শিরোনাম
নিংশ্বাসের বন্ধু’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে ১৬-১৭ জুন থিয়েটার থেরাপি প্রয়োগ বিষয়ক রিফ্রেশার্স ট্রেনিং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১২:১২ অপরাহ্ন

মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটি পরিণত হচ্ছে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধীর ভাগাড়ে

মোস্তফা কামাল যাত্রা / ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১

মোস্তফা কামাল যাত্রা: স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাকে বুঝায়। যার কোন একটিতে ঘাটতি থাকলেই ব্যক্তির সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। অপর দিকে, সামাজিক ও মানসিক চাপ ব্যক্তির শারীরিক স্বাস্থের উপর যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে; তা সব সময় দৃশ্যমান হয় না।

‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ’র
মতে, ১৯ শতাংশ শারীরিক রোগের প্রাথমিক কারণ মানসিক সমস্যা। এ ছাড়াও মানসিক চাপ ও সমস্যার কারণে ব্যক্তির আচরণিক এবং সামাজিকরণ দক্ষতা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত তথা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি একটা পর্যায়ে ব্যক্তিগত জীবন দক্ষতা এবং সামাজিক ক্রিয়াকর্মে একাত্ব হতে পারে না। এতে পারিবারিক সমস্যা যেমন হয়; তেমনি সৃষ্টি হয় সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। যা পর্যায়ক্রমে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধীতায় রূপ নেয়। এতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি হয়ে পড়েন মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী।

মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয় মূলত: আবেগগত ও
আতংকগ্রস্ততাজনীত নানান সংকটের মাধ্যমে। যা সমস্যাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর উপর ভর করে স্থবির পাথর খন্ডের মত। ভেঙে দেয় মনবল, কেড়ে নেয় স্বাভাবিক জীবনাচারের সক্ষমতা। ফলে তাদের মনে জন্ম নেয়- নানান মনোবৈকল্যতা এবং নষ্ট হয়ে যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আন্ত:সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতা। সর্বোপরি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি ও জন
গোষ্ঠীর হারিয়ে ফেলেন গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচার আচরণ আর মতামত দেওয়ার যৌক্তিক অবস্থান।

উদাহরণ হিসাবে যদি নয় বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০১১ সালে ১১ জুলাই সংঘটিত মিরসরাই ট্র্যাজেডি কমিউনিটির কথা চিন্তা করা যায়; তবে তার সত্য সত্যতা প্রমাণিত হবে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্ম অভিজ্ঞতা সেই পরিসংখ্যানই দৃশ্যমান করে। অথচ উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সেই দিকে নেই কোন মানবিক দৃষ্টি। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হয়ে প্রায় এক হাজার সমস্যাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে বরণ করছেন স্থায়ী মনোসামাজিক প্রতিবন্ধিত্ব। যা অদূর ভবিষ্যতে মিরসরাই ট্র্যাজেডি কমিউনিটিকে পরিণত করবে এক মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভাগাড়ে।

মিরসরাই ট্র্যাজেডির পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনার ভয়াবহতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যক্তির এবং কমিউনিটির উপর দূর্ঘটনা পরবর্তী আঘাতজনিত মানসিক চাপ; যাকে ইংরেজিতে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘পোস্ট ট্রমাজিক স্টেস ডিজওর্ডার।’ এর নেতিবাচক প্রভাব যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সমাজে প্রকটভাবে পড়বেই; তা অনুধাবন করে ইংল্যান্ড ও পুর্তগাল থেকে দুই জন মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞানী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে এসে সেবা দিয়ে যান। বাংলাদেশে একমাত্র মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞান অনুশিলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে আমাদের কর্মপ্রতিষ্ঠান উৎসকে তাদের সেই মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করেছিল।

মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিতে মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞানী মার্ক ও ফিলিপের নেতৃত্বে উৎস’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সেই সপ্তাহব্যাপী ‘মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞ’ শেষে ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল এক ‘মনোবিশ্লেষক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।’ আয়োজিত সেই ফুটবল খেলায় ওই জনপদে ক্ষতিগ্রস্ত জনসমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেছিলেন। যারা ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের পর থেকে ফুটবল খেলা তো দূরে থাক; ফুটবল দেখলেও আতংকিত হয়ে উঠত। কারণ ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটছিল সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে উৎশ ২০১২ সালে ওই জনপদে আমেরিকা থেকে আগত মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞানী জেনী ক্রিস্টালের তত্ত্বাবধানে পুনরায় আয়োজন করেছিল প্লেবেক থিয়েটার প্রধান সাইকোথেরাপি সেবা। যার ইতিবাচক সংবাদ তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সাইকোথেরাপি কার্যক্রম চলাকালে মিরসরাই উপজেলা থানা কর্মকর্তা আমাকে মোবাইল কলের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মিরসরাই সদর উপজেলায় তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য নির্দেশ দেন।

স্থানীয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে মাঠ পর্যায়ে আমাদের চলমান মানবিক সেবামূলক কাজ বন্ধ রেখে আমাকে সম্মানিত থানা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উপজেলা সদরে যেতে হয়েছিল। উপজেলায় অবস্থিত থানা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কক্ষে প্রবেশ করতেই; তিনি আমাকে বললেন, ‘জানেন এ মুহূর্তে আমি আপনাকে গ্রেফতার করতে পারি? আমার মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আছে?’ আমি জানতে চাই আমার অপরাধ কি? তখন তিনি বলেন, ‘আপনি এবং আপনার সংগঠন উৎস ‘নাটক-ফাটক’ করে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আবেগকে উসকে দিচ্ছেন; তাদের মনের তকে খুঁছিয়ে জাগিয়ে তুলছেন। মিডিয়ায় এসব সংবাদ ছাপা হচ্ছে। আমার উপর উপর মহল থেকে চাপ আসছে। আজই আপনি সাইকোথেরাপির কাজ বন্ধ করে মিরসরাই ত্যাগ করবেন আপনার টিম নিয়ে। অন্যথায় আমি আপনার সংগঠনের নিবন্ধন বন্ধ করে দেব।’

আমি তখন থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বললাম যে, সাইকোথেরাপি হিসাবে মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়া একটি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের পদ্ধতি। আগামীকাল আমাদের পরিকল্পিত সেশন শেষ করেই আমি আমাদের আমেরিকান সুপারভাইজার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজি বিভাগের সাইকোথেরাপিস্টদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ ত্যাগ করব। এ মুহূর্তে সাইকোথেরাপি সেশন মাঝ পথে বন্ধ করে মাঠ থেকে চলে আসলে অংশগ্রহণকারী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ জটিল মানসিক বিপর্যয়ে পড়বেন। যাতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হয়ে পড়বে আরো ভয়াবহ।’ তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘আজই আপনি আপনার দলের সদস্যদের নিয়ে মিরসরাই ত্যাগ করবেন; অন্যথায় আপনি ঘোরতোর বিপদে পড়বেন। আমি দেখে নেব আপনি আমার কর্ম এলাকায় কিভাবে ‘সাইকোথেরাপি-মাইকোথেরাপি’
দেন।’

উপজেলা থেকে আবুতোরাব ফিরে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সাথে বিষয়টি শেয়ার করার পর তিনি বললেন, ‘আপনি পর দিন কাজ চালিয়ে যান, দেখি উনি কি ব্যবস্থা নেন।’ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিভাবক এবং স্থানীয় সেচ্ছাসেবকগণ সংবাদটি শোনার পর বিস্ময় প্রকাশ করেন। আমাদের আশ্বস্ত করেন নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কমিউনিটির আগ্রহ দেখে; ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা ভেবে পরদিন সকালে আমরা আমাদের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছিলাম। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপজেলা শহর থেকে আশা বখাটে কিছু ছেলের উৎপাতে পঞ্চম দিনের মাথায় আমাদের দলের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে আসি। বুঝতে বাকি থাকল না সেই বখাটেরা কার নির্দেশে আমাদের দলের নারী সদস্যদের নানাভাবে উত্তক্ত করছিলেন।

কমিউনিটির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আহাজারী এবং তাদের কেয়ার গিভারদের হতাশায় রেখে কর্ম এলাকা ত্যাগ করতে আমাদের দলের খুবই কষ্ট হয়েছিল। অপর দিকে ছিল; প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি। এখন প্রশ্ন হল থানা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন? কি কারণে এমন অমানবিক কাজটি করেছিলেন? মানসিক স্বাস্থ্য সেবাহীন রেখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মানসিক প্রতিবন্ধী বানিয়ে তার কি লাভ? লাভ অবশ্যই আছে। কারণ উনার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী উপজেলায়। চাকরি ক্ষেত্র মিরসরাই উপজেলা হওয়ায় কম দূরত্বজনিত কারণে তিনি ব্যক্তিগত নানা লাভের সুযোগ ভোগ করতেন। যদি পুনরায় মিরসরাই ট্র্যাজেডি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়; তবে উনাকে হয়তো উপর মহল মিরসরাই উপজেলা থেকে ট্রান্সফার করে দিতে পারেন। সেই ভয়ে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা আগ্রহী করেছিল; আমাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মত সেই অমানবিক আচরণটি করতে। অর্থাৎ আমাদের সাইকোথেরাপি কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়ে তিনি মিরশরাই ট্র্যাজেডি কমিউনিটির স্থায়ী ক্ষতি করেছিলেন। পরবর্তী কৌশলগত কারণে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সাথে যৌথভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যে কর্মশালার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী না হয়েও; একজন গনমাধ্যমকর্মী হিসাবে মানসিক রোগের প্রাথমিক সাইন সিমট্রম বুঝতে পারবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মানসিক সমস্যার রূপ ও প্রকৃতি অবলোকন করে প্রকৃত সত্য গণমাধ্যমে তুলে আনতে সমর্থ হন। কিন্তু বিধি বাম; তাতেও বাঁধ সাধলেন থানা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়। ফোন করে জানালেন, ‘উপজেলায় অনুরূপ কর্মশালা করা যাবে না।’ ফলে তখন আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিরসরাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত কর্মশালা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমাদের সেই উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় তথাকথিত এক সাংবাদিককে দিয়ে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছু দৈনিকে আমাদের প্রতিষ্ঠান উৎস সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন চাপিয়ে আমি এবং আমাদের সংস্থাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালালেন। একজন মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা কর্মী হিসাবে আমি ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিক ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের কিছু সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সেই কর্মশালাটি সুসম্পন্ন করেছিলাম।

এতে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকবৃন্দ স্ব-শরীরে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে গিয়ে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে সন্তানহারা পিতা-মাতা, নিহতদের ভাই-বোন, সহপাঠি, শিক্ষক এবং নিকট আত্মীয়দের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের মানসিক বিপর্যয়ের গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পত্রিকায় প্রতিবেদন করতে থাকেন।

পর্যায়ক্রমে পত্র পত্রিকায় মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির মানসিক বিপর্যয় ও মনোরোগের কথা ছাপা হতে থাকলে; চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে মানসিক বিপর্যয় তথা ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজওর্ডার’র অবস্থা ও অবস্থান কোথায় তার জানার জন্য একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার। মনোসামাজিক সেবা বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ কি ধরনের মানসিক সমস্যায় আছেন; যাতে এ জরিপের মাধ্যমে তা নিরুপণ করা যায়। কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কর্তৃক নেয়া সেই জরিপের উদ্যোগ একই উপজেলা থানা নির্বাহী কর্মকর্তার অনাগ্রহের কারণে অধ্যাবদি আলোর মুখ দেখেনি। অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাও উপজেলা কার্যালয়ে লাল ফিতার দৌরাত্বে শিকারে পরিণত হয়েছে!!!

গত বছর মিরসরাই ট্র্যাজেডির নয় বছর পূর্ণ হল। নানা পর্যায় থেকে ঘটা করে তা উদযাপিত হল। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সেবা হীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তথা মিরসরাই ট্র্যাজেডি কমিউনিটি পর্যায়ক্রমে যে মানসিক রোগিতে পরিণত হচ্ছেন, সে দিকে কারো দৃষ্টি নেই। যা তাদের অদূর ভবিষ্যতে স্থায়ী মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করবে। নিজ বাড়ীর পাশের উপজেলায় চাকরি দীর্ঘস্থায়ী করার মানসে প্রকৃত সত্যকে গোপন করে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিতে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটাচ্ছেন বর্তমান মিরসরাই উপজেলা থানা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতি বহন করতে হবে- সেবা বঞ্চিত ব্যক্তি, পরিবার ও জনসমাজকে।

বিগত তিন বছরের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রায় অর্ধশত প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পরও উপজেলা প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মিরসরাই ট্রাজেডী কমিউনিটি পরিণত হচ্ছে মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভাগাড়ে।

এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ক্ষমতা কাঠামোর উচ্চ পর্যায়ে থাকা প্রশাসক, সুশীল সমাজ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পায়। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার। মানসিক ক্ষতিগ্রস্তদের সেবা বঞ্চিত রেখে; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে অন্যতায় আমরা নিজেদের মুক্ত রাখতে পারব না। ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

লেখক : অতিথি শিক্ষক, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ