শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জে আরিচা-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন / ৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ঢাকা: জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আরিচা-কাজির হাট রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। আরিচা-কাজির হাট ফেরি রুটের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। আরিচা থেকে কাজির হাট যেতে সময় লাগবে এক ঘন্টা ৩০ মিনিট; কাজির হাট থেকে আরিচা আসতে  সময় লাগবে এক ঘন্টা ১০ মিনিট। একটি রো-রো (বড়) ও দুইটি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে এ সার্ভিস শুরু হয়েছে। এ রুটে বড় বাসের ভাড়া দুই হাজার ৬০ টাকা, ট্রাকের ভাড়া এক হাজার ৪০০, মাইক্রোবাসের ভাড়া এক হাজার, কারের  (ছোট গাড়ি) ভাড়া ৬৮০, হোন্ডার ভাড়া ১০০ এবং যাত্রী ভাড়া ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহত্তর পাবনাসহ আশপাশের জেলার জনসাধারণের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারের চেয়ে আরিচা-কাজিরহাট ফেরি-রুট ব্যবহার ও সময় উভয় ক্ষেত্রেই সাশ্রয়মূলক। গত বছর এ ঘাট ব্যবহার করে প্রায় ২৮ লাখ যাত্রী পারাপার হয়েছে।

নৌ পরিবহন প্রতি মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে আরিচা-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতকারী জনসাধারণের জন্য আরিচা-কাজির হাট ফেরি সার্ভিস চালু করা হল।

এ ফেরি সার্ভিসের ফলে আরিচা-কাজির হাট নৌ পথটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একটি অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হবে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামালসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাজোয়া যান, অন্যান্য ভারী যানবাহনসমূহ এ ঘাট দিয়ে পারাপার হতে পারবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাটসমূহ নির্মাণ, সংরক্ষণ, মেরামত এবং যাত্রীসুবিধাসহ সুষ্ঠুভাবে ঘাটপরিচালনার সেবা কাজও সম্পন্ন করেছে। দুই পাড়ে ফেরি ঘাট নির্মাণসহ নৌ পথের প্রয়োজনীয় ড্রেজিং এবং বয়াবাতি স্থাপন করা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পূর্বে এ দেশ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা এবং পদ্মানদী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত ছিল। সে সময় ঐতিহাসিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন পারাপারে আরিচা নদী বন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো। ফেরি পারাপারের অন্যতম প্রধান ঘাট হিসেবে তখন থেকেই নগর বাড়ী উত্তরাঞ্চলে পরিবহন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। পরবর্তীত নৌ পথের দুরত্ব হ্রাসসহ উন্নত যাত্রী সেবা নিশ্চিতকল্পে ২০০২ সালে ফেরি ঘাট আরিচা হতে পাটুরিয়াতে স্থানান্তর করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ায় নগরবাড়ী রুটে ফেরিসার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় এবং ফেরিঘাট আট কিলোমিটার ভাটিতে কাজির হাটে স্থানান্তর করা হয়। তবে ঘাট স্থানান্তর হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে এর গুরুত্ব কমে যায় নি। আরিচা হতে কাজিরহাটে লঞ্চ ও স্পিড বোট চলাচল আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফেরি উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক এবং বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম।

খবর পিআইডির

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ