ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

মিরসরাই যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন: পদ পেতে কোণে কোণে আনাগোনা প্রার্থীদের

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৭, ২০২০ ৫:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মিরসরাই (চট্টগ্রাম): বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মিরসরাই উপজেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল দশটায় মিঠাছড়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এতে পদ পেতে আবারও সরগরম হয়ে ওঠেছে মিরসরাই উপজেলা যুবলীগ। গত কিছু দিন ধরে চলছে প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নজর একাধিক প্রার্থীর। শেখ হাসিনার জন্মদিনে আলাদা আলাদা শোড়াউন করেছে দুটি গ্রুপ।

এদিকে, ত্রিবার্ষিক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল। সম্মেলনের উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা থাকবেন যথাক্রমে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এসএম আল মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল আলম।

সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা জানান মিরসরাই উপজেলা যুবলীগ বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি। সম্মেলন এবং নেতৃত্ব উভয় দিক বিবেচনা চার দিকে যুবলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে বহুগুণে।

উপজেলা যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে তিনটি নাম।যাদের প্রত্যেকেই সাবেক ছাত্রনেতা। তারা হলেন মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক মোশাররফ হোসেন মান্না, যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজ আলম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মাইনুর ইসলাম রানা।

অন্য দিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হোসেন সোহেল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মেজবা বাবু ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মেজবাউল করিম সোহেল।

এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন হিঙ্গুলী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সভাপতি শাহরিয়ার সোহেল।

সভাপতি ও সাধারণ পদের প্রত্যেকেই মিরসরাই উপজেলা এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দায়িত্বশীল ছিলেন। নেতৃত্বের প্রশ্নে যুবলীগের নেতাকর্মীরা দুঃসময়র ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছাত্র নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানান।

সভাপতি পদে আলোচিতদের অন্যতম একজন মোশাররফ হোসেন মান্না। ১৯৯৪ সালে রাজনীতিতে আসা মোশাররফ হোসেন মান্না ছিলেন জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি এবং জিএস।ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে। সর্বশেষ তিনি দায়িত্ব পালন করছেন মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে।

এ পদে আলোচনায় রয়েছে মাহফুজ আলমের নাম। যিনি ১২ নম্বর খৈয়াছরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম সরকারি কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগ, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগ এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে।

সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে সাবেক ছাত্রনেতা মাইনুর ইসলাম রানার নামও। তৃণমূল রাজনীতি থেকে বেড়ে ওঠা রানা ছিলেন সরকারহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। নেতৃত্বে মেধার পরিচয় দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশী সময় পালন করেছেন মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব। তার নেতৃত্বে উপজেলার ১৮টি ইউনিট ও বিভিন্ন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়েছে।

মাইনুর ইসলাম রানা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি হয়। স্কুল জীবন থেকে প্রায় ১৮-২০ বছর ধরে প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি মোশাররফ হোসেনের একজন আস্থাভাজন কর্মী হিসেবে তার সান্নিধ্যে গিয়ে প্রিয় নেতার সকল প্রকার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। যতদিন বেঁচে থাকবো প্রিয় নেতার আদর্শে রাজনীতি করে যাবো।’

এ দিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত নাম ইমরান হোসেন সোহেল দায়িত্ব পালন করেছেন দূর্গাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে।

এ পদে বেশ আলোচনায় ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া।যিনি দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। প্রার্থীতা ঘোষণা করে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চষে বেড়াচ্ছেন।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে মেজবা বাবু এবং মেজবা করিম সোহেলের নাম। দীর্ঘ দিন ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এ দুই সাবেক ছাত্রনেতা হতে চান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। মেজবা বাবু জড়িত ছিলেন তৃণমূল ছাত্রলীগে, এরপর দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। তিনি ক্লিন ইমেজের ছাত্রনেতা হিসেবে সকলের আস্থা অর্জন করেন।

ছাত্র রাজনীতি করে উঠে আসা মেজবাউল করিম সোহেল পাঁচ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে দুঃসময়ের ছাত্রদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ।

আট নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সলিম উদ্দিন বলেন, ‘দুঃসময়ে ছাত্রলীগ করা নেতাদের যুবলীগে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কেননা দুঃসময়ে চট্টগ্রামের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পাশে ভ্যানগার্ড হিসেবে এরাই ছিলো।’

Facebook Comments Box