শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম’র আইটি বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার চট্টগ্রামে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই মাসব্যাপী আন্তঃবিভাগ বির্তক প্রতিযোগিতা শুরু নাভানাসহ সীতাকুণ্ডের সব কারখানায় ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দাবি পরিবেশ বিষয়ক গল্প : মন পড়ে রয় । নাজিম হোসেন শেখ পিএইচপি অটো মোবাইলসের তৈরি অ্যাম্বুলেন্স উপহার পেল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সোতোকান কারাতে স্কুল চট্টগ্রামের কারাতে বেল্ট প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চট্টগ্রামের পাহাড় অপরাজনীতি, অপেশাদার আমলাগিরির শিকার হাটহাজারী নাজিরহাট কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

মাস্টার প্ল্যানে কক্সবাজারে হচ্ছে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক: ১২ প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন / ১৮৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

কক্সবাজার: কক্সবাজারের নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতে গড়ে তুলা হচ্ছে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক। এ লক্ষ্যে প্রণীত মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত সভায় দ্রুত পর্যটন আকর্ষণে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান বেজার ডেপুটি ম্যানেজার সেনজুতি বড়ুয়া।

তিনি জানান, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ইতোমধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে, যার মাধ্যমে ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ছয় থেকে দশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের তালিকায় নেদারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত যার আয়তন এক হাজার ৪৭ একর। সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্বে শাহপরীর দ্বীপ অবস্থিত। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কোলাহলের বাইরে ও বৈশিষ্ট্যগতভাবে নীল পানির কারণে স্থানটি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, রাজধানী শহর ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটির এবং কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মেরিন ড্রাইভের মাধ্যমে ট্যুরিজম পার্কের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। তাছাড়াও নিকটস্থ জাতীয় মহাসড়ক এন-এক এর মাধ্যমে ট্যুরিজম পার্ক এর সাথে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান। কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রস্তাবিত পার্কের নিকটবর্তী বিমানবন্দর, যা ট্যুরিজম পার্ক থেকে ৮২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান প্রকল্প ‘চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেলসংযোগ স্থাপন’ বাস্তবায়িত হলে, ট্যুরিজম পার্কের সাথে সমগ্র বাংলাদেশের বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ আরও সহজতর হবে। ফলে ট্যুরিজম পার্কের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও দেশি বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের ট্যুরিজম পার্কে আরও বেশি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে পার্কের বিভিন্ন স্থানে সমুদ্র তীরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ, রিজার্ভ ফরেষ্ট, বিনোদন কেন্দ্র, দেশীয় পণ্যের স্টল প্রর্দশনের স্থান, শিশুদের খেলার পার্ক, আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও এ্যাকুয়ারিয়াম ইত্যাদি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্যুরিজম পার্কটি প্রতিদিন ৩৯ হাজার পর্যটক উপভোগ করতে পারবে এবং প্রায় ছয় হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মাস্টারপ্ল্যানে প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার ও এর উপাদানসমূহ প্রকৃতি ও দেশীয় সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকার বিদ্যমান প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে পার্কটি সর্বস্তরের প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়।

বেজা সূত্রে জানা যায়, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে জীব-বৈচিত্র্য, দেশীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটকবান্ধব মহাপরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ এবং কক্সবাজার ও এ অঞ্চলের পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি সামগ্রিক যোগসূত্র স্থাপন করা। এ মহাপরিকল্পনায় সমুদ্র সৈকত সংরক্ষণ, বিদ্যমান জলাশয় সংরক্ষণ, ঝাউবন সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, দেশীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, পর্যটক ও পরিবেশবান্ধব সু্বিধাদি নিশ্চিতকরণ, পথচারী ও বাইসাইকেলবান্ধব সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়াদি বিবেচনা করা হয়েছে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ