতে পারেন না। কেবল জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া যায়। তবে এ কথাটি আমরা মৃত্যুর মিছিল দেখেও বুঝতে পারছি না। করোনা সংক্রমণের শুরুতে মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন ছিল, স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ নিজেকে গৃহবন্দী করে রেখেছিলেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত বছরের তুলনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশী হলেও স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেকাংশে উধাও। এর পেছনে মূলত মানসিক, রাজনৈতিক ও জীবন ও জীবিকা জড়িত।

মানসিক বলতে আমরা অনেকটা হুজুগে ও আইন ভাঙতে অভ্যস্ত এক জাতি। সরকারী বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে আড্ডাবাজি ঘুরাঘুরি ও নানা ছুতোয় শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন। জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও অনুরোধ করেও মানুষকে ঘরে রাখতে পারছে না।

বিধি-নিষেধে ব্যবসায়ী ও দিন মজুর কর্মহীন হয়ে অভাবে দিনপাত করছেন। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছেন। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এ বছর সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা নগন্য। সরকারের সাথে হেফাজতের বৈরি সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক নানা ইস্যূতে দেশের অবস্থা কিছুটা অস্থিতিশীল। সরকার বিরোধী একটি পক্ষ নানা কৌশল ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক উস্কানি দিয়ে মানুষকে রাস্তায় নামাতে তৎপর। এতে অনেকে করোনা মহামারীর প্রকোপ ভুলে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছেন৷

বিধি-নিষেধে ও রমজানে কর্মহীন মানুষের আয় কমে গেছে। পরিবার নিয়ে সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন। তার উপর নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে আয় শূন্য কর্মহীন মানুষ বাজারমূখী হতে ভয় পায়। তাই, মানুষকে ঘরে রাখতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বৃদ্ধি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্যের দাম কমিয়ে মানুষের স্বস্তি আনা দরকার। মানুষকে যত বেশি সময় ধরে ঘরে রাখা যাবে, ততই দ্রুত করোনা সংক্রমণ কমে আসবে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিদিন নগরীতে ত্রিশটি ট্রাকে প্রায় চার হাজার টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে। পণ্যের মান তেমন সুবিধার না হলেও বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দাম হওয়ায় মানুষ লম্বা লাইন ধরে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন৷ টিসিবির কার্যক্রম ও পণ্যের গুণগত মান আরো বাড়ানো দরকার। মানুষকে ঘরে রাখতে হলে ত্রাণ সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়িয়ে দ্রব্য মূল্যের দাম কমাতে হবে৷ জীবিকার চেয়ে জীবন বড়, জীবনের চেয়ে পৃথিবীতে বড় কিছু নেই। তাই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ঘরে থাকতে হবে। নিজে ও পরিবারকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচাঁতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ঘরে থাকার বিকল্প নেই।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যম কর্মী, চট্টগ্রাম

Share This Post

আরও পড়ুন