মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

বিদেশগামীদের করোনা টিকা প্রাপ্তিতে বিড়ম্বনার দ্রুত নিরসন চাই

কাজী কামরুল হাসান শামীম
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১
  • ৭৪ Time View

কাজী কামরুল হাসান শামীম: দেশে আটকা পড়া রেমিটেন্স যোদ্ধাদের টিকা প্রাপ্তি ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। গত ১ জুলাই জনশক্তি, কর্মসংস্হান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ঢাকা বিভাগের জন্য টিকা প্রাপ্তিতা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যে প্রজ্ঞাপনটা কেবলমাত্র ঢাকা বিভাগের জন্য প্রযোজ্য ছিল। পরবর্তী প্রায় জেলা ভিত্তিক ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ঘোষনার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সব বিদেশগামীদের বিএমইটির স্মার্ট কার্ড আছে, তারা স্মার্ট কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে। আর যাদের স্মার্ট কার্ড নাই, তাদেরকে আপাতত পার্সপোর্ট নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্হান অফিস, বিএমইটি এবং আমি প্রবাসী এ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। টিকা প্রাপ্তির লক্ষ্য সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রশন করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

টিকা প্রাপ্তির জন্য প্রথমে নিবন্ধন করতে হচ্ছে, তারপর সুরক্ষা এ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রশন করতে হচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে দিয়ে বার বার রেজিষ্ট্রশন ‘ফেইলড’ শো করছে। অনেকে বার বার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন ‘সাকসেসফুল’ নোটিফিকেশন পাচ্ছে না। অন্য দিকে, সার্ভার দূবর্লতা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পডেছে বিদেশগামীরা। আবার বিএমইটির স্মার্ট কার্ড যাদের নাই, তারাও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। যদিও বা স্মার্ট কার্ড না থাকলেও পার্সপোট নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। আবার যারা রেজিস্ট্রেশন করতে সক্ষম হয়েছে, তাদের টিকা গ্রহণের তারিখ নিয়েও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহামারীর এ সময়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও কিন্তু ক্রান্তিকাল পার করছে। ধীরে ধীরে ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে করোনার চিত্র। দৈনিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান ও নিহতের সংখ্যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। বর্তমানে করোনার আক্রান্তের যে উদ্র্ধগতি, তা যদি রোধ করা না যায়, তবে তীব্র অক্সিজেন সংকটসহ চিকিৎসা সংকটে পড়বে বাংলাদেশ। অক্সিজেন ও চিকিৎসা সংকট কিন্তু বর্তমানেও দৃশ্যমান।

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের জন্য যে সব দেশে এখনো শ্রম বাজার খোলা রয়েছে, সে সব দেশগুলা গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশের করোনার বিস্তার ইস্যুকে। মধ্য প্রাচ্যের অনেক দেশ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন ভিসা বন্ধ করেছে এবং ফ্লাইট বাতিল করেছে। তাদের দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে করোনার ব্ল্যাক লিস্টে রেখেছে বাংলাদেশকে। যে সব দেশ জরুরীভাবে নতুন এন্টিতে কঠোরতা বা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা প্রত্যাহারের সময়সীমা কিন্তু নির্ধারণ হবে কেবলমাত্র বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি রোধ ও টিকা প্রদান কার্যকরের উপর। বর্তমানে যে সব প্রবাসী ছুটিকালীন দেশে অবস্হান করছে, তাদের অনেকেরই ছুটি শেষ হয়েছে এবং ছয় মাসের ভিতর এন্টির যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেই সময়টাও অনেকের শেষ পর্যায়ে। যদি ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে অটোমেটিকলি ভিসা ক্যানসেল হয়ে যাবে। তখন চরম সংকটে পডবে দেশে অবস্থান করা প্রবাসীরা।

হয়তো বিশেষ বিবেচনায় কেউ কেউ এন্টির সুযোগ পাবে। তবে বেশীরভাগ প্রবাসী কর্মক্ষেত্রের দেশে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ সব দেশের লেবার ল কিন্তু সমান নয়। তাই অতি দ্রুত বিদেশগামীদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। দুইটা টিকা নেয়া থাকলে অন্তত ছয় মাস পার হওয়ার পরও বিশেষ বিবেচনায় এন্টির সুযোগ হয়তোবা থাকতে পারে। নচেৎ না। টিকা গ্রহণ ছাড়া কোন অবস্থাতেই ভিসার টাইম থাকার পরও বেশীরভাগ দেশে বর্তমানে প্রবেশের সুযোগ নাই। ইতিমধ্যে কিন্তু বিভিন্ন দেশ তাদের সিলেক্টকৃত টিকা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে। তাই এ বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে বিদেশগামীদের নতুবা কোয়ারেন্টনসহ বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে। তাই সব বিষয় মাথায় রেখে প্রবাসীদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে টিকা প্রদানে আন্তরিক হতে হবে সংশ্লিষ্ট মহলকে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশে আটকা পড়া প্রবাসীদের টিকা প্রাপ্তিতা নিয়ে যদি সময়ক্ষেপণ দীর্ঘ হয়, তবে সে ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে প্রবাসীদের ভবিষ্যত সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করতে হবে। টিকা ইস্যুতে প্রবাসীরা আটকে যাওয়া বিশাল পরিমাণ রেমিটেন্স আটকে যাওযার সমান। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও দেশপ্রেমিক প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে পাঠানো রেমিটেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখার জন্য রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রাখতে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতি। মহামারী করোনার এ সময়ে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার এবং সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে বিদেশগামীদের টিকা প্রাপ্তিতা দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।

লেখক: সংগঠক, কলামিস্ট, মজলিস-এ-শুরা সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

Share This Post

আরও পড়ুন