মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

ভাল থাকার জন্য মিউজিক থেরাপি: করোনাকালে সুর এনে দেবে সুস্থতা

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ১৫৮ Time View

দেশ, কাল ও পাত্র ভেদে প্রতিটি মানুষের জীবনে গান শোনার শুরু বোধহয় ছোটবেলার সেই ঘুমপাড়ানি গান দিয়ে। মা-দাদীর চেনা এক সুরের গানের সেই ছন্দ যেন ছোট্টবেলা থেকে কানে লেগে থাকে। এরপর সময়ের সাথে সাথে তালিকায় যুক্ত হতে থাকে অসংখ্য গান। কেউ আবার ঝোঁকেন বাদ্যযন্ত্রের দিকে। গানের কথা কখন যেন জুড়ে যায় জীবনবোধের সঙ্গে। শুধুমাত্র বইয়ের বিদ্যা থাকলেই শিক্ষা অর্জন করা যায় না। তার জন্য প্রয়োজন হয় আরো অনেক কিছুর। বাস্তববোধ ও জীবনদর্শনও ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়। আর সেই শিক্ষাই কিন্তু আমাদের দেয় গান। আর এ অতিমারী বিদ্ধস্ত আবহে মিউজিক থেরাপির বিকল্প নেই। করোনা আক্রান্ত হয়ে, না হয়েও, ঘরবন্দি জীবনে মনকে আরাম দেয় সুর। সুস্থ্য রাখে জীবনকেও।

ঘরবন্দি জীবনে মনের আরাম: মিউজিক থেরাপি এখন ভীষণভাবে জনপ্রিয়। মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে স্ট্রেস সর্বত্রই প্রয়োগ রয়েছে মিউজিকের। মার্কিন দুনিয়ায় যেমন সবাই সপ্তাহে ৩২ ঘন্টা গান শুনে কাটান। কাজের ফাঁকে অন্তত ৩০ মিনিট তারা রাখেনই গান শোনার জন্য। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত, গান যেভাবে সমাজে ইতিবাচকতা তৈরি করে, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আর কোনো কিছুই তার ধারপাশ দিয়েও যায় না। যে কারণে একজন ভাল মানুষ গড়ে তুলতেও মিউজিকের যথেষ্ঠ অবদান রয়েছে। যে কারণে ছোট থেকে সংগীত বা কোন যন্ত্র সংগীতের চর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবনে। জীবনে প্রকৃত ভাল মানুষ হয়ে উঠতে অনেকগুলো গুণের প্রয়োজন হয়। আর এক্ষেত্রে গান অনেকভাবে সাহায্য করে।

গান মন ভালো রাখে: ভালো মানুষ হয়ে উঠতে গেলে মন ভাল রাখাও কিন্তু ভীষণ জরুরি। গান আমাদের মন ভাল রাখে। জীবনের যে কোন সময় মন ভাল রাখার একমাত্র ওষুধ হল গান। আর সেই সঙ্গে পজিটিভ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। ভাল মানুষ হতে গেলে উদারমনস্ক হওয়া দরকার।

সহানুভূতি গড়ে তোলে: মানুষ হিসেবে সবার মধ্যেই সহানুভূতি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন যান্ত্রিক জীবনের চাপে সে সবই হারিয়ে যাচ্ছে। নিজের মধ্যে সহানুভূতি না থাকলে অন্যের মন কিন্তু সহজে বোঝা যায় না। গানের কথা, ছন্দ ও সুর সেই সহানুভূতিই আমাদের মধ্যে গড়ে তোলে।

দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে: গানের মাধ্যমে গড়ে ওঠে সামাজিক কর্তব্যবোধ। ভাল মানুষ হতে গেলে দায়িত্ববোধও প্রয়োজন। গান কিন্তু সেই কাজ করে। আমাদের কোথাও গিয়ে এক সাথে বেঁধে রাখে। হাতে হাত রেখে কাজ করার শক্তি দেয়।

ব্যবহারে পরিবর্তন আসে: গান আমাদের ব্যবহারেও পরিবর্তন আনে। করোনাকালের বিধি-নিষেধে বেশিরভাগ সময় জিমনেসিয়াম বন্ধ বা যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত। এ অবস্থায় সকালে উঠে অনেকেই শরীরচর্চা করেন মিউজিক শুনতে শুনতে। আর এতে কিন্তু মন ভাল থাকে। স্নায়ুর চাপ কমে। মাথা ঠান্ডা রাখে, সব দিক থেকে ভাল থাকা যায়।

যোগাযোগ বাড়ায়: যোযাযোগের অন্যতম মাধ্যম কিন্তু হল গান, মিউজিক। গান শোনায় এক একজনের পছন্দ এক এক রকম। কিন্তু তাও কোথাও একটা যোগ থাকে। প্রেমের শুরু বন্ধুত্বের শুরু হয় এ গান দিয়েই। শুধু তাই নয় এ গান অথবা যে কোন ধরনের মিউজিক, তা সে যে দেশের সৃষ্টি হোক না কেন, ছুঁয়ে দেয় সহস্র মাইল দূরের কোন মনকে। আর সেভাবেও শারীরিক বা সামাজিক দূরত্বের এ সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে মিউজিক।

বিদেশী ওয়েবসাইট অবলম্বনে

Share This Post

আরও পড়ুন