মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

মালিকের বিশ্বাসের সুযোগে দশ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ছিনতাই নাটক, শ্রীঘরে কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রাম: মালিকের বিশ্বাসের সুযোগে দশ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে এখন শ্রীঘরে কর্মচারী আবু তৈয়ব (২৫)।

মালিক মো. জিয়াউল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাত নয়টায় চট্টগ্রাম সিটির কোতোয়ালীর স্টেশন রোড থেকে তৈয়বকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সে সাতকানিয়া দেওদিঘীর পাঁচ নাম্বার ওয়ার্ড মাদার্শার চেয়ারম্যান বাড়ির আব্দুস সালামের পুত্র।

পরে তার কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে সাত লাখ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনা কি ছিল? গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী মো. জিয়াউল হক গত ২ ডিসেম্বর দোকানের মাল ক্রয়ের জন্য ঢাকার সদরঘাটে যান। ব্যবসায়িক কারণে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ওই দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে তার দোকানের কর্মচারী আবু তৈয়বকে মোবাইলে কল করে দোকান হতে নগদ এক লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ীক বন্ধু-বান্ধবের নিকট হতে নয় লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করে মোট ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা সাউথ ইস্ট ব্যাংক জুবিলী রোড শাখায় মেসার্স শাহ আকতারিয়া স্টোর নামে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বলেন। নির্দেশনানুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে জুবিলী রোড শাখায় জমা দেওয়ার জন্য দুপুর দেড়টার দিকে কোতোয়ালী জুবিলী রোডস্থ মিউনিসিপ্যাল হকার মার্কেটের শাহ আকতারিয়া স্টোর হতে রওয়ানা দেয় কর্মচারী তৈয়ব। কিন্তু দুপুর একটা ৫০ মিনিটের সময় ব্যাংকে টাকা জমা না দেওয়ায় যোগাযোগ করলে তৈয়বের মোবাইল নম্বর বন্ধ পান মালিক জিয়াউল হক। রাত প্রায় নয়টার সময় ঢাকা হতে চট্টগ্রাম এসে খোঁজাখুঁজি করেও তৈয়বকে পাচ্ছিলেন না তিনি। এর পর তিনি ফোনকল করে টাকা ফেরত চাইলে তৈয়ব জানায়, দুপুর একটা ৪০ মিনিটের সময় সে লালদিঘীর পাড় এলাকায় গেলে দুই জন ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কারণে সে টাকা ব্যাংকে জমা দিতে পারে নি। জিয়াউল হক তার সাথে দেখা করার জন্য বললে তৈয়ব নানা তালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় জিয়াউল টাকা ফেরত দিতে বললে সে সংযোগ কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেয়।

রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে তৈয়বকে কোতোয়ালী স্টেশন রোডে দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে এসআই সুকান্ত চৌধুরী ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তৈয়বকে কৌশলে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম ঠিকানা প্রকাশসহ ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা বাঁশখালীর ছনুয়া বাজার এলাকায় রেখেছে বলে জানায়। তার দেওয়া তথ্যমতে এসআই সুকান্ত চৌধুরী ফোর্সসহ তৈয়বকে সাথে নিয়ে রোববার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটা সময় বাঁশখালী ছনুয়া নয়াপাড়া মকবুল সওদাগরের বাড়ির রাবেয়া বেগমের বসত ঘর হতে আত্মসাৎকৃত সাত লাখ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, তৈয়ব দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ মো জিয়াউল হকের দোকানে চাকুরি করতো। জিয়াউল হক তাকে প্রায় সময়ই তার ব্যবসায়িক লেনদেনের কাজ করাতো। সে সুবাদে লোভের বশবর্তী হয়ে টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক হওয়ার চেষ্টা করে তৈয়ব।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ