বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন

বিশ্বাসের নৌকা যাকে-তাকে তুলে দেয়া যায় না

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৪৩ Time View

যানজটের শহরে সময় মতোন সবকিছু হয় না। সে ক্ষেত্রে অযুহাত বলে দায়িত্বকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই। দায়িত্ব পালন করতে রক্তের সম্পর্ক লাগে না। নিঃস্বার্থভাবে একে অপরকে আপন করে নিলে হয়। মানুষ যখন মানুষের আপন হয়ে ওঠে, তখন সে নানান রকম বায়না ধরে বসে, আশ্রয় চায়। এই আশ্রয় করুণার নয়, এই আশ্রয় বিশ্বাসের। মানুষ বিশ্বাস করে যখন কারও কাছে কিছু চায়, তখন তাকে ফিরিয়ে দিতে নেই। প্রকৃতির নিয়মে আপন করে নিতে হয়। দুর্বল ভেবে সুযোগ নিতে নেই।

যখন মানুষ অধিকার নিয়ে কিছু বলে ফেলে, তখন দায়িত্ববোধের পাল্লাটা ভারী হয়। মানুষকে গুরুত্ব দিতে শেখা মানুষগুলোকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে নেই। তাতে সৃষ্টিকর্তাও কষ্ট পান। কারণ, মানুষের ভেতরে সৃষ্টিকর্তা বিরাজ করেন। মানুষ যেহেতু অদ্ভূত, অদ্ভুত তাঁর চাওয়া পাওয়াও। চাওয়া-পাওয়া পবিত্র জিনিস। কে কার কাছে কি চেয়ে বসে, সে নিজেও জানে না। সে জন্য সব সময় সতর্কতার সাথে ভাবা উচিত। ভাবা উচিত, যাতে অন্যের চাওয়া পাওয়াকে কিভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া যায়।

মানুষ ভরসা চায়, আপন মানুষের কাছে। সঠিক মানুষের কাছে, সে তার জীবনের কথা বলার সুযোগ খুঁজে। কেউ পায়, কেউ পায় না। কথায় আছে, পেটে ক্ষিধা থাকলে অখাদ্যও সুস্বাদু খাদ্য হয়ে যায়। স্বাদ হয়েছে বলে মিছে সুনাম করাটা ভণ্ডামী। সমস্যা হচ্ছে, আমরা ক্ষুধাটা অনুভব করতে পারি না। ক্ষুধা অনুভব না করে, স্বাদের পিছনে দৌঁড়ায় বলে আমরা সঠিক মানুষের সন্ধান পাই না।

যতদিন বেঁচে থাকব, সঠিক মানুষের খোঁজ, আমাদের করতে হবে। তারপর জীবনের কথা, অকপটে বলা সম্ভব, তা না হলে জীবনটা অন্ধাকারে কালো বিড়াল হাতড়ানোর মতোন। বিশ্বাসের নৌকা, যাকে-তাকে তুলে দেয়া যায় না। মানুষকে বুঝার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, যাঁরা আগ-পিছ না ভেবে দায়িত্ব দিয়ে দেন, তারা দিনশেষে ঠকেন। ভাবতে হবে, গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবতে হবে।

চারপাশটা বড়ই পিচ্ছিল। মুখোশ বুঝা বড় দায়। মানুষের ভিতরে মানুষও মাঝে-মাঝে হিংস্র প্রাণী হয়ে উঠে। উপরটা ঠিক থাকলেও ভেতরে সব নোংরামি। একটু আপন ভাবতে দেখলে, সে কাছে যাওয়ার সুযোগ খুঁজে। অন্যভাবে ভাবে। ভাবনাটা সম্পূর্ণই কুৎসিত। চলমান জীবনে অনেক প্রাণের সাথে মিশতে হয়। মিশে বুঝে নিতে হয়, সম্পর্কে কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ।

সম্পর্কে আবেগ থাকলে, কষ্ট পেতে হয়। আবেগের কাছে প্রাণের সম্পর্ক, হাস্য উদ্দীপক শব্দ।

মনে রাখবেন, আবেগে প্রাণ নেই, আছে মানুষ ঠকানোর রসদ। পৃথিবীটা টিকে আছে কিছু সুষ্ঠু সম্পর্কের কারণে। যারা আবেগ নিয়ে খেলা করে, তারা দিনশেষে হয় ঠকে; নয় ঝরে পড়ে।

মনে রাখতে হবে, দায়িত্ব আবেগ দিয়ে নয়, সিরিয়াসলি পালন করতে হয়। সিরিয়াসলি পালন করতে হয় বলে, রক্তের সম্পর্ক সেখানে মামুলি বিষয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিদ্যালয়

Share This Post

আরও পড়ুন