বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

ভূমি দস্যুদের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে চন্দনাইশের পাহাড়ের অরণ্যাঞ্চল

লিয়াকত হোসেন খোকন
  • প্রকাশ : শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২০৫ Time View

চন্দনাইশে রয়েছে পাহাড়, অরণ্য আর সমতল এলাকা। এই উপজেলার ধোপাছড়িতে রয়েছে পাহাড় আর পাহাড়, অরণ্য আর অরণ্য। এখানের অরণ্যের বিস্তৃতি বান্দরবান জেলায় ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্যেও।

কিন্তু ভূমিদস্যুদের কারণে পাহাড়ের অরণ্যাঞ্চল দিন দিন কমে যাচ্ছে। চন্দনাইশের পূর্বাংশ বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বৃক্ষে আচ্ছাদিত। পাহাড় ও বনজ প্রকৃতি কোন এক সময় এ অঞ্চল জুড়ে ছিল। কিন্তু জনপদ গড়ে ওঠার কারণে ক্রমশ তা উজাড় হয়ে গেছে।

আরাকান মগ শাসনামলে এটি ছিল একটি সামুদ্রিক বন্দর। সেই সময় এখানের মুন্সেফ বাজারে বার্মা এবং মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হতে আস্ বণিকেরা এ অঞ্চলে উৎপাদিত সুদৃশ্য ও সুগন্ধি চন্দনের আঁশের ব্যবসায় করত। আর এই চন্দন কাঠের নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় চন্দনাইশ।

ছিল চন্দনাইশে চন্দন গাছের ছড়াছড়ি, যা কিনা চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে বন উজাড়কারীরা। বন উজাড়কারীদের তৎপরতা আজও থেমে নেই। তাই চন্দনাইশের বনাঞ্চল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন।

চন্দনাইশের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দুধ পুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য; খান দীঘি; বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় লেক ও বিদ্যানগর এলাকা; কাঞ্চনাবাদ চা বাগান ও পেয়ারা বাগান; বরমা বুড়ি কালী মন্দির ও ঠাকুর দীঘি; সাতবাড়িয়া নবরত্ন বিহার; হাজারী দীঘি; সাত বাড়িয়া শান্তি বিহার; বাগিচাহাট কদম রসুল শরীফ; হযরত ভূঁই খাজা জামে মসজিদ; খান জামে মসজিদ ইত্যাদি।

চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণাংশে সর্পিলাকারে বয়ে চলেছে সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী। বরুমতী খাল চন্দনাইশকে করে তুলেছে আরো সৌন্দর্যময়।

চন্দনাইশ চট্টগ্রাম জেলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। একদা চন্দনাইশ ছিল পটিয়া মহকুমার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৭৬ সালে চন্দনাইশে থানা স্থাপিত হয়। ১৯৮৩ সালে চন্দনাইশ উপজেলায় উন্নীত হয়। পৌরসভা দুটি। একটি চন্দনাইশে এবং অপরটি দোহাজারিতে।

ইউনিয়নসমূহ হল-কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা, হারলা, বরকল, বরমা, বৈলতলী, সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, ধোপাছড়ি।

চন্দনাইশ উপজেলার আয়তন ২০১ দশমিক ৯৯ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৭ জন।

চন্দনাইশ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। চট্টগ্রাম থেকে চন্দনাইশের দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার।

চন্দনাইশের পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীসমূহ হল ত্রৈমাসিক আলোকিত দোহাজারি; মাসিক আলোকিত চন্দনাইশ; আজকের চন্দনাইশ; শঙ্খ চিল; দর্পন; সেই দিনের চন্দনাইশ; চন্দনাইশ দর্পণ।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী যাত্রামোহন সেন ও যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। এছাড়া রয়েছেন চিকিৎসক ও জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম; ভাষা সৈনিক ও শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম; কবি ও সাহিত্যিক আহমদ ছফা প্রমুখ।

Share This Post

আরও পড়ুন