শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

মাজার অবস্থিত নদীর ঠিক মাঝখানে

নুরুন্নবী নুর / ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

পর্ব-তিন: রাঙ্গামাটির বরকলের সুবলং বাজারে শহীদ হযরত শাহসুফী ধনা মিয়া (রাঃ) মাজারের ৪৯তম বার্ষিক ওরশ শরীফ ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯। পৌঁছালাম ২১ ডিসেম্বর রাত ১১টায়।

জাহাজ থেকে আমরা নামলাম, বরকল বাজার ঘাটে। নামামাত্র গেইট পেরোতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবারো যাত্রীদের চেকআপ করলেন। প্রত্যেকে মাজারের ওরশে এসেছে, আমার মনে হয় অন্য কোন ইনটেনশন নিয়ে আসেনি। তবুও মাজার কর্তৃপক্ষের এরুপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ না দিয়ে পারি না। অবশ্য পরবর্তীতে জানতে পারলাম, রাতর অনুষ্ঠান রাখায় ওরশ পরিচালনায় ওরশ কমিটির সাথে নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিরীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে। এছাড়াও আরো নানা সমস্যা ছিলো। সে জন্য এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাজারের চার পাশে পর্যবেক্ষণ আলোসহ সৈন্যবাহিনীর অনেক সদস্য রাখা হয়েছে, যারা পয়েন্টে পয়েন্টে নজরদারিতে ছিলো। মাজার অবস্থিত নদীর ঠিক মাঝখানে। ঘাট থেকে নেমে হেঁটে যেতে প্রায় ১০ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়। যে রাস্তা দিয়ে মাজারে যেতে হয়, সেটা নদীর তীর ঘেষা। মাজারের অবকাঠামোগত কাজ প্রচুর হয়েছে। তীর থেকে ব্রীজের ব্যবস্থা আছে। পানি থেকে প্রায় ২০-৩০ ফুট উপরে মাজার। গোলাকৃতি মাজার এলাকা। এককোণে হযরত ধনা মিয়া (রাঃ) পবিত্র মাজার। সিঁড়ি বেয়ে নীচে গিয়ে ওযু করার ব্যবস্থা আছে।

মাজার এলাকা থেকে একটু দূরে গান পরিবেশনার জন্য রয়েছে উঁচু বেদী। যে ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো জাহাজ হয়ে সেখানে পৌঁছে, রাত পার করার জন্য টাকা দিয়ে নিজেদের শিল্পী নিয়ে যান। বিশেষ করে পীরের শানে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়া হয়। গান গাওয়ারত অবস্থায় শিল্পীরা ইসলামী নীতি শিক্ষার কথা তুলে ধরেন। আর উপভোগ করেন দূর থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষগগুলো।

নদীর তীরবর্তী জায়গাগুলোতে দূরপাল্লা থেকে আসা জাহাজ-নৌকাগুলোতেও চলে ভান্ডারী গানগুলোর সাথে নাচের মহড়া। শিল্পীদের থাকে-ঢোল, তবলা, হারমোনিয়াম, বাঁশি, খঞ্জনিসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র।

নেতিবাচক বলব কিনা জানি না, এমনও গানের দল দেখেছি, ইসলামী নীতি শিক্ষার বাইরে গিয়ে আধুনিক গান পরিবেশন করে টাকা উপার্জন করতে, সেখানে দর্শকও বেশ। এতে মাজার কমিটির কোন তৎপরতা দেখি না।

মাজারে থেকে কিছুক্ষণ দোয়া-প্রার্থনা করে মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থান করলাম। আমার সাথে যে ছেলেটা (কবির) সব সময় সঙ্গী হিসেবে ছিলো। কবির দেরিতে মাজার হতে বের হওয়াতে আমি আমি চা খেতে চলে আসি। সে (কবির) বের হয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়। যেটা পড়ে আমার মনে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সবার সুবিধার জন্য স্ট্যাটাসটা কপি করে নিচে দিলাম-
‘নগন্য মোরে কৃপা করো রব
হুমায়ুন কবির

গড়েছো তুমি নিজের হাতেই, অবয়বও দিয়েছো তুমি, বাঁচাও তুমি মারও তুমি। কষ্টে রেখে পরিশুদ্ধ করো তুমি। সুখও দাও তুমি। মনের ভিতরে ভালোবাসা সৃষ্টিও করো তুমি, ঘেন্নার জন্মও দাও তুমি। হতাশায় রেখে পরখ করো, পুরস্কৃত করে অবাক করো। তোমার মহিমা বোঝার সামর্থ্য কেমনে পাই আমি। তোমার সৃষ্টির ক্ষুদ্রকায় অতি নগন্য মস্তিষ্ক দিয়ে তোমায় বোঝার ধারণ ক্ষমতাতো দাও নি তুমি। তোমার অগণিত নিয়ামত পেয়েও অকৃতজ্ঞ আমি। আমায় তুমি ক্ষমা করো প্রভু। আমি তো বিরাট পাপী, আমাকে মাফ করো হে দয়াল। কৃপা করো আমায় সবকিছুর প্রতিপালক।
কবির, রাঙামাটি, শুভলং’

(চলবে…)

[আপনার লিখা অপ্রকাশিত ‘ভ্রমণ কথা’ এই rinquoctg@gmail.com ই-মেইলে পাঠান। নাম, পরিচিতি, ঠিকানা, ছবি ও মোবাইল নাম্বারসহ। লিখা অবশ্যই ইউনিকোডে হতে হবে]

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ