বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

মনোবিশ্লেষণাত্বক অভিব্যাক্তিধর্মি শিল্প মাধ্যমের বিদ্যায়তনিক পাঠ

মোস্তফা কামাল যাত্রা
  • প্রকাশ : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২৭০ Time View

মোস্তফা কামাল যাত্রা: নাটক, সংগীত, নৃত্য, মুকাভিনয়, আবৃত্তি, কাব্যকলা ও চিত্রকলার একক বা সমন্বিত মনোবৈজ্ঞানীক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানসিক বিপর্যস্ততা উত্তরণে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। শিল্প মাধ্যমের মনোবিশ্লেষণাত্বক চর্চা বা অনুশীলনের মধ্য দিয়ে মনোচাপ ও মনোবৈকল্যতায় ভোগা ব্যক্তি ও সমষ্টির মানসিক প্রশান্তি আনয়নের লক্ষ্যে প্রচলিত কাউন্সিলিং সাইকোথেরাপির পাশাপাশি অভিব্যাক্তিমূলক শিল্পযজ্ঞধর্মি মনো-সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কলাকৌশল হিসাবে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ একটি কার্যকর কর্মকৌশল হিসাবে প্রযুক্ত হয়ে থাকে।

অতিমরি করোনার এই ক্রান্তিকালে মানুষের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে মানসিক অস্থিরতা। কারণ, যে কোন মহামারীর চূড়ান্ত প্রভাব হচ্ছে অরাজকতা (Disorder)। এই পর্যায়ে মানুষের আচরণে আসে অস্বাভাবিকতা। মানুষ হয়ে উঠে হিংস্র, নৈতিকতা বর্জিত, করে অসামাজিক ক্রিয়া-কলাপ। কারণ মন্দার ফলে তারা আয়মূলক কাজকর্ম থেকে হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে উদ্ভুত ‘অভাব’ তাদের করে দিকভ্রান্ত। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক ক্রিয়া কর্মে। ফলে সৃষ্টি হয় ‘অরাজকতা’।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সভ্যদের ক্ষুদা নিবারণের জন্য মানুষ শুরু করে অসামাজিক কাজ। ফলে ভেঙ্গে পড়ে সমাজ কাঠামো। কারণ ঐ সময় নিয়ন্ত্রক ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো থাকে না কার্যকর। অপর দিকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা হয়ে পড়ে দূর্বল। স্থানীয় সরকার কাঠামোর সাথে যোগাযোগ সক্ষমতাও যায় ভেঙ্গে। কোন কিছুই তখন আর থাকে না স্বাভাবিক। যতক্ষণ পর্যন্ত না দূর হয় বা দূর্বল হয়ে আসে মহামারীর সর্বগ্রাসি নেতিবাচক স্বভাব। তাই করোনার কারণে মনোকষ্টে ভোগা ও মনোচাপে থাকা মানুষগুলোর জন্য মনোবৈজ্ঞানীক স্বাস্থ্য সেবা যথা সময়ে দিতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে জন্ম নেবে স্থায়ী মনোসামাজিক সমস্যা ও রোগ। যার চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদী।

বাংলাদেশে এই প্রথম কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (সিবিআইইউ) শুরু হয়েছে মনোবিশ্লেষক শিল্পযজ্ঞের বিদ্যায়তনিক পাঠ। ইউনাইট্ থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশনের (উৎস) তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ শিরোনামে ত্রৈমাসিক এই সার্টিফিকেট কোর্সের প্রখম ব্যাচের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় ব্যাচের ক্লাস।

সুতরাং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল্প পদ্ধতিতে মানসিক সাস্থ্য সেবার আওতায় আনা জরুরী। আর তা নিশ্চিত করতে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ প্রয়োগ ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদারীভাবে একজন মনোবিশ্লেষক শিল্পকলা প্রয়োগে সক্ষম ব্যক্তি হিসাবে গড়ে উঠতে হলে আগ্রহীরা আলোচ্য ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ কোর্সটি সম্পন্ন করতে পারেন।

প্রতি শুক্র ও শনিবার বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সময়কালে এ কোর্সের ক্লাস হয়ে থাকে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ব্যবহার করুন: ০১৭৯৭-৫১৪৫৬৪।

লেখক: সিবিআইইউর ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ কোর্সের সমন্বয়ক

Share This Post

আরও পড়ুন