শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞানের বিদ্যায়তনিক পাঠ নিশ্চিতে সেলিম আল দ্বীনের ভূমিকা ও অবদান

মোস্তফা কামাল যাত্রা / ২২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

মোস্তফা কামাল যাত্রা: মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নাট্যক্রিয়ার মনোবৈজ্ঞানিক প্রয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নাট্যাচার্য সেলিম আল দ্বীন সর্ব প্রথম উদ্যোগ নেন, যা বাংলাদেশের নাট্য ইতিহাসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছিল।

স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা ‘ইউনাইট্ থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস)’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞ অনুশীলন করলেও ২০০৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামখ্যাত মনোবিশ্লেশক নাট্য বিজ্ঞানীদের তত্বাবধানে বাংলাদেশে আয়োজন করতে শুরু করে ‘ন্যাশনাল থেরাপিউটিক থিয়েটার ওয়ার্কশপ।’

ওই কর্মশালার উপর রামেন্দু মজুমদার সম্পাদিত ‘থিয়েটার পত্রিকায় যখন রেজা আজিজ লিখিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; তখন তা পাঠ করে নাট্যাচার্য সেলিম আল দ্বীন এ ধারার নাট্য বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার ব্যক্তিগত আগ্রহে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিবদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সাথে উৎস যৌথভাবে আয়োজন করেছিল চতুর্থ জাতীয় প্রতিবিধানমূলক নাট্য কর্মশালা- ২০০৬। এ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন আমেরিকান সাইকোড্রামাটিস্ট ড. হার্ব প্রপার। সেই কর্মশালায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সম্মানীত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বিভাগীয় থিয়েটার স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত সেই কর্মশালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেছিলেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দ্বীন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি তার বক্তব্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার একাডেমিক পাঠ শুরু করা হবে।

যেই কথা সেই কাজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্বের পাঠক্রমে বাংলাদেশে সর্ব প্রথম সাইকোড্রামা পাঠ্যসূচী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল, যার জন্য নাট্যাচার্যকে অন্তহীন কৃতজ্ঞতা।

পরবর্তী বিভাগীয় শিক্ষক নাট্যজ্ঞ ড. আফসার আহম্মদের তত্ত্বাবধানে সেই পাঠ্যসূচীর অংশ হিসাবে রকিবুল আলম রুশো নামের এক শিক্ষার্থী ‘বাংলাদেশে আধুনিক থিয়েটার চর্চায় থেরাপিউটিক থিয়েটার আঙ্গিক ও প্রাসঙ্গিক আলোকপাত’ শীর্ষক একটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করেন, যা বিভাগে একটি সেমিনার করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে কোর্স তত্ত্বাবধায়ক ড. আফসার আহম্মদসহ মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোহাম্মদ মোস্তফা, নিবন্ধক মোস্তফা কামাল যাত্রা, তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান সানাউল হক সানি ছাড়াও প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দ্বীন।

সেই সেমিনারে তার দেওয়া বক্তব্য বাংলাদেশ মানসিক নাট্যযজ্ঞে বিদ্যায়তনিক পাঠকে উৎসাহিত করেছিল। তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত থিয়েটার প্যাথলজিস্ট ও থিয়েটার থেরাপিষ্ট গড়ে তুলতে এ বিষয়ক একাডেমিক পাঠের ব্যাপকতা ঘটাতে নাট্যকলা বিভাগগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’

মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞ বিষয়ক পাঠ্যক্রমের যৌক্তিকতা আলোকপাত করে তিনি সে দিন যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল স্মরনীয় ও উৎসাহ ব্যঞ্জক।

এখানে উল্লেখ্য যে ড. সিরাজুল করিম ‘সাইকোড্রামা ফর ইনটেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট’ নামের এক প্রবন্ধে মনোস্তাত্ত্বিক নাট্যক্রিয়া সম্পর্কে নাট্যাচার্যের আগ্রহ এবং তার রচিত নাটকগুলোতে সাইকোড্রামার বিভিন্ন অনুষঙ্গের সচেতন ব্যাবহারের দিকগুলো গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেছেন। যাতে নাট্যাচার্য সচেতনভাবে কি করে সাইকোড্রামার প্রয়োগ প্রক্রিয়াকে তার রচিত নাট্য সাহিত্যে ব্যবহার করেছিল, তা মূল্যায়িত হয়েছে। আগ্রহী পাঠকগণ ড. সিরাজুল করিম রচিত নিবন্ধনটি পাঠ করলে, তা খুব সহজেই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন।

মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার বিদ্যায়তনিক পাঠ নিশ্চিতকরণে নাট্যাচার্যের সেই অগ্রণী ভূমিকা এবং তার রচিত নাট্যসাহিত্যে সাইকোড্রামার বিভিন্ন অনুষঙ্গের সচেতন ব্যবহার এ ধারার নাট্য শৈলীর প্রসারে একটি দৃষ্টান্তমূলক অবদান। নাট্যচার্যের সেই অবদানকে উপজীব্য করে পরবর্তী বাংলাদেশের অপরাপর নাট্যকলা বিভাগের পাশাপাশি মনোবিজ্ঞান বিভাগগুলোর পাঠ্যক্রমেও পর্যায়ক্রমে মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার একাডেমিক পাঠ সন্বিবেশিত হয়েছে।

মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার অনুশীলক সংস্থা উৎসের পক্ষ থেকে নাট্যাচার্য সেলিম আল দ্বীনের সেই উদারনৈতিক মনোভাব ও প্রনোদনার প্রতি তাই নিবেদন করছি অপরিশীম শ্রদ্ধা।

লেখক: নাট্যজন, অতিথি শিক্ষক, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ