রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়ীদের সমর্থন পেলেন রেজাউল করিম

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২১৩ Time View

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কর্তৃক মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে ব্যবসায়ীদের মত বিনিময় সভা শনিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল তিনটায় আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

সভায় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি এসএম আবুল কালাম, চেম্বার পরিচালক মো এসএম আবু তৈয়ব, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু) ও মাহফুজুল হক শাহ, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী (বাচ্চু), উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম, খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা দোকান মালিক সমিতির মহানগর সভাপতি সালামত আলী, বৃহত্তর বহদ্দারহাট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তাসকীর আহমেদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, চিটাগাং শপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম চৌধুরী, তামাকুমন্ডি লেইন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কবির দুলাল, টেরীবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল হক, বিজিএপিএমইএ এর প্রথম সহ-সভাপতি কেএইচ লতিফুর রহমান (আজিম), সেন্ট্রাল প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ডেকোরেটর্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাহাবউদ্দিন, চাকতাই শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন, বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন খান, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, মতি টাওয়ার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন, আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক্স মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নুর মোহাম্মদ, খুলশী টাউন সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জালাল আহমেদ রুম্মান, চট্টগ্রাম গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ সমিতির সভাপতি নেছার আহমেদ, পাহাড়তলী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইকনোমিক টাইমসের মতে যে কোন দেশ ও জাতি বিনির্মাণে সরকার, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। বাংলাদেশের রাজস্বে চট্টগ্রামের অবদান
অর্ধেকের বেশী। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, ফ্লাইওভার, কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ইত্যাদি মেগা প্রকল্পের রূপকার শেখ হাসিনা। ৬৪টি প্রশাসনিক জেলার মধ্যে বাণিজ্য ও বন্দর সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের অবদান ঢাকার চেয়ে কম নয়। চট্টগ্রাম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আবেগের অংশ। ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে বন্দরের উন্নয়ন, বেটার্মিনাল ইত্যাদি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। এই অঞ্চলের কাজ শেষ হলে প্রায় ১৫ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়নে ছয় হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য মেগা প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্দরকে ঘিরে ভবিষ্যৎ
কর্মকান্ড আরো বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধ, আধুনিক, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মেয়র পদপ্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘১৯৬৩ থেকে আজ পর্যন্ক অনেক জেল জুলুম সহ্য করেও নীতি ভ্রষ্ট হইনি। আমার লক্ষ্য ছিল রাজনীতির মত পবিত্র পেশাকে কলুষিত করবো না। চট্টগ্রাম বন্দরের হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকরা এখানে এসেছে। ঔপনিবেশিক আমলেও চট্টগ্রাম ছিল ব্যবসায়ের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক গৌরব আমরা হারিয়েছি। চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধ করলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। চট্টগ্রাম সর্বক্ষেত্রে পথ দেখিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, স্বাধীনতার ঘোষণা, এক দফা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন সব কিছুই চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়। চট্টগ্রামের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। কিছু সমস্যা থাকলেও তা ধীরে ধীরে কমে যাবে। আমাদের অবহেলায় চট্টগ্রাম পিছিয়ে আছে। তাই আমাদেরকে এক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবী সবাই মিলে পরামর্শক্রমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।’

তিনি সব শ্রেণী পেশার মানুষের পরামর্শ ক্রমে সমন্বয়পূর্বক বিশ্বমানের নগরী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মেয়রের দায়িত্ব নগর পরিস্কার রাখা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিরাপত্তা ইত্যাদির সুব্যবস্থা করা। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অনেক তীর্থ স্থান ও বিপ্লবের স্মৃতি চিহ্ন বিজড়িত চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নান্দনিক বিশ্বমানের নগরী হিসেবে উপহার দেয়ার রাজনৈতিক ব্রত ঘোষণা করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়, রাজনীতি ও অর্থনীতির হৃদপিন্ড। তাই চট্টগ্রামের গুরুত্ব অন্যান্য অঞ্চল থেকে স্বাতন্ত্র্য। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধেই নিয়েছেন। তিনি যা বলেন তা কার্যকর করে থাকেন।’

চেম্বার সভাপতি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামকে ঘিরে যে চলমান প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এতদঞ্চল হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য বিনিয়োগ কেন্দ্র বিন্দু।’

মাহবুবুল আলম বর্তমান সরকারের রূপকল্পগুলো বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ধারাবাহিকতা এবং জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৫২ সালে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি আমাদের ভাষার উপর হস্তক্ষেপ করে, ৫৪ তে আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়েও ক্ষমতায় যেতে পারলাম না। ছয় দফা আন্দোলন পরবর্তী এক দফা আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হল।’

তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির হৃদপিন্ডের চালিকাশক্তি ব্যবসায়ী সমাজ উল্লেখ করে অতীত ইতিহাস ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সুনিশ্চিত জয়ের আশা ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এগিয়ে যাওয়া মানে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়া। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বেশী। ‘এই নগর আমার নগর’ এই মন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে গেলে নগরকেন্দ্রিক আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। নগরের একজন হিসেবে যদি নিজ দায়িত্ব সঠিক ও যথাযথ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে মেয়রের কাছে প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘নির্মিত নালায় মানুষ ময়লা নিক্ষেপ করে ডাম্পিং পয়েন্ট বানায়। শহরের উপর প্রতিনিয়তঃ চাপ বাড়লেও আয়তন বাড়ছে না। তবে সমন্বয়ের ঘাটতি বিদ্যমান। সেবা সংস্থাগুলোর কর্ণধারদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে আপাতকালীন কষ্ট হলেও ওয়াসার পানি ও স্যুয়ারেজের কাজ শেষ হলে জনগণ অচিরেই সুপেয় ও নিরাপদ পানি পাবে।’

চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি এসএম আবুল কালাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, গঙ্গা ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনসহ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মকান্ডের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য দেন চেম্বার পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন)। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।

সভায় চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মো. জহুরুল আলম, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. শাহরিয়ার জাহান, মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও সালমান হাবীব, চেম্বারের সাবেক পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আরশেদুল আলম বাচ্চু, স্বাধীনতা নারী শক্তির পরিচালক অধ্যাপিকা বিবি মরিয়ম উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস নিউজ

Share This Post

আরও পড়ুন