সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

বয়সে ছোট এবং একদম একা বলে অনেকেই অনেক কথা বলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৬৭ Time View

প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ উদীয়মান আবৃত্তি শিল্পী ঐশী পাল। করোনা মহামারীতেও ডিজিটাল ফ্ল্যাটফর্মে আবৃত্তি চর্চায় তার ব্যস্ত সময় কাটছে। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের মাধ্যমে তার সাংগঠনিক আবৃত্তি চর্চার সূত্রপাত হয়। বছর খানেক আগে ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল ছেড়ে নিজেই গড়েছেন ‘আবৃত্তি আলয় বৈখরী’ নামের সংগঠন। ক্ষুদে আবৃত্তি শিল্পী থেকে সংগঠক বনে যাওয়া ঐশী পালের মুখোমুখী ‘পরম বাংলাদেশ’।

পরম বাংলাদেশ: বর্তমান পরিস্থিতিতে কেমন চলছে আপনার আবৃত্তি চর্চা?

ঐশী পাল: যেহেতু করোনাক্রান্তিকাল চলছে, তাই এখন মঞ্চে পরিবেশনা প্রায়ই বন্ধ। করোনার সময়টাতে নতুন কিছু কবিদের কবিতা নিয়ে কাজ করছি। অনেক কবিদেরই সুপ্ত ইচ্ছে থাকে, তাদের কবিতা কন্ঠে ধারণ করবার। ওই ইচ্ছেটাকেই কাজে লাগিয়ে চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করছি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের অনলাইন আয়োজনে অংশগ্রহণ করছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছু আমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারি নি। আবৃত্তি আমন্ত্রণ ছাড়াও লাইভের আমন্ত্রণে কিছু অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছি।বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বেশ কিছু আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। নতুন নতুন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ফলে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে।

পরম বাংলাদেশ: আবৃত্তি চর্চার পাশা-পাশি আর কি কি কাজ করছেন?

ঐশী পাল: বই পড়ছি, টুকটাক আর্ট করি, গাছের পরিচর্যা, গীতা পাঠ, রান্না করা, নিজের পড়ালেখা, হারমোনিয়ামে রেওয়াজ, গান করা, উপন্যাসভিত্তিক রচিত সিনেমা দেখা। এছাড়াও বিভিন্ন কাজ করে সময় কাটাচ্ছি।

পরম বাংলাদেশ: আপনার আবৃত্তি চর্চার শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

ঐশী পাল: আবৃত্তি বুঝতে শিখেছি চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির ফারুক তাহের স্যারের শিক্ষায়। এর পর ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলে যুক্ত ছিলাম স্বল্প সময়।

পরম বাংলাদেশ: ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল‘ ছাড়লেন কেনো?

ঐশী পাল: স্বাধীনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এছাড়া সততার সাথে একজন দক্ষ সংগঠক ও আদর্শ শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

পরম বাংলাদেশ: এখন তো আপনি নিজেই আবৃত্তি শিল্পের সংগঠক। কেমন লাগছে?

ঐশী পাল: খুব উপভোগ করছি, অভিজ্ঞতা বাড়ছে। নতুন নতুন গুণী মানুষের সাথে পরিচিয় হচ্ছে। সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ছে। নিজের উপর ভরসা সৃষ্টি হচ্ছে।

পরম বাংলাদেশ: বৈখরী প্রতিষ্ঠার শুরুটা কিভাবে হলো?

ঐশী পাল: প্রথমেই বলেছি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।আবৃত্তি শিখতে অনেকেই আমাদের বাসায় আসতো। সেই ঘরোয়া চর্চা থেকে এবং ছোট-বড় অনেক ভাই-বোনদের আগ্রহ দেখে আবৃত্তি চর্চা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। অনেকেই এর মধ্যে সংযুক্ত হয়েছে। সবার আগ্রহ এবং চর্চায় ভালোবাসায় রূপ নেয় বৈখরী।

পরম বাংলাদেশ: কেমন চলছে বৈখরীর কার্যক্রম?

ঐশী পাল: কিছু দিন আগেই বৈখরীর বয়স এক বছর পূরণ হলো। এই এক বছরে তিনটি অনুষ্ঠান আমরা আয়োজন করেছি। প্রথমে ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বৈখরীর যাত্রা শুরু। এর পর করোনার আগে স্বাধীনতা মাসের প্রথম দিনই চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করেছিলাম মুক্তির সোপান এবং তৃতীয় অনুষ্ঠান নিবেদন করেছিলাম জাতির পিতাকে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলো বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুণী শিল্পীরা। জাতির পিতাকে নিবেদিত এই আয়োজনটি ছিল ভিন্ন রকম। প্রতিটি শিল্পীর পরিবেশনা ছিলো অন্ধকার রুমের মোমের আলোয় কবিতার ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ।অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে আমরা অনেক গুণীজনের সান্নিধ্য পেয়েছি। এই জন্য আমরা সব সময় তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। ‘আবৃত্তি আলয় বৈখরী’র ‘যাত্রাশুরু’ আয়োজনে উদ্বোধক ছিলেন খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক ও একুশ পদক প্রাপ্ত গুণীজন হরিশংকর জলদাস। এছাড়া মও অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে পেয়েছিলাম আলেক্স আলীম মহোদয় (শিক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড), সুশান্ত পাল (উপ শুল্ক কর্মকর্তা, প্রথম স্থান অধিকারী, ৩০ তম বিসিএস), আবৃত্তিজন অঞ্চল চৌধুরী (সভাপতি, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট), জিন্নাহ চৌধুরী (কবি ও শিশু সাহিত্যিক), সাইফুল ইসলাম বাবু (সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম), ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া (সভাপতি, তারুণ্যের উছ্বাস), আবৃত্তি শিল্পী নাজমুল আহসান, আবৃত্তিশিল্পী ও কবি ফারজানা করিম। এছাড়াও অনেক গুণীজন পেয়েছি বৈখরীর কার্যক্রমে। ভবিষ্যতেও পাবো এই আশা ব্যক্ত করছি।

পরম বাংলাদেশ: সংগঠন পরিচালনায় কারো সহযোগিতা পেয়েছিলেন কি?

ঐশী পাল: অবশ্যই পেয়েছি। সব সময় বৈখরীর সদস্যরা এগিয়ে আসে সব কাজে। এছাড়াও কাকা এডভোকেট প্রতাপ পাল বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন এবং অনুপ্রেরণা দেন। আর যাদের সহযোগিতা ছাড়া কখনোই বৈখরী হতো না তারা হলেন মুজাহিদ ভাইয়া। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, আমাদের চট্টগ্রামের গর্ব। সংগঠক হিসেবে মুজাহিদ ভাইয়ার থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ফারুক তাহের স্যার (আমার আবৃত্তি গুরু), শ্রদ্ধেয় অঞ্চল দাদা, অনির্বাণ চৌধুরী। এছাড়া সব বন্ধু সংগঠনই খুব সাহায্য করে। নেপথ্যেও অনেকে সাহায্য করে বলেই কাজ করার সাহস পেয়েছি।

পরম বাংলাদেশ: সংগঠন পরিচালনায় কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন?

ঐশী পাল: বয়সে ছোট এবং একদম একা বলেই অনেকেই অনেক কথা বলে। সমাজের সবাই তো এক রকম না। কারো নজরে ভালো তো কারো নজরে খারাপ। তবুও কারো কথা শুনে পিছনে ফিরে তাকাই না। সামনের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাই। শিল্পী হওয়ার চেয়েও সংগঠক হয়ে দল প্রতিষ্ঠিত করা খুবই কঠিন। যারা আমায় বলে খুব পাকামি করছিস এই সব দল করে।এত্তো ছোট্ট বয়সে দল করো নাকি ঢং করো।।আমি তাদের একটাই কথা বলি,পাকামি করছি সৎ উদ্দেশ্যে কোনো খারাপ কিছু করে পাকামি করছি না। ইচ্ছে যদি সৎ হয় এই রকম পাকামো আমি করবোই। জানি না ঠিক কতদূর এগিয়ে যাবো। কিন্তু লক্ষ্য স্থির রেখে চেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে সবার ভালোবাসা সাথে নিয়ে আদর্শের সাথে সব বাধা অতিক্রম করতে চাই।

পরম বাংলাদেশ: এ সব চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করছেন?

ঐশী পাল: বেঁচে থাকাই হলো চ্যালেঞ্জ। নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা রাখি সব সময়।

পরম বাংলাদেশ: আবৃত্তি চর্চায় আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ঐশী পাল: নিজস্ব সৃষ্টি এবং ভাবনার মধ্য দিয়ে নিজেকে আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে সংস্কৃকি অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। শুধু আবৃত্তি নয় সংবাদ পাঠিকা এবং উপস্থাপিকা হিসেবে পেশাদার শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়তে চাই। নেশাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে আছে।

পরম বাংলাদেশ: এ শিল্পে নিজেকে কোন্ অবস্থানে দেখতে চান?

ঐশী পাল: সাফল্যের উচ্চ শিখরে নিজেকে সবাই দেখতে চায়। আমিও ঠিক তেমনই দেখতে চাই। সব মানুষের হৃদয়ের মধ্যে যেনো আমার আবৃত্তি ছুয়ে যেতে পারে।

পরম বাংলাদেশ: আবৃত্তি শিল্পের প্রসারে আপনার কোনো সুপারিশ আছে কি?

ঐশী পাল: দেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক হিসেবে বাচিক শিল্পীদের নিয়োগ দেয়া উচিত। এতে করে প্রমিত ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণসহ শিল্পীদের পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বৃদ্ধি পাবে।

Share This Post

আরও পড়ুন